রফতানির অগ্রাধিকার খাতের মধ্যে তৈরি পোশাক শিল্প, চামড়া ও জাহাজ নির্মাণ শিল্পের মতো ঔষধ শিল্পেও আর্থিক সহায়তা দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হবে বলে জানিয়েছে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের ঔষধ শিল্পকে অন্যতম প্রধান রপ্তানি পণ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সরকার পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সরকারের ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা অনুযায়ী নতুন নতুন রপ্তানিপণ্য উদ্ভাপন এবং নতুন নতুন রপ্তানি বাজার সৃষ্টির জন্য কাজ চলছে। সে মোতাবেক দেশের তৈরি পোশাকের পাশাপাশি ঔষধ, চামড়া, জাহাজ ও আইসিটি রপ্তানির জন্য বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বৃহষ্পতিবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ ঔষধ শিল্প সমিতি আয়োজিত তিন দিনব্যাপী ‘এশিয়া ফার্মা এক্সপো-২০১৫’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তোফায়েল আহমেদ বলেন, বিশ্বের অনেক দেশ বাংলাদেশে তৈরি ঔষধ আমদানির আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এরই মধ্যে ৯০টি দেশে ঔষধ রফতানির জন্য বাংলাদেশ নিবন্ধন গ্রহণ করেছে। এখন এ সুযোগ কাজে লাগাতে সরকার রফতানিকারকদের নীতিগত ও অবকাঠামোগত সহায়তা দেয়ার কাজ করছে।
ঔষধ শিল্প সমিতির সভাপতি সালমান এফ রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সরকারের ঔষধ প্রশাসন অধিদফতরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, বাংলাদেশ ঔষধ শিল্প সমিতির মহাসচিব আব্দুল মুক্তাদির।
স্বাগত বক্তব্যে সালমান এফ রহমান বলেন, বাংলাদেশে মোট চাহিদার ৯৯ শতাংশ ঔষধ দেশেই উত্পাদিত হচ্ছে। শুধু তাই নয়, এর অধিকাংশ কাঁচামাল দেশেই উত্পাদিত হচ্ছে। বর্তামনে ৩০টি ঔষধ উত্পাদনকারী দেশীয় প্রতিষ্ঠান বিশ্বের ৮৫টি দেশে তাদের পণ্য রফতানি করছে। ঔষধ রফতানিতে নগদ সহায়তা দেয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তৈরি পোশাক শিল্পের পর ঔষধ শিল্প দেশের রফতানি আয়ে বড় অবদান রাখতে পারবে। মুন্সিগঞ্জের ঔষধ শিল্পপার্কটি আগামী দুই-তিন মাসের মধ্যে উদ্বোধন করা সম্ভব হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
উল্লেখ্য, তিন দিন ব্যাপী ‘এশিয়া ফার্মা এক্সপো-২০১৫’তে বাংলাদেশ, ভারত, চীন, কোরিয়া, থাইল্যান্ডসহ ৩০টি দেশের ৪৫০টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। এখানে ঔষধ সংক্রান্ত বিভিন্ন ধরনের আধুনিক প্রযুক্তির যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ এবং কাঁচামাল প্রদর্শন করা হচ্ছে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত এক্সপো খোলা থাকবে। এক্সপো চলবে আগামী ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত।
