জামায়াত নিষিদ্ধে আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায়ে ওয়াশিংটনে সমাবেশ

আপডেট : ০৭ জানুয়ারি ২০১৫, ১৩:৩৬
 
যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এবং জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধে আন্তর্জাতিক মহলের সমর্থন আদায়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে হোয়াইট হাউজ এবং মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের সামনে পৃথক সমাবেশ করেছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের ব্যানারে অনুষ্ঠিত সমাবেশে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহর থেকে প্রবাসী বাংলাদেশিরা অংশ নেন। 
এদিকে প্রবাসী বাংলাদেশিদের এই সমাবেশকে ঘিরে ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. জিয়াউদ্দিনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের বেশকয়েকজন নেতার উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হলে বিপুলসংখ্যক সিক্রেট সার্ভিস ও ডিপ্লোম্যাট পুলিশ সেখানে অবস্থান নেন। পরে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমানের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়। 
পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী নিউইয়র্ক, নিউজার্সি, কানেকটিকাট, ম্যাসাচুসেটস, মিশিগান, ভার্জিনিয়া ও মেরিল্যান্ডসহ বিভিন্ন রাজ্য থেকে আওয়ামী লীগ সমর্থিত এবং মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের প্রবাসী বাংলাদেশিরা দুপুর একটার দিকে ওয়াশিংটন ডিসির মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের সামনে জড়ো হন। এসময় তারা জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধ এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের সমর্থনে নানান স্লোগান দেন। এসময় সেখানে বক্তব্য দেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদ ও যুগ্ম সম্পাদক নিজাম চৌধুরী প্রমুখ। 
এখানে সমাবেশ শেষে প্রবাসীরা পায়ে হেঁটে হোয়াইট হাউজের সামনে যান। সেখানে আট শতাধিক বাংলাদেশি জড়ো হন। তারা জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধ এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের সমর্থনে স্লোগান দেন এবং এর সমর্থনে লেখা ব্যানার, প্ল্যাকার্ড ও ফেস্টুন তুলে ধরেন। সেখানে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদ, যুগ্ম-সম্পাদক নিজাম চৌধুরী, আব্দুর রহিম বাদশা, ওয়াশিংটন মেট্রো আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহজাহান মাহমুদ প্রমুখ। 
সমাবেশ শেষে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট বরাবরে একটি প্রতীকী স্মারকলিপি পেশ করেন। এর আগে স্মারকলিপিটি ই-মেইলে হোয়াইট হাউজের সংশ্লিষ্ট বিভাগে পাঠানো হয়। 
যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান সমাবেশ সফল হওয়ায় দলের নেতাকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এসময় তিনি বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে একসঙ্গে আটশ বাংলাদেশির জমায়েত একটি নজিরবিহীন ঘটনা। 
এদিকে হোয়াইট হাউজের সামনে সমাবেশ শেষ করে অদূরে বাংলাদেশ দূতাবাসে যান প্রবাসীরা। কিন্তু আগে থেকে দূতাবাসের মূল ফটক বন্ধ করে চৌহদ্দীর মধ্যে ও বাইরে পুলিশ মোতায়েন করে দূতাবাস কর্তৃপক্ষ। দূতাবাসের ভেতরে যেতে চাইলে পুলিশ যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ নেতাদের বাধা দিলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
এসময় ভেতর থেকে দূতাবাসের সামরিক উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামস এসে পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করলে তাতে সন্তুষ্ট হতে পারেননি। পরে রাষ্ট্রদূত এম জিয়াউদ্দিন প্রধান ফটকে এসে শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন নেতাকে ভেতরে যাওয়ার আমন্ত্রণ জানান এবং বলেন, নিরাপত্তাজনিত কারণে ডিপ্লোম্যাটিক জোনের পুলিশ এ ধরণের ব্যবস্থা নিয়েছে।
এসময় যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতার সঙ্গে রাষ্ট্রদূতের উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়। এসময় যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান পরিস্থিতি সামাল দেন। এরপর কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় নেতাকে নিয়ে দূতাবাসের ভেতরে গিয়ে রাষ্ট্রদূতের কাছে জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধ এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের সমর্থনে প্রধানমন্ত্রী বরাবরে একটি স্মারকলিপি দেন। রাষ্ট্রদূত স্মারকলিপিটি গ্রহণ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দেন। অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় উভয়পক্ষই দুঃখ প্রকাশ করেন।