শেলা নদী দিয়ে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল শুরু

আপডেট : ০৮ জানুয়ারি ২০১৫, ০১:৩৮

তেলবাহী ট্যাঙ্কার ডুবির ঘটনায় শেলা নদী দিয়ে প্রায় এক মাস বন্ধ থাকার পর গতকাল বুধবার সকাল থেকে আবারো নৌযান চলাচল শুরু করেছে। ৯ ডিসেম্বর তেলবাহী ট্যাঙ্কার ডুবির ঘটনায় সুন্দরবনের গাছপালা ও প্রাণিকুলের ক্ষতির আশংকার মুখে ওই নদীতে নৌযান চলাচল বন্ধ করে দেয় সরকার।  মঙ্গলবার নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় শেলা নদী দিয়ে নৌ চলাচলের অনুমতি দেয়া হয়। সভায় শুধু দিনের বেলায় নৌ চলাচলের অনুমতি দেয়া হলেও তেলবাহী জাহাজ চলাচল আপাতত বন্ধ থাকবে বলে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। মংলা-ঘাষিয়াখালি চ্যানেল পুরোপুরি চালু না হওয়া পর্যন্ত আপাতত শেলা নৌপথ চালুর রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আন্তঃমন্ত্রণালয়। কৃষি উত্পাদনের স্বার্থে সার পরিবহন ও বিভিন্ন শিল্প কারখানা চালু রাখার জন্য কাঁচামাল পরিবহন, নৌযান শ্রমিকদের জীবিকা নির্বাহ এবং মংলা বন্দরকে অচল অবস্থার হাত থেকে রক্ষার জন্য এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সুন্দরবনের চাদপাই স্টেশন কর্মকর্তা ফরেস্ট রেঞ্জার আবুল কালাম আজাদ জানান, সরকারের অনুমতির পর গতকাল সকাল থেকে শেলা নদী দিয়ে নৌ চলাচল শুরু করে। তবে বন বিভাগ নৌ চলাচলের ক্ষেত্রে সতর্ক দৃষ্টি রাখছে।

বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক আবুল কাশেম মাস্টার জানান, সকাল থেকে মংলা বন্দরের সাথে সারাদেশের নৌ যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। শুরু হয়েছে বাংলাদেশ-ভারত অভ্যন্তরীণ নৌপ্রটোকলভুক্ত রুটে জাহাজ চলাচল। মংলার পশুর নদীতে আটকে থাকা কয়েকশ’ কার্গো-কোস্টার জাহাজ সকাল থেকে ঢাকা, বরিশাল, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন নৌ বন্দরের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যেতে শুরু করেছে। এ সকল জাহাজে রয়েছে সার, ক্লিংকার, সিমেন্ট, লবণ, বালু, খাদ্যশস্য, ফ্লাইঅ্যাশসহ বিভিন্ন পণ্য। তিনি আরো জানান, এদিকে শেলা রুট চালু করাতে পূর্ব ঘোষিত নৌযান কর্মবিরতি কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছে বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন।