নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লায় একটি বাস থেকে যাত্রীদের নামিয়ে দিয়ে তাতে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে অবরোধকারীরা। এ সময়ে আরো ৬ থেকে ৭টি যানবাহন ভাঙচুর করা হয়। বিএনপির ডাকা টানা অবরোধের চতুর্থ দিনে শুক্রবার সকালে এই ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মুন্সীগঞ্জ থেকে ঢাকামুখী দিঘীরপাড় পরিবহনের একটি বাস (ঢাকা জ ১৪-০২৯৬) ফতুল্লার শাসনগাঁও এলাকায় আসলে ১৫-২০ জন যুবক গাড়িটি আটকে দেয়। পরে তারা নিজেদের অবরোধকারী সমর্থক পরিচয় দিয়ে যাত্রীদের বাস থেকে নামিয়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় যাত্রীরা প্রাণভয়ে দৌঁড়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। ভাঙচুর করা হয় আরো ৬-৭টি যানবাহন। এতে করে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-মুন্সীগঞ্জ সড়কে আধাঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে।
নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে বাসের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
ফতুল্লা মডেল থানার ওসি আসাদুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পুলিশ ধাওয়া করলে অবরোধকারীরা দ্রুত পালিয়ে যায়। এ ব্যপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এদিকে শুক্রবার সকালে নারায়ণগঞ্জ শহরের নিতাইগঞ্জ এলাকাতেও ব্যাপক ভাঙচুর ও তান্ডব চালিয়েছে অবরোধকারীরা। এছাড়া শহরের ডিআইটি বাণিজ্যিক এলাকাতে জেলা বিএনপির কার্যালয়ের সামনেও ভাঙচুর ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে। পুলিশ এ ঘটনায় দুইজনকে আটক করেছে।
জানা গেছে, অবরোধ সমর্থনে সকাল পৌনে ৯টায় শহরের নিতাইগঞ্জ এলাকাতে জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার, নগর বিএনপির সেক্রেটারী এটিএম কামাল, জেলা যুবদল সভাপতি মোশাররফ হোসেন, মহানগর কমিটির আহবায়ক মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ, জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক রেজা রিপন, মাহাবুবুর রহমান, মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক শাহেদ আহমেদ, জেলা কৃষক দলের সেক্রেটারী উজ্জল হোসেনের নেতৃত্বে অবরোধ সমর্থনে ঝটিকা মিছিল বের হয়। মিছিলকারীরা নিতাইগঞ্জে সড়কের পাশে পার্কিং করে রাখা ৯টি ট্রাক ও একটি প্রাইভেটকার ব্যাপক ভাঙচুর শুরু করে। মিছিল থেকে দফায় দফায় ককটেল ও হাত বোমার বিস্ফোরণ ঘটাতে থাকে। এর মধ্যে ট্রাকে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে ধাওয়া করলে অবরোধকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। এ সময় দুইজনকে হাতেনাতে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে এলাকার লোকজন।
অন্যদিকে সকাল সোয়া ৯টার দিকে মহানগর ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা শহরের ডিআইটি এলাকাতে দুটি গাড়ি ভাঙচুর ও সড়কে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেয়। এ সময় কয়েকটি হাত বোমা ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে।
নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি মঞ্জুর কাদের জানান, পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে অবরোধ সমর্থনকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। অবরোধের নামে তারা মানুষের জানমাল নষ্ট ও যানবাহন ভাঙচুর করে ক্ষতিসাধন করছে।
