চট্টগ্রামে পুলিশের সাথে সংঘর্ষ আহত শতাধিক

আপডেট : ০৫ জানুয়ারি ২০১৫, ২০:৪৫
 
চট্টগ্রামে ২০ দলীয় জোটের সমাবেশকে কেন্দ্র করে বিএনপি-জামায়াত সমর্থকদের সাথে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষ ও গুলি বর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার বিকাল ৪টার কিছু সময় আগে নগরীর কাজীর দেউড়ি মোড়ে ২০ দলীয় জোট কর্মীদের সাথে পুলিশের বাকবিতণ্ডর জের ধরে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
প্রায় ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে লাভলেন থেকে কাজীর দেউড়ি হয়ে আলমাস মোড় পর্যন্ত এক কিলোমিটার এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। সংঘর্ষে ২ পুলিশ, দলীয় নেতাকর্মী ও পথচারীসহ শতাধিক আহত এবং একটি পিকআপ ভস্মীভূত হয়। সংঘর্ষের সময় আতঙ্কিত লোকজন এদিক সেদিক ছোটাছুটি করতে থাকে।
ব্যবসায়ীরা দ্রুত তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেন। সংঘর্ষ ও ভাংচুরে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ ঘটনাস্থল মহানগর বিএনপি কার্যালয় নাসিমন ভবন ও আশেপাশের এলাকা থেকে শতাধিক ব্যক্তিকে আটক করে। পুলিশের অভিযানের সময় নাসিমন ভবনের তিনতলা থেকে লাফিয়ে পড়ে এক যুবক গুরুতর আহত হয়েছে। তাকে চমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
গণতন্ত্র হত্যা দিবস উপলক্ষে সোমবার বিকালে নগর বিএনপির কার্যালয় নাসিমন ভবনের সামনের সড়কে সমাবেশ আহ্বান করে ২০ দলীয় জোট।
এ উপলক্ষে পুরাতন বিমান অফিসের সামনে ট্রাকের ওপর মঞ্চ নির্মাণ করা হয়। সমাবেশে যোগ দিতে দুপুরের পর থেকে লোকজন কালো পতাকা নিয়ে বিএনপি অফিসের দিকে আসতে শুরু করে।
বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে জামায়াত শিবিরের তিনটি মিছিল পরপর আসার পর সমাবেশ বিশাল আকার ধারণ করে। এসময় নাসিমন ভবন থেকে কাজীর দেউড়ি মোড় পর্যন্ত জনাকীর্ণ হয়ে যায়। বিকাল পৌনে চারটার দিকে কয়েকজন জামায়াত বিএনপি কর্মীকে কালো কাপড়ে ‘গণতন্ত্র’ লেখা একটি কফিন কাঁধে নিয়ে সমাবেশ স্থল প্রদক্ষিণ করতে দেখা যায়। কফিনটি নিয়ে তারা কাজীর দেউড়ি মোড়ে অবস্থান নিতে চাইলে পুলিশ বাধা দেয়।
এসময় পুলিশের সাথে তাদের বচসা হয়। বাকবিতন্ডার এক পর্যায়ে দুর্বৃত্তরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ককটেল নিক্ষেপ করলে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। পুলিশ প্রথমে টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে উচ্ছৃঙ্খল জনতাকে ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে। তবে সংঘর্ষ ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়ার পর পুলিশ এলোপাতাড়ি গুলি বর্ষণ শুরু করে। আলমাস মোড় থেকে লাভ লেন পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার এলাকা জুড়ে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। এসময় দলীয় কর্মীরা রাস্তায় আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করে। আউটার স্টেডিয়ামের পাশের ফুটপাতে রাখার একটি পিকআপ ভ্যানে অগ্নিসংযোগ করা হয়।
বিকাল ৪টার কিছু পরে পুলিশের একটি সাঁজোয়া যানকে গুলিবর্ষণ করতে করতে নাসিমন ভবনের সমাবেশস্থলে আসতে দেখা যায়। এসময় মহানগর বিএনপির সভাপতি আমীর খসরু মাহমুদ মঞ্চে দাঁড়িয়ে সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানালেও মুহুর্তের মধ্যেই সমাবেশস্থল ফাঁকা হয়ে যায়। ২০ দলীয় জোট নেতারা ট্রাকের ওপর নির্মিত মঞ্চে বসে পড়ে আত্মরক্ষা করেন।
এদিকে ২০ দলীয় জোটের সমাবেশকে কেন্দ্র করে গতকাল সকাল থেকে নগরীর পরিস্থিতি ছিল থমথমে। সড়কে যান চলাচল ছিল স্বাভাবিকের তুলনায় কম। সম্ভাব্য নাশকতা মোকাবেলায় নগরীর নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট বসিয়ে যানবাহন তল্লাশি করা হয়। বিএনপি নেতারা অভিযোগ করেন সমাবেশের অনুমতি দিলেও পুলিশ নগরীর বিভিন্ন স্থান থেকে সমাবেশে আসা লোকজনকে বাধা দিয়েছে। শহরের বাইরে থেকে বাস, ট্রাকে করে আসা বিএনপি জামায়াত কর্মীরা শহরে প্রবেশ করতে গিয়ে পুলিশের হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন।