অবরোধের জন্য চট্টগ্রামে পণ্য পরিবহনে স্থবিরতা সৃষ্টি হয়েছে। কর্ণফুলী নদীর সদরঘাট থেকে বাংলাবাজার পর্যন্ত ১৬টি ঘাটে লাইটারেজ জাহাজ থেকে পণ্য খালাস কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চললেও তা ডেলিভারি করা যাচ্ছে না। জাহাজ থেকে খালাসের পর পণ্য ট্রাকে বোঝাই করে রাখা হচ্ছে। তবে অবরোধের কারণে চাল, ডাল, ভোজ্যতেল, সারসহ নিত্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্য বোঝাই ট্রাক নির্দিষ্ট গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যেতে পারছে না।
কর্ণফুলী নদীর বিভিন্ন ঘাটের সামনে পণ্যবোঝাই ট্রাকের দীর্ঘ সারি সৃষ্টি হয়েছে। চালকরা অবরোধ প্রত্যাহারের অপেক্ষায় রয়েছেন। মহাসড়কে চলাচলের জন্য পুলিশ প্রহরার আশ্বাস দেয়া হলেও আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীরা এতে খুব একটা আশ্বস্ত হতে পারছেন না। আবার নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য যথাসময়ে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে পাঠানো সম্ভব না হলে দেশে খাদ্যপণ্যের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি হওয়া ছাড়াও দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে।
গতকাল বুধবার চট্টগ্রামের বাংলাবাজার ঘাটে গিয়ে দেখা যায় আমদানি করা সার জাহাজ থেকে খালাস করে ট্রাকে তোলা হচ্ছে। বোরো মৌসুমকে সামনে রেখে এসব সার আমদানি করা হয়েছিল। কিন্তু অবরোধের জন্য এসব সার উত্তরবঙ্গসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো যাচ্ছে না। সংশ্লিষ্টরা জানান, যথাসময়ে কৃষকের হাতে সার পৌঁছানো না হলে ধানের উত্পাদন ব্যহত হবে। দরিদ্র কৃষকের জীবনে দুর্ভোগ নেমে আসবে। তারা দরিদ্র কৃষকের কথা বিবেচনা করে অবরোধ তুলে নেয়ার আহ্বান জানান।
ইত্তেফাকের সীতাকুন্ড সংবাদদাতা জানান, ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কে পুলিশ প্রহরায় যানবাহন চলাচলের আশ্বাস দেয়া হলেও যানবাহন মালিকরা এতে আশ্বস্ত হতে পারছেন না। নাশকতার আশংকায় তারা মহাসড়কে গাড়ি চালাতে সাহস করতে পারছেন না। গতকাল অবরোধের দ্বিতীয় দিনে মহাসড়কে হাতে গোনা কিছু যানবাহন চলাচল করতে দেখা যায়। গভীর রাতে অল্পকিছু যাত্রীবাহী বাস ও পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল করেছে।
এদিকে অবরোধের দ্বিতীয় দিনে গতকাল নগরীর জনজীবন ছিল অনেকটা স্বাভাবিক। অবরোধের সমর্থনে নগরীর কোথাও বিএনপি নেতাদের মিছিল, সমাবেশ করতে দেখা যায়নি। জনমনে অবরোধ নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও নগরীর কোথাও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
