উখিয়ায় ৪০ অবৈধ করাতকল উজাড় হচ্ছে বন

আপডেট : ০৭ জানুয়ারি ২০১৫, ০১:৪৪

অভিনব কায়দায় স্থাপন করা অবৈধ স’মিল মুহূর্তেই সরিয়ে ফেলার ব্যবস্থা থাকায় প্রশাসনের অভিযান বিফল হচ্ছে। যে কারণে উদ্ধার হচ্ছে না অবৈধ করাতকল, ধরা-ছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে স’মিল বাণিজ্যের সাথে জড়িত সিন্ডিকেট। পরিবেশবাদী সচেতন মহলের দাবি, অবৈধ স’মিল স্থাপনের দায়ে জায়গা মালিকদের ভ্রাম্যমাণ আদালতের আওতায় জেল জরিমানার মতো শাস্তির বিধান রাখা হলে অবৈধ স’মিল বাণিজ্য প্রতিরোধ করা সম্ভব হতো। তা না হলে উখিয়ার বন সম্পদ রক্ষা করা দুষ্কর হয়ে পড়বে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, বিভিন্ন স্থানে অবৈধভাবে প্রতিষ্ঠিত ৪০টি করাত কলে প্রতিদিন গড়ে ৫ হাজার ঘনফুট চোরাই কাঠ সাইজ করে বাজারজাত করা হচ্ছে। গত সোমবার স’মিলে নিয়ে যাওয়ার সময় শতাধিক ঘনফুট চোরাই কাঠভর্তি একটি গাড়ি ফাত্রাঝিরি বিজিবি সদস্যরা আটক করেছে।

জানা গেছে, পালংখালী, কুতুপালং, কচুবনিয়া, রাজাপালং, রত্নাপালং, মরিচ্যা পালং, হলদিয়া ও জালিয়া পালং ইউনিয়নের অজপাড়াগাঁয়ে বনসমৃদ্ধ এলাকায় ৪০টিরও অধিক অবৈধ করাতকলে চোরাই কাঠ চেরাই করে বাজারজাত করা হচ্ছে। এসব স’মিল বন্ধ করে বনসম্পদ রক্ষার জন্য বনকর্মীরা বারবার অভিযান চালালেও স’মিল বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না, উপরন্তু স’মিল সিন্ডিকেট ও কাঠচোরদের হাতে নাজেহাল হচ্ছে। উপায়ান্তর না দেখে রেঞ্জ কর্মকর্তা উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে ২০টিরও অধিক অবৈধ স’মিলের তালিকা হস্তান্তর করেছে বলে জানা গেছে। রেঞ্জ কর্মকর্তা মোঃ ইব্রাহিম মিয়া জানান, অভিনব কায়দায় স্থাপন করা এসব অবৈধ করাতকল ৫ মিনিটের মধ্যে সরিয়ে ফেলার কারণে স’মিলের যন্ত্রাংশ উদ্ধার করা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি আরো জানান, এসব করাতকল উদ্ধার করতে গেলে কাঠচোর ও স’মিল সিন্ডিকেটের সাথে জড়িত দুর্বৃত্তরা বনকর্মীদের উপর হামলা চালায়। তাই পুলিশ-বিজিবি ছাড়া উদ্ধার অভিযান এ মুহূর্তে চালানো সম্ভব হচ্ছে না।
এদিকে প্রশাসনের ধরপাকড় ও উদ্ধার অভিযান দীর্ঘদিন থেকে ঝিমিয়ে পড়ার কারণে কাঠচোর ও অবৈধ করাতকল সিন্ডিকেট আরো সক্রিয় হয়ে উঠে সরকারি বন সম্পদের পাশাপাশি ব্যক্তিমালিকানায় গড়ে তোলা সামাজিক বনায়নে হামলা চালিয়ে নির্বিচারে গাছ লুটপাট করে নিয়ে যাচ্ছে। রাজাপালং ইউনিয়নের দরগাহবিল গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য আলী চান মেম্বার অভিযোগ করে জানান, টিঅ্যান্ডটি এলাকায় ২০০৩ সালে প্রতিষ্ঠিত সামাজিক বনায়নে দুর্বৃত্তরা রাতের আঁধারে লুটপাট চালিয়ে প্রায় ১৫টি গামারি ও গর্জন গাছ নিয়ে গেছে। স্থানীয় স’মিলে                  এসব চোরাই কাঠ শনাক্ত করা গেলেও দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি বন বিভাগ।
ফাত্রাঝিরি বিজিবির সুবেদার সাদেক জানান, সোমবার বিকেলে স’মিলে চেরাই করার জন্য নিয়ে যাওয়ার সময় শতাধিক ঘনফুট চোরাইকাঠসহ একটি চাঁদের গাড়ি আটক করা হয়েছে। তিনি বলেন, অবৈধভাবে প্রতিষ্ঠিত স’মিল থাকার কারণে সরকারি ও ব্যক্তিমালিকানাধীন গাছ-গাছালি লুটপাটের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে।

উখিয়া বনরক্ষা সহায়ক কমিটির আহ্বায়ক অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী জানান, যে সমস্ত জায়গায় অবৈধভাবে স’মিল বসানো হয়েছে সে সব জায়গা চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট জায়গা মালিকের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া গেলে অবৈধ করাতকল বাণিজ্য বন্ধ করা সম্ভব।