রাজশাহীতে আবারো পুলিশের গাড়িতে হামলা চালিয়ে বন্দুক কেড়ে নিয়ে চার পুলিশ সদস্যকে ইট দিয়ে পিটিয়ে জখম করেছে শিবিরের ক্যাডাররা। মঙ্গলবার হরতাল ও অবরোধ চলাকালে নগরীর সপুরার আলিফ লামমিম ভাটার সামনের রাজশাহী-নওগাঁ মহাসড়কের উপর এই হামলা ঘটে।
একইভাবে এর আগে ২০১২ সালের ৬ নভেম্বর নগরীর সাহেব বাজারে দুই কনস্টেবলকে এবং ১ এপ্রিল শালবাগান এলাকায় পুলিশের এস.আই জাহাঙ্গীর আলমকে ইট দিয়ে মাথা থেতলে দিয়েছিল শিবির ক্যাডাররা।
মঙ্গলবারের হামলায় আহত পুলিশের সদস্যরা হলেন নগরীর শাহ্ মখদুম থানার উপ-পরিদর্শক (এস.আই) জাহাঙ্গীর হোসেন, কনস্টেবল শফিকুল ইসলাম, আমজাদ হোসেন ও জামাল উদ্দিন। তাদের মধ্যে কনস্টেবল শফিকুল ও আমজাদের অবস্থা গুরুতর। তাদেরকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। জাহাঙ্গীর ও জামাল উদ্দিনকেপ্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
IMG0
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা রাজশাহী-নওগাঁ মহাসড়কের সপুরা এলাকায় আলিফ লাম মিম ইটভাটার পাশে রাস্তায় আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করে। খবর পেয়ে নগরীর শাহ্ মখদুম থানার টহল পুলিশের একটি ভ্যান সেদিকে যাচ্ছিল। অবরোধ দেখে পুলিশ গাড়ি ঘুরিয়ে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু তার আগেই ছাত্রশিবিরের একদল ক্যাডার পুলিশ ভ্যানটি চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে ও ভাংচুর শুরু করে।
এ সময় কনস্টেবল শফিকুল ইসলাম ও আমজাদ হোসেন গাড়ি থেকে নামার সঙ্গে সঙ্গে শিবির ক্যাডাররা তাঁদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। তাঁরা শফিকুল ইসলামের বন্দুক কেড়ে নিয়ে তাঁকে পিটিয়ে রাস্তার ধারে ফেলে দেয়। একইভাবে তাঁরা আমজাদ হোসেনকেও পেটায়। এ সময় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) একটি টহল দল খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে শিবির ক্যাডারদের ধাওয়া করে। পালিয়ে যাবার সময় কিছু দূরে শিবির ক্যাডাররা পুলিশের কাছ থেকে কেড়ে নেয়া বন্দুক ফেলে দিয়ে পালিয়ে যায়।
মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী কমিশনার ইফতে খায়ের আলম জানান, ছাত্রশিবিরের ক্যাডাররা রাস্তায় পেট্রোল ঢেলে আগুন দিয়ে অবরোধ করেছে এরকম খবর পেয়ে পুলিশের ওই টহল ভ্যানটি ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের প্রতিরোধ করার চেষ্টা করে। এসময় শিবির ক্যাডাররা পুলিশ ভ্যানে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে দুই কনস্টেবল আহত হন। তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আহতরা আশঙ্কামুক্ত। হামলায় জড়িতদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
প্রসঙ্গত, এরআগে ২০১২ সালের ৬ নভেম্বর নগরের সাহেব বাজার এলাকায় দুই কনস্টেবলের নিকট থেকে বন্দুক কেড়ে নিয়ে শিবির ক্যাডাররা ওই বন্দুক দিয়ে দুই কনস্টেবলকে পিটিয়ে বন্দুক ভেঙ্গে ফেলে। এরপর ২০১৩ সালের ১ এপ্রিল নগরীর শালবাগান এলাকায় আগ্নেয়াস্ত্র কেড়ে নিয়ে পুলিশের এস আই জাহাঙ্গীর হোসেনকে পিটি দিয়ে মাথা থেতলে দিয়েছিল শিবির ক্যাডাররা।
