আবারও শেষ দিনের নাটক!

আপডেট : ০৯ জানুয়ারি ২০১৫, ১৮:০১
অধিনায়কত্ব না পেলে হয়তো জানাই যেত না কেমন অতিমানবীয় প্রতিভা লুকিয়ে আছে ২৫ বছর বয়সী এই তরুণের মাঝে!
চলতি সিরিজে চার টেস্টের চারটিতেই সেঞ্চুরি করেছেন। এর মধ্যে অধিনায়ক হিসেবে করেছেন তিনটি। শুক্রবার আবারও হাসল সেই অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথের ব্যাট। সেঞ্চুরি না করলেও এই দফায় করেছেন ৭১ রান। আর তাতে সিডনি টেস্টে পঞ্চম দিনে চার উইকেট হাতে রেখে স্বাগতিকরা করেছে ২৫১ রান।
বোর্ডার-গাভাস্কার ট্রফি এরই মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার নামে লেখা হয়ে গেলেও সিরিজের শেষ দিনে এসে ভারতের সামনে অপেক্ষা করছে নাটক।
পঞ্চম দিনে বড় একটা পরীক্ষাই দিতে হবে বিরাট কোহলির দলকে। অস্ট্রেলিয়ার লিড যে দাঁড়িয়েছে ৩৪৮ রানে।
বোর্ডার-গাভাস্কার ট্রফির চলতি লড়াইকে ছোট করে বললে বলা যায় স্টিভেন স্মিথ বনাম বিরাট কোহলির লড়াই। সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে দুই তরুণ অধিনায়ক ক্ষণে ক্ষণে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছেন একে অপরকে! দু’জনই ছুঁয়ে ফেলেছেন ঈর্ষণীয় সব মাইলফলক।
দু’জন মিলে সিরিজে করে ফেলেছেন আটটি সেঞ্চুরি। এর মধ্যে অধিনায়ক হিসেবে করেছেন সাতটি। চার ম্যাচের টেস্ট সিরিজে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সবচেয়ে বেশি রান করা ভারতীয় ব্যাটসম্যানের নাম এখন বিরাট কোহলি। চার সেঞ্চুরিসহ তার ৬৪৬ রানের তাত্পর্য বোঝাতে বলতে হবে এর আগের তিনটি নাম - রাহুল দ্রাবিড়, ভিভিএস লক্ষণ ও শচিন টেন্ডুলকার। বিরাট সুনীল গাভাস্কারকেও ধরে ফেলেছেন। একই সিরিজে চারটা সেঞ্চুরি ভারতীয়দের মধ্যে এতোদিন কেবল গাভাস্কারেরই ছিল।
স্টিভেন স্মিথও কম যান না। তার আগে টানা চার বা তার বেশি সংখ্যক টেস্টে সেঞ্চুরি করেছেন মাত্র চারজন অস্ট্রেলিয়ান - স্যার ডন ব্র্যাডম্যান, নিল হার্ভে, জ্যাক ফিংলেটন ও ম্যাথু হেইডেন। সিডনি টেস্টের চতুর্থ দিনে আরও কিছু অর্জন নিজের একার করে নিলেন স্মিথ। দ্বিতীয় ইনিংসে ৭১ রান করার মধ্য দিয়ে  সিরিজে ১৫৩ গড়ে তার রান এখন ৭৬৯। এর আগে ভারকের বিপক্ষে এক সিরিজে সর্বোচ্চ রান করার রেকর্ড ছিল তারই স্বদেশী স্যার ডন ব্র্যাডম্যানের।
১৯৪৭-৪৮ মৌসুমে ভারতের বিপক্ষে ব্র্যাডম্যান করেছিলেন ৭১৫ রান। এছাড়া চার ম্যাচের টেস্ট সিরিজে তার ৭৬৯ রানই ইতিহাসের সেরা। তবে, এই রেকর্ড নিয়ে একটা ‘বিতর্ক’ আছে।
পাঁচ ম্যাচের টেস্ট সিরিজে স্মিথের চেয়ে বেশি রান করেছিলেন আরও দুই কিংবদন্তী — ভিভ রিচার্ডস (৮২৯) ও সুনীল গাভাস্কার ( ৭৭৪)। তবে, দুজনই যথাক্রমে ইংল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে একটি করে ম্যাচ মিস করেছিলেন।
এবার মূল টেস্টের আলোচনায় ফেরা যাক। সিডনিতে  প্রথম তিন দিন উইকেটের ব্যাটিং-বান্ধব চরিত্র দেখে বিশ্লেষকেরা খানিকটা চমকে গিয়েছিলেন।
তবে চতুর্থ দিনে বোলারদের দিকে যেন মুখ তুলে তাকাল এসসিজির উইকেট। বাউন্স, সুইং, টার্নে হাসি ফুটল বোলারদের মুখে। দিনে উইকেট পড়লো মোট ১১টি।
অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসে আক্রমণাত্মক ফিল্ডিং সাজালেন কোহলি। নতুন বলেই আক্রমণে নিয়ে এলেন রবিচন্দন অশ্বিনকে। স্লিপ, গালি, সিলি পয়েন্টে দাঁড়ানো ফিল্ডাররা ঘিরে ধরলেন ডেভিড ওয়ার্নারকে। কিংকর্তব্যবিমূঢ় ওয়ার্নার স্লিপে মুরালি বিজয়ের হাতে ক্যাচ তুলে দিলেন মাত্র ৪ রান করে। ১৬ করা শেন শিকার হন অশ্বিনের বলে।
ওয়ার্নারের মতো একই ভাবে শন মার্শও ফিরলেন অশ্বিনের বলে।
অশ্বিনের স্পিন-বিষে নীল হওয়ার আগেই আবার ভারত-হন্তারক হিসেবে হাজির স্মিথ। এ সিরিজে একবারের জন্যও স্মিথকে এক অঙ্কে ফেরাতে পারেনি ভারত।
৭১ রানে স্মিথ ফিরেছেন সামির দারুণ এক ইয়র্কারে এলবিডব্লু হয়ে। এছাড়া ওপেনার ক্রিস রজাসের্র ব্যাট থেকে এসেছে ৫৬ রান। তবে শেষ বিকেলে এক পশলান ‘টি-টোয়েন্টি’ বিনোদন দিয়েছেন জো বার্নস। ৩৯ বলে করেছেন ৬৬ রান।
উমেশ যাদবের এক ওভারেই তুলে নেন ১৮ রান। অস্ট্রেলিয়া ৬ উইকেট হারালেও ওভারপ্রতি রানরেট ৬.২৭। অস্ট্রেলিয়ার ৬ উইকেটের ৪টিই অশ্বিনের দখলে।
সিডনিতে চতুর্থ ইনিংসে জেতার মতো রান এরই মধ্যে পেয়ে গেছে অস্ট্রেলিয়া। কারণ, এ মাঠে চতুর্থ ইনিংসে সর্বোচ্চ ২৮৮ রান তাড়া করে জেতার রেকর্ড আছে। আর সেটা অস্ট্রেলিয়ারই। ২০০৬ সালের জানুয়ারিতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে করেছিল তারা। 
আগের দিনের ৫ উইকেটে ৩৪২ রানে খেলতে নেমে আজ অবশিষ্ট ৫ উইকেটে ১৩৩ রান যোগ করে ভারত অলআউট ৪৭৫ রানে। ভারতকে অলআউট করতে অস্ট্রেলিয়ার লেগেছে ১৬২ ওভার, ৬৮০ মিনিট। আগের দিনের অপরাজিত কোহলি ৭ রান যোগ করে রায়ান হ্যারিসের বলে ফিরেছেন ১৪৭ রানে।
ভারতকে বড় সংগ্রহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে অষ্টম উইকেটে ভুবনেশ্বর কুমার-অশ্বিনের যোগ করা ৬৫ রান। মিচেল স্টাকের্র বলে ফেরার আগে অশ্বিন তুলে নিয়েছেন ক্যারিয়ারের চতুর্থ ফিফটি। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে স্টার্ক পেয়েছেন সর্বোচ্চ ৩ উইকেট।
রানের বন্যার সিরিজে দলীয় রানের দিক থেকেও বড় কয়েকটা রেকর্ডও দেখে ফেলেছে এই সিরিজ। কমপক্ষে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজে এবারই প্রথম প্রতিটি টেস্টে নিজেদের প্রথম ইনিংসে দু’দলই চারশোর্ধ্ব রান করেছে। এক সিরিজে দু’দল মিলে আটবার ৪০০-এর উপর রান করারও এটাই প্রথম নজির!