খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান মিল্লাত, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এম.এন আবছার, মাটিরাঙ্গা উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান মো. তাজুল ইসলাম, রামগড় উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান শহীদুল ইসলাম ভূইয়া ফরহাদসহ বিএনপি ও অংগ সহযোগী সংগঠনের ৬৮ জন নেতাকর্মীর নাম উল্ল্যেখসহ ২২০-২৩০ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। সোমবার রাতে খাগড়াছড়ি সদর থানার উপ-পরিদর্শক আবদুল্লাহ আল-মোমেন বাদী হয়ে পুলিশের কাজে বাধা প্রদান, ভাংচুর ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলাটি দায়ের করেছেন বলে জানান খাগড়াছড়ি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান।
মামলা দায়েরের পর সোমবার গভীর রাতে জেলা মৎসজীবী দলের সভাপতি মো. জয়নাল আবেদীনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে এক বিবৃতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপি’র সভাপতি, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান ও সাবেক সাংসদ ওয়াদুদ ভূইয়া। তিনি অভিযোগ করেন, ৫-ই জানুয়ারি জেলা বিএনপি’র শান্তিপূর্ণ কালোপতাকা মিছিলে আওয়ামী লীগ ও পুলিশ হামলা চালিয়েছে, ভাংচুর করেছে দলীয় কার্যালয়। পুলিশের ছোড়া রাবার বুলেট ও টিয়ারশেলে আমাদের নেতাকর্মীরা আহত হলেও উল্টো বিএনপি নেতাকর্মীদের মিথ্যা মামলা দেয়া হয়েছে। এছাড়াও সোমবার রাতে জেলা সদরের হরিনাথ পাড়া, আদর্শ পাড়াসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় বিএনপি নেতাকর্মীদের বাড়িঘরে চিহ্নিত আওয়ামী সন্ত্রাসীদের নেতৃত্বে হামলা ও ভাংচুর চালানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
প্রসঙ্গত, ৫-ই জানুয়ারি জেলা শহরে বিএনপি নেতাকর্মীরা কালোপতাকা মিছিল বের করলে তাতে হামলা চালায় আওয়ামী লীগ কর্মীরা। এসময় দু-পক্ষের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ বাঁধে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ৪০ রাউন্ড গুলি ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এসময় এক পুলিশ সদস্য, তিনজন সাংবাদিকসহ উভয়পক্ষের কমপক্ষে ৩৫ জন নেতাকর্মী আহত হয়।
এদিকে শান্তিপূর্ণভাবেই চলছে বিএনপির ডাকা অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ। অবরোধের কারণে দূরপাল্লা ও অভ্যন্তরীণ সড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। নাশকতার আশংকায় জোড়দার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
