আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও এলজিআরডি মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন, স্বৈরাচাররা আজ আমাদের গণতন্ত্র শেখাচ্ছেন! এদেশে
গণতন্ত্র কখনোই ছিল না। আইয়ুব-ইয়াহিয়া-জিয়া-এরশাদ সকলেই স্বৈরাচার।
যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের উদ্যোগে ৫ জানুয়ারি গণতন্ত্রের বিজয় দিবস উপলক্ষে পূর্ব লন্ডনে অ্যাট্রিয়াম হলে আয়োজিত এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।
সৈয়দ আশরাফ বলেন, খালেদা-রওশনের জামাইরা ক্ষমতা দখল করে স্বৈরশাসন কায়েম করেছিল। জননেত্রী শেখ হাসিনার জামাই এটা করেনি। তাই তিনি গণতন্ত্র রক্ষা করছেন।
তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধুর হত্যার সাথে জড়িত। তিনি প্রশ্ন করে বলেন, জিয়ার ‘হ্যাঁ-না’ ভোট কি গণতন্ত্র ছিল? এই পাতানো ভোট দিয়ে গণতন্ত্রকে তিনি হরণ করেছিলেন। এসময়ে সাধারণ মানুষের কোন ভোটের অধিকার ছিল না। পাকিস্তান-বাংলাদেশের ইতিহাস স্বৈরাচারের ইতিহাস। এই স্বৈরাচাররাই আজ আমাদের গণতন্ত্র শেখাচ্ছে। তিনি বলেন, এই হলটিতে তার ছেলে (তারেক রহমান) এসে নাপাক করেছে। এখানে আতর গোলাপ জল আর ধুপকাঠি জ্বালিয়ে ধুয়ে মুছে পবিত্র করা উচিৎ ছিল। বঙ্গবন্ধুকে কটাক্ষ করেছে। আমরা অশ্লিল কথা-বার্তায় অভ্যস্ত নই। তাই এই হলটির পবিত্রতার জন্য মিলাদ দেয়া জরুরি ছিল।
তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু দেশকে স্বাধীন করেছিলেন। তার প্রতিশোধ নিতেই পরাজিত শক্তি তাকে স্বপরিবারে হত্যা করে প্রতিশোধ নিয়েছে। এমনকি ছোট্ট শিশু রাসেলকেও হত্যা করা হয়। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, শেখ হাসিনা অল্পদিনের মধ্যেই মধ্য আয়ের দেশ উপহার দেবেন। প্রতিবেশি দেশগুলোর তুলনায় সকল সূচকে আমরা এগিয়ে আছি। দেশের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অঙ্গিকারাবদ্ধ। তিনি কোন দিন মাথা নত করেনি। এটা ভবিষ্যতেও করবে না।
তিনি লন্ডনে বাংলাদেশি প্রবাসিদের উন্নয়নে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন আমরা যুক্তরাজ্যে দিনদিন এগিয়ে যাচ্ছি। পূর্বের তুলনায় আমরা এখন অনেক অগ্রণী কমিউনিটি। এটা আমাদের গর্ব। ভবিষ্যতে বৃটেন সরকারে বাংলাদেশিদের মধ্য থেকে মন্ত্রী থাকবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বাঙালি জাতি হিসেবে আমরা গর্বিত উল্লেখ করে সৈযদ আশরাফুল বলেন, আমাদের নিজস্ব ভাষা-সংস্কৃতিকে লালন করতে হবে। আমাদের জাতীয় নেতৃবৃন্দের ভিশন ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ভুবনেও মাথা উচুঁ করে দাঁড়াবে একটি কার্যকর রাষ্ট্র হিসেবে। জাতি হিসেবে বিশ্বের কাছে আত্মমর্যাদাশীল হিসেবে আমাদের পরিচিতি লাভ করবে। এটাই ছিল তাদের ভিশন। তাদের ২/৪ বছরের জন্য ক্ষমতা দখলের উদ্দেশ্য ছিল না।
সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন প্রেসিডিয়াম সদস্য এনামুল হক ইমন, সাবেক সভাপতি সামসুদ্দিন খান প্রমুখ।
