কক্সবাজারের চকরিয়ায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই সন্ত্রাসী গ্রুপের মধ্যে ঘণ্টাব্যাপী বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রতিপক্ষের গুলিতে জাহেদুল ইসলাম (২৬) নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন। এদিকে, খবর পেয়ে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে গেলে ফের সন্ত্রাসীদের সাথে পুলিশের ব্যাপক বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। এসময় পুলিশ গুলিবিদ্ধ অবস্থায় চারজন ও পথচারী একজনসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছ। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করেছে দেশে তৈরি দু’টি কাটা বন্দুক, একটি রাইফেল, সাতটি লম্বা কিরিচ, ১২টি এলজি’র খোসা ও একটি রাইফেলের খোসা।
বৃহস্পতিবার ভোরে উপজেলার চিরিঙ্গা ইউনিয়নের চরনদ্বীপ একানব্বই একর পাড়া গ্রামে ঘটেছে এ ঘটনা। ঘটনার পর পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে ৪জনকে পুলিশ পাহারায় গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে একজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চট্রগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পর ওই এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। জনমনে আতঙ্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।
চকরিয়া থানার অপারেশন অফিসার (এসআই) মনজুরুল কাদের ভুইয়া বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে ভোর ৬টার দিকে সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার (চকরিয়া সার্কেল) মো.মাসুদ আলম ও থানার ওসি প্রভাষ চন্দ্র ধরের নেতৃত্বে পুলিশের একটিদল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। ওইসময় সন্ত্রাসীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়তে থাকে। এসময় পুলিশও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি ছুড়ে। এতে ২৫-৩০ মিনিট পুলিশের সাথে সন্ত্রাসীদের ফের বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। তিনি আরো বলেন, পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় চরনদ্বীপ এলাকার আবদুস ছালাম মাঝি’র ছেলে আতা উল্লাহ (৩২), আবুল হোসেনের ছেলে ওসমান গনি (২৪), মোজাহের আহমদের ছেলে আবদু ছালাম (২৫) ও চট্রগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার মোক্তার আহমদের ছেলে সিরাজুল ইসলামকে (২৮) গ্রেফতার করেন। ওইসময় ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে দেশে তৈরি ২টি কাটা বন্দুক, ১টি রাইফেল, ৭টি লম্বা কিরিচ, ১২টি এলজি’র খোসা, ১টি রাইফেলের খোসা। পরে পালাকাটা থেকে জাকের উল্লাহ’র ছেলে কপিল উদ্দিন (৩৪) নামের আরো একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন, পথচারী চিংড়ি চাষী কফিল উদ্দিনকে কোন কারণ ছাড়াই পুলিশ গ্রেফতার করে এ ঘটনায় জড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন।
চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রভাষ চন্দ্র ধর বলেন, গ্রেফতারকৃত সন্ত্রাসীরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে, তারা বুধবার রাতে চরণদ্বীপ এলাকার চারটি চিংড়িঘেড়ে ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছিল। ওইসময় ডাকাতি করতে কারা যাবে এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে কথা কাটাকাটি ও পরে বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। ঘটনার সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের পক্ষ থেকে ৩২ রাউন্ড গুলিবর্ষন হয়েছে। নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে থানায় অস্ত্র আইনে একটি, হত্যার অভিযোগে একটি ও চিংড়িঘেড়ে ডাকাতির প্রস্তুতির অভিযোগসহ তিনটি মামলা রুজু করা হয়েছে।
