জামিনে কারামুক্তি পেলেন রুবেল

আপডেট : ১১ জানুয়ারি ২০১৫, ১৮:৫০
 
 
বিয়ের প্রলোভোন দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে দায়েরকৃত মামলায় জামিনে মুক্তি পেয়েছেন বিশ্বকাপ স্কোয়াডের সদস্য জাতীয় ক্রিকেট দলের পেসার রুবেল হোসেন। জামিন আদেশ কারাগারে পৌঁছলে রবিবার বিকাল পৌনে পাঁচটায় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তিনি মুক্তি পান।
 
এর আগে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত থেকে জামিন পান রুবেল। তদন্ত রিপোর্ট দাখিল না করা পর্যন্ত তাকে এ মামলায় জামিন দেন ওই আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক ইমরুল কায়েস। জামিনে মুক্তি পাওয়ায় বিশ্বকাপ ক্রিকেটে রুবেলের অংশ নেয়ার ক্ষেত্রে যে অনিশ্চয়তা ছিলো তা কেটে গেলো।
 
গত ১৩ ডিসেম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে রাজধানীর মিরপুর থানায় রুবেলের বিরুদ্ধে এ মামলা দায়ের করেন চিত্রনায়িকা নাজনীন আকতার হ্যাপি (১৯)। মামলা দায়েরের দুইদিন পর হাইকোর্টে আগাম জামিন চান রুবেল। শুনানি শেষে গত ১৫ ডিসেম্বর বিচারপতি সৈয়দ এবি মাহমুদুল হকের নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চ আবেদন নিষ্পত্তি করে রুবেলকে চার সপ্তাহের জামিন দেয়। মামলা দায়েরের পর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য হ্যাপিকে পাঠানো হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।
 
স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে হাসপাতাল থেকে দেয়া এক ফরেনসিক প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘সামপ্রতিক সময়ে হ্যাপিকে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্কে বাধ্য করার কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। ’
 
হাইকোর্ট থেকে জামিন পাওয়ার ২৫ দিনের মাথায় গত বৃহস্পতিবার ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্নসমর্পণ করে নিয়মিত জামিন চান রুবেল। ঢাকার মহানগর হাকিম আনোয়ার সাদত আসামির জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এরপর রুবেলকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের এই জামিন আদেশের বিরুদ্ধে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে ফৌজদারি বিবিধ মোকদ্দমা দায়ের করেন রুবেল। এই আদালতে জামিন প্রার্থনা করেন রুবেলের আইনজীবী ব্যারিস্টার মনিরুজ্জামান আসাদ। শুনানিতে তিনি আদালতে বলেন, মামলার এজাহারে ঘটনার যে সময় ও তারিখের কথা উল্লেখ করা হয়েছে সেই ১ ডিসেম্বর মিরপুর স্টেডিয়ামে জিম্বাবুয়ের সঙ্গে ক্রিকেট ম্যাচে অংশ নেন রুবেল। খেলা শেষে রুবেলসহ জাতীয় দলের অন্যান্য খেলোয়াড়রা প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে পুরস্কারও গ্রহন করেন। এ সংক্রান্ত ছবি সম্বলিত নথিপত্র উচ্চ আদালতে দাখিল করি। হাইকোর্ট সস্তুষ্ট হয়ে আমাদের চার সপ্তাহের জামিন দেয়। একই যুক্তি তুলে ধরে আমরা নিন্ম আদালতে জামিন চাই। কিন্তু আদালত জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এই আদেশের বিরুদ্ধে আমরা আপনার আদালতে জামিন চেয়েছি। কারণ বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড কর্তৃক ঘোষিত বিশ্বকাপ স্কোয়াডে রুবেলের নাম রয়েছে। তিনি বিশ্বকাপ স্কোয়াডের একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে রুবেলের জামিন চাচ্ছি। জামিন আবেদনের তীব্র বিরোধিতা করেন হ্যাপীর আইনজীবী তুহীন হাওলাদার। তিনি বলেন, মামলার এ পর্যায়ে জামিন দেয়া হলে তদন্তে প্রভাব বিস্তার করতে পারেন রুবেল। সকালে শুনানি শেষে বিচারক দুপুরের বিরতির পর আদেশ দেবেন বলে জানিয়ে দেন। পরে বেলা ২ টায় এজলাসে এসে বিচারক জামিন মঞ্জুর করে আদেশ দেন।