বোলারদের দুষলেন কোহলি

আপডেট : ১১ জানুয়ারি ২০১৫, ১৭:৫৭
সিডনিতে শনিবার চার ম্যাচ টেস্ট সিরিজের শেষটা ড্রতে শেষ হওয়ায় ভারতকে সিরিজ হারতে হলো ২-০ ব্যবধানে। ফলে দেশের মাটিতে সিংহ, দেশের বাইরে বিড়াল এমন অপবাদ এই সিরিজ বাদেও সঙ্গী উপমহাদেশ পরাশক্তিদের। বোলারদের ধারাবাহিকতার অভাবকে এমন হারের অন্যতম কারণ হিসাবে দায়ী করেছেন বিরাট কোহলি। পাশাপাশি সদ্য নিযুক্ত এই ভারতীয় অধিনায়ক তার বোলারদের বলেছেন প্রতিপক্ষ বোলারদের কাছ থেকে শিক্ষা নিতেও।
অস্ট্রেলিয়ার শীর্ষ পাঁচ ব্যাটসম্যানের এই সিরিজে গড় ছিল ৫১.৪৫। অন্যদিকে ভারতের ক্ষেত্রে সেটা ছিল ৫২.৫৭। অস্ট্রেলিয়ার তিনজন ব্যাটসম্যান সিরিজে কমপক্ষে একবার শতরান ছুঁয়েছেন। ভারতের ক্ষেত্রে সংখ্যাটি চার। টেস্ট ব্যাটিংয়ের অন্যতম সেরা মানদণ্ড বলে মানা হয় একজন ব্যাটসম্যান কতগুলো বল না খেলে ছেড়ে দিতে পেরেছেন সেটাকে। এক্ষেত্রেও এগিয়ে একজন ভারতীয়। মুরালি বিজয় ছেড়েছেন ২৩৪ টি বল। অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে যৌথ সর্বোচ্চ স্টিফেন স্মিথ এবং ক্রিস রজার্সের ক্ষেত্রে সংখ্যাটি ২৩০।
টপ অর্ডারদের এমন অবিশ্বাস্য ধারাবাহিকতার পরেও সিরিজে হেরে যাওয়া দলটির নাম ভারত। এবং শেষ দুই টেস্টেও আরেকটু বেশী সময় খেলা চালিয়ে যেতে পারলে পরাজয়ের ব্যবধানটা ২-০ না হয়ে আরো বেশী হতে পারতো। এই পরিসংখ্যানই পরিস্কার বলে দিচ্ছে, অস্ট্রেলিয়ান বোলারদের দারুন ধারাবাহিকতার বিরুদ্ধে ভারতীয় পেসাররা সুবিধা করতে পারেননি মোটেই। উইকেট স্পিন সহায়ক না হওয়ায় ভারতের শক্তিমত্তার মূল জায়গা, স্পিনও ছিল অকার্যকর। যদিও উপমহাদেশের বাইরে স্পিন সহায়ক উইকেটের দেখা মেলে খুব কমই।
এই সব কিছু মাথায় নিয়ে ভারতের নতুন অধিনায়কের অভিমত, দেশের বাইরে সাফল্য পেতে পেসারদের টানা একই জায়গায় বল ফেলে যাবার কোন বিকল্প নেই। অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে এই জায়গাটায় ভারত পিছিয়ে ছিল স্বীকার করে কোহলি উদাহরণ হিসাবে টানলেন তরুন অস্ট্রেলিয়ান জশ হ্যাজেলউডের কথা। এই সিরিজেই অভিষিক্ত এই পেসারের কাছ থেকে ভারতের শিক্ষা নেয়া উচিত্ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়ার কাছ থেকে শেখার আছে অনেক কিছু। বিশেষ করে জশ হ্যাজেলউডের কাছ থেকে যে কিনা ক্যারিয়ারের একবারে শুরুর দিকে। তিন ম্যাচেই সে সঠিক জায়গায় বল করে যেতে সক্ষম হয়েছে। আমরা যদি টেস্ট ম্যাচ জিততে চাই তাহলে আমাদের এই জিনিসটা শিখতেই হবে। টেস্টে জিততে হলে আপনাকে বিশটি উইকেট নিতেই হবে। এটা একেবারে সহজ এবং পরিস্কার।’
কোহলির বিশ্বাস, তার দলের খেলোয়াড়দের অভিজ্ঞতা কিংবা প্রতিভায় ঘাটতি নেই, সমস্যা মানসিকতায়। কঠিন পরিস্থিতিতে মানসিক সক্ষমতাই মূল ভূমিকা রাখে জানিয়ে সিরিজে অবিশ্বাস্য ব্যাটিং ধারাবাহিকতা দেখানো এই মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান বলেন, ‘এটা (ভারতের সমস্যা) হতে পারে অনেক কিছুর সংমিশ্রন। প্রতিভার অভাব নেই। কারণ সেক্ষেত্রে তারা ভারতীয় দলে সুযোগই পেতেন না। তবে ব্যাপার হচ্ছে আপনাকে ধীরস্থির হতে হবে এবং চরিত্রটা হতে হবে এমন যে, আমি ক্লান্ত তবু দলের জন্য আমাকে দুটি উইকেট নিতে হবে। সুতরাং প্রথম স্পেলে আমি যে গতিতে বল করেছি এখনও সেই স্পেলেই করে যেতে হবে।’
এক্ষেত্রে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে লর্ডস টেস্টে ইশান্ত শর্মার ঐতিহাসিক পারফরম্যান্সের কথাও স্মরণ করিয়ে দেন তিনি।
দেশের মাটিতে ভারত এই কাজটি ঠিকভাবে করতে পারে বলেই দেশের মাটিতে তাদের সাফল্যের পাল্লা ভারী জানিয়ে সিরিজে চার সেঞ্চুরি করা কোহলি বলেন, ‘স্পিনাররা সেখানে খুব ভাল বল করেন। ফাস্ট বোলাররাও জানেন কিভাবে বল করতে হবে। তাদের পরিস্কার ধারণা আছে কোথায় বল ফেলতে হবে। তবে দেশের বাইরে খেলতে আসলেই আমরা বাউন্স নিয়ে খুব উত্তেজিত হয়ে যাই। আমাদের খুঁজে বের করতে হবে কোন ব্যাটসম্যানের বিরুদ্ধে কিভাবে বল করতে হবে এবং কোন জায়গায় বল করতে হবে।’
কোহলির কথায় বোলারদের পারফরম্যান্সে ইতিবাচক কোন পরিবর্তন আসে কিনা তার প্রমান পাওয়া যাবে খুব শীঘ্রই। ১৬ জানুয়ারি ইংল্যান্ডকে সাথে নিয়ে শুরু হচ্ছে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজ। ক্রিকইনফো অবলম্বনে