জেমি সিডন্স একবার বলেছিলেন সাকিব হল ম্যান উইথ গোল্ডেন আর্মস! কথাটা কতোটা সত্যি, তা বাংলাদেশ খুব ভালো করে জানে। তাকে যে বিদেশী দলই কিনুক না কেন, তারাই এই কথার সত্যতা ষোলো আনা টের পাচ্ছে। গত মৌসুমে বিগ ব্যাশ অভিষেকেই জয় এনে দিয়েছিলেন অ্যাডিলেড স্ট্রাইকার্সকে। গতকাল মেলবোর্ন রেনেগেডজের হয়ে প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমেই জয় এনে দিলেন দলকে।
যদিও সাকিব নিজে তার মতো করে বিশাল কিছু করেননি। ব্যাট হাতে করেছেন ১২ বলে ১৪ রান এবং বল হাতে ইনিংস সূচনা করে নিয়েছেন ২টি উইকেট। তারপরও তার দল রেনেগেডজ ৩৭ রানে হারিয়েছে হোবার্ট হারিকেনকে। রেনেগেডজের জন্য এটা অনেক বড় ব্যাপার। কারণ সাকিবের স্পর্শে তারা এবারের লিগে নিজেদের মাত্র দ্বিতীয় জয়টি পেলো গতকাল।
গতকালকের আগ পর্যন্ত ৪ ম্যাচে মাত্র ১টি জয় নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের একবারে তলানিতে পড়েছিল রেনেগেডজ। এ অবস্থায় টসে জিতে রেনেগেডজকে ব্যাটিংয়ে পাঠায় হারিকেন। দলীয় ২০ রানেই দুই ওপেনারকে হারিয়ে ফেলে রেনেগেডজ। এরপরই তান্ডব শুরু করেন তাদের ইংলিশ ক্রিকেটার বেন স্টোকস; সঙ্গ দেন কালাম ফার্গুসন। স্টোকস ৩৭ বলে ৮টি চার ও ৫টি ছক্কায় সাজানো ৭৭ রানের ইনিংস খেলেন। সঙ্গে ফার্গুসন ৩১ বলে ৩১ রান করেন। সাকিবও স্টোকসকে ভালোই সঙ্গ দিচ্ছিলেন। ১২ বলে দুটি চারে সাজানো ১৪ রানের ইনিংস খেলে ফেলেছিলেন। কিন্তু ডোহার্টিকে ছক্কা মারতে গিয়েই ক্যাচ দেন বাংলাদেশী এই অলরাউন্ডার।
শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৬৩ রান তোলে রেনেগেডজ।
জবাব দিতে নেমে শুরু থেকেই বিপাকে পড়ে হারিকেন। রেনেগেডজের হয়ে বোলিং আক্রমণ শুরু করেন সাকিব। তুলনামূলক একটু খরুচে ছিলেন। তারপরও ৪ ওভারে ৩৩ রান দিয়ে তুলে নিয়েছেন ২ উইকেট। সঙ্গে উইন্টারের ৩ উইকেট এবং পিটার সিডল ও ফাওয়াদের আরও ২টি করে উইকেট রেনেগেডজকে এনে দেয় সহজ এক জয়; ১৯.২ ওভারে ১২৬ রানে অলআউট হয় হারিকেন।
উল্লেখ্য এটা বিগ ব্যাশে সাকিবের দ্বিতীয় অভিযান। গত মৌসুমে দুটি ম্যাচ খেলেছিলেন তিনি অ্যাডিলেডের হয়ে। এবার শুরু থেকে থাকার একটা সম্ভাবনা ছিল। প্রথমে নিষেধাজ্ঞা ও পরে জাতীয় দলের খেলা থাকায় সেটা হয়ে ওঠেনি। আচরণগত কারণে দেওয়া জাতীয় দলে খেলার নিষেধাজ্ঞা আগেই তুলে নিলেও বিদেশী লিগে খেলার অনুমতি পান তিনি গত চার ডিসেম্বর। এরপরই সাকিবের জন্য বিগ ব্যাশের দরজা উন্মুক্ত হয়।
বিগ ব্যাশ খেলে আর ঢাকায় না ফিরে ব্রিসবেনে বিশ্বকাপের দলের সাথে যোগ দেবেন সাকিব। অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপে অংশ নিতে জাতীয় দল যাবে আগামী ২৪ জানুয়ারি। বিশ্বকাপের পর্দা উঠবে আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি।
