মাহেলা জয়াবর্ধনের সেঞ্চুরিতেও পারল না শ্রীলংকা। সাত ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে ৩ উইকেটের জয় পেয়েছে স্বাগতিক নিউজিল্যান্ড।
টস জিতে প্রথম ব্যাট করে ৯ উইকেটে ২১৮ রান করে লংকানরা। জবাবে ৪২ বল ও ৩ উইকেট হাতে রেখে জয়কে সঙ্গী করে মাঠ ছাড়ে কিউইরা।
ক্রাইস্টচার্চে প্রথমে ব্যাট করার সুযোগটা ভালোভাবে কাজে লাগাতে পারেনি শ্রীলংকা। স্কোর বোর্ডে ১৬ রান উঠতেই ২ উইকেট হারিয়ে বসে লংকানরা। ওপেনার দিমুথ করুনারত্নে ৫ ও দলের আরেক অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান কুমার সাঙ্গাকারা ৪ রান করে প্যাভিলিয়নে ফেরেন। এরপর তিলকারত্নে দিলশান ও জয়াবর্ধনে প্রাথমিক ধাক্কা সামাল দেন। তবে দলের স্কোরে খুব বেশি রান জড়ো করতে পারেননি তারা। দলীয় ৫১ রানে ব্যক্তিগত ১৯ রানে তৃতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হন তিলকরত্নে।
এরপর অধিনায়ক এ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজকে নিয়ে আবারো ইনিংস মেরামতে মনোযোগী হন জয়াবর্ধনে। কিন্তু এবারও বড় জুটি গড়তে পারেননি তারা। ম্যাথুজের ব্যর্থতায় এই জুটির রান ৩১ রানের বেশি এগোয়নি। ম্যাথুজ ফিরেছেন ১৫ রানে।
বড় জুটির অভাবটা যখন খুব বেশি টের পাচ্ছিলো শ্রীলংকা, ঠিক তখুনি জয়াবর্ধনকে দারুনভাবে যোগ্য সঙ্গ দেন লাহিরু থিরিমান্নে। এরমাঝে হাফ-সেঞ্চুরিও তুলে নেন জয়াবর্ধনে। এই জুটিতে মূল্যবান ৭৩ রান আসার পর থিরিমান্নে আউট হন ২৩ রানে।
থিরিমান্নের বিদায়ের পর ক্রিজে এসে মারমুখী ব্যাট চালাতে থাকেন জীবন মেন্ডিস। আর এসময় কিছুটা নির্ভার হয়ে খেলে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ১৮তম সেঞ্চুরি তুলে নেন জয়াবর্ধনে। সেঞ্চুরির কিছুক্ষন পরই দলীয় ২০০ রানে বিদায় নেন জয়াবর্ধনে। ১২টি চার ও ১টি ছক্কায় ১০৭ বলে ১০৪ রান করেন থামেন জয়াবর্ধনে।
জয়াবর্ধনের বিদায়ের পর বেশি দূর যেতে পারেনি শ্রীলংকা। মেন্ডিসের ২৩ রানের উপর ভর করে ৯ উইকেটে ২১৮ রানের সংগ্রহ পায় সফরকারীরা। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে ৩৬ রানে ৪ উইকেট নিয়েছেন পেসার মিচেল ম্যাকক্লেনাঘান।
জয়ের জন্য ২১৯ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে দলীয় শুন্য রানে ওপেনার মার্টিন গাপটিলকে হারায় নিউজিল্যান্ড। শুরুতে উইকেট হারানো দুঃখটা পরবর্তীতে বেশ ভালোভাবে দূর করেছেন আরেক ওপেনার ও অধিনায়ক ব্রেন্ডন ম্যাককালাম এবং কেন উইলিয়ামসন। ব্যাট হাতে মারমুখী হয়ে উঠেন ম্যাককালাম। এসময় শ্রীলংকার বোলারদের তুলোধুনো করে ছাড়েন ম্যাককালাম। মাত্র ১৯ বলেই ছুয়েঁ ফেলেন হাফ-সেঞ্চুরি কোটা। তবে রেকর্ড বইয়ের উপরের দিকে জায়গা করে নিতে পারেনি। কারন কম বল অর্থ্যাৎ ১৭ বলে হাফ-সেঞ্চুরির করার রেকর্ড এখনও দখলে রয়েছে শ্রীলংকার সনাথ জয়াসুরিয়ার। ১৯৯৬ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিঙ্গাপুরে এই রেকর্ড গড়েছিলেন জয়াসুরিয়া।
হাফ-সেঞ্চুরির পরই ৫১ রানে আউট হন ম্যাককালাম। তার ২২ বলের ইনিংসে ৬টি বাউন্ডারি ও ৩টি ওভার বাউন্ডারির মার ছিলো। ফলে ৩৭ বল থেকে আসা ৬৩ রানের জুটিও ভাঙ্গে। যেখানে মাত্র ৮ রান অবদান ছিলো উইলিয়ামসনের।
ম্যাককালামের বিদায়ের পর দ্রুত ৩ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে যায় নিউজিল্যান্ড। উইলিয়ামসন ও টম লাথাম ১৫ রান করে এবং গ্র্যান্ট এলিয়ট ১ রান করে প্যাভিলিয়নে ফিরেন। ফলে ৫ উইকেটে ১০১ রানে পরিণত হয় স্বাগতিকরা।
তবে শেষদিকে উইকেটরক্ষক লুক রঞ্চি ও নাথান ম্যাককালামকে সাথে নিয়ে দলকে জয়ের পথে রাখেন কোরি এন্ডারসন। শেষপর্যন্ত রঞ্চির ১৭ ও ম্যাককালামের অপরাজিত ২৫ রানের সাথে এন্ডারসনের ৯৬ বলে ৮১ রান জয় নিশ্চিত করে নিউজিল্যান্ডের। শ্রীলংকার পক্ষে ২টি করে উইকেট শিকার করেন সাচিত্রা সেনানায়েকে, নুয়ান কুলাসেকারা ও তিলকারতেœ দিলশান। ম্যাচের সেরা হয়েছেন নিউজিল্যান্ডের এন্ডারসন। আগামী ১৫ জানুয়ারী হ্যামিল্টনে অনুষ্ঠিত হবে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর :
শ্রীলংকা ২১৮/৯, ৫০ ওভার (জয়াবর্ধনে ১০৪, জীবন মেন্ডিস ২৩, ম্যাকক্লেনাঘান ৪/৩৬)।
নিউজিল্যান্ড : ২১৯/৭, ৪৩ ওভার (এন্ডারসন ৮১, ব্রেন্ডন ম্যাককালাম
ফল : নিউজিল্যান্ড ৩ উইকেটে জয়ী।
সিরিজ : সাত ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল নিউজিল্যান্ড।
ম্যান অব দ্য ম্যাচ : কোরি এন্ডারসন (নিউজিল্যান্ড)।
