দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির ক্ষেত্রে হরতাল-অবরোধসহ রাজনৈতিক অস্থিরতাকে বড় শঙ্কা বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। রাজনৈতিক এসব সংকট থেকে উত্তরণে তারা সংলাপের আহ্বান জানিয়েছেন। সেই সঙ্গে অর্থনীতির চালিকাশক্তিকে হরতাল-অবরোধের বাইরে রাখার উপায় খোঁজারও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
শুক্রবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে অর্থনীতি সমিতির সম্মেলনের কর্ম অধিবেশনে তারা এ আহ্বান জানান। সম্মেলনের দ্বিতীয় দিন বেশ কয়েকটি কর্ম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। এতে অর্থনীতিবিদরা বিভিন্ন বিষয়ের উপর তাদের প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
‘উন্নয়নে সামাজিক ও রাজনৈতিক দিকসমূহ’ শীর্ষক একটি কর্ম-অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান। তিনি বলেন, রাজনৈতিক অস্থিরতার শঙ্কা। এটি না থাকলে অর্থনীতি আরো ভালো অবস্থানে থাকতো। যে কোন ধরনের সমস্যা আলোচনার টেবিলে সমাধানের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বন্দরগামী রপ্তানিকারকের ট্রাক রাস্তায় আটকাবেন না। কৃষকের পণ্যবাহী ট্রাক কাওরানবাজারে যাতে আসতে পারে। এতে আঁচড় দেবেন না। আমরা আত্বঘাতি বাঙ্গালী যাতে না হই।
এ অধিবেশনের জন্য হরতালের ক্ষয়ক্ষতির উপর বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যসহ চারজন অর্থনীতিবিদের একটি গবেষণা প্রবন্ধ তৈরি করেন। তাদে দেখা যায়, ২০১৩ সালের জুলাই থেকে চলতি মাস পর্যন্ত হরতালে আনুমানিক ৪৯ হাজার ১৮ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে পরিবহন খাতে ১৬ হাজার ৬৮৯ কোটি টাকা, কৃষি ও কৃষিভিত্তিক শিল্প খাতে ১৫ হাজার ৮২৯ কোটি, রপ্তানিমূখী খাতে ১৩ হাজার ৭৫০ কোটি ও পর্যটন খাতে ২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। অবশ্য এসব ক্ষতির একটি অংশ বিভিন্নভাবে সমন্বয় করা গেছে বলে প্রবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে।
ওই প্রবন্ধে রাজনৈনিতক অস্থিরতা থেকে অর্থনীতিকে সুরক্ষা করা এবং এ লক্ষ্যে বর্তমান রাজনীতির মূল সংকট দূর করার উপায় নিয়ে আলোচনা করা হয়। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মাধ্যমে রাজনৈতিক সংলাপের পরিবেশ তৈরি করা এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে রাজনীতির বাইরে রাখতে সরকারি ও বেসরকারি পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার কথা বলা হয় এতে।
এ অধিবেশনে অন্যদের মধ্যে প্রবন্ধ উপস্থাপন করে জামালুদ্দিন আহমেদ, মেহেরুন্নেসা, তাপস কুমার পাল প্রমুখ।
