গাজীপুরে হরতালে যানবাহন ভাংচুর, অগ্নি-সংযোগ

আপডেট : ১২ জানুয়ারি ২০১৫, ১৩:৩৮

বিক্ষিপ্ত পিকেটিং, গাড়িতে আগুন দেয়ার ঘটনার মধ্য দিয়ে গাজীপুরে ২০ দলীয় জোটের ডাকা সকাল-সন্ধ্যা হরতাল চলছে। সোমবার সকালে টঙ্গীর চেরাগআলী মার্কেট এলাকায় একটি প্রাইভেটকারে, জয়দেবপুর রেল ক্রসিং এলাকায় সিমেন্টবাহী একটি ট্রাকে এবং দুপুরে চান্দনা নলজানি এলাকায় একটি সিএনজি অটোরিকশা আগুন দিয়েছে পিকেটাররা।
টঙ্গীর মার্কেট এলাকায় আগুন দেয়ার ঘটনায় পুলিশ এক পিকেটারকে আটক করেছে। এর আগে রবিবার রাতে মহানগরের ধীরাশ্রম এলাকায় একটি ট্রাকে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, সকালে টঙ্গীর চেরাগআলী মার্কেট এলাকায় একটি প্রাইভেটকারে আগুন দেয় এবং ইটপাটকেল ছুড়ে কয়েকটি গাড়ির কাচ ভাংচুর করে পিকেটাররা। পুলিশ ধাওয়া দিলে পিকেটাররা পালিয়ে যায়। এ সময় সেখান থেকে আরিফ হাওলাদার নামে একজনকে আটক করে। তিনি স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক। এদিকে জয়দেবপুর রেলক্রসিং এলাকায় একটি সিমেন্টবাহী আগুন দিয়ে পালিয়ে যায় পিকেটাররা। সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ এবং স্থানীয়রা আগুন নিভিয়ে ফেলে। দুপুরে পৌণে ১২টার দিকে ঢাকা-গাজীপুর সড়কের নলজানি এলাকায় পিকেটাররা একটি সিএনজি অটোরিকশা ভাংচুর করে তাতে আগুন ধরিয়ে দেয়। ভাংচুরের সময় আহত হয় সিএনজি অটো রিকশার চালক আসাদ (২৭)। সে গাজীপুরের শ্রীপুরের মোহাম্মদ আলীর ছেলে। এছাড়া রোববার রাতে ধীরাশ্রম এলাকায় একটি ট্রাকে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা।
গাজীপুর পুলিশ সুপার কার্যালয়ের বিশেষ শাখার ইন্সপেক্টর (ডিআইও-১) সিরাজুল ইসলাম জানান, অভিযান চালিয়ে নাশকতা সৃষ্টির পরিকল্পনার অভিযোগে ২০ দলীয় জোটের আরো দুই কর্মীকে আটক করা হয়েছে।
সকালে যানবাহন চলাচল কম থাকলেও বেলা বাড়ার সাথে সাথে যানবাহন চলাচল বৃদ্ধি পাচ্ছে। আভ্যন্তরীর রোড়ে বাস, লেগুনা, সিএনজি, ইজিবাইক, রিকশা জাতীয় যানবাহন চলাচল করছে। দুরপাল্লার বাস চলাচল করতে দেখা যায় নি। ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। জেলা শহর, চান্দনা চৌরাস্তা ও আশপাশ এলাকায় দোকানপাট বিপনী বিতান খোলা রয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০ দলীয় জোট নেত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে অবরুদ্ধ করে রাখা, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে এ হরতাল আহবান করা হয়েছে জেলা বিএনপি।