ঢাকার উদ্দেশে রওয়ানা হওয়ার অপেক্ষায় চট্টগ্রাম বন্দরে পড়ে থাকছে পণ্য বোঝাই কন্টেইনার। অবরোধের কারণে পুলিশ পাহারায় এবং নিজস্ব উদ্যোগে ঝুঁকি নিয়ে সড়কে কন্টেইনারবাহী যান চলাচল করলেও তা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কম। অন্যদিকে গত কয়েকদিন ধরে রেলে কন্টেইনার পরিবহন কমে গেছে। ইঞ্জিন সমস্যা, বিভিন্ন স্থানে দুর্ঘটনা ও নাশকতার কারণে রেলে যে সব কন্টেইনারের ঢাকা যাওয়ার কথা তা বন্দরেই পড়ে থাকছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম বন্দর থেকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় আড়াই থেকে তিন হাজার কন্টেইনার খালাসের জন্য ইনডেন্ট দিয়ে থাকে। কিন্তু গত কয়েক দিনে তা প্রায় দুই হাজারে নেমে এসেছে। বন্দরের বিভিন্ন জেটিতে বর্তমানে প্রায় ৪০ হাজার কন্টেইনার সক্ষমতা রয়েছে। তবে ৩০ হাজারের উপরে কন্টেইনার জমা হলে কর্তৃপক্ষ কন্টেইনার খালাসের জন্য সাধারণত বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকে। অর্থ বছরের নভেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত দেশে পণ্য আমদানি সবচেয়ে বেশি হয়ে থাকে। এ সময় বন্দর কর্তৃপক্ষ পণ্য ও কন্টেইনার দ্রুত খালাসে ব্যবস্থা নিয়ে থাকে।
সাম্প্রতিক সময়ে অবরোধের কারণে সড়ক ও রেলপথে কন্টেইনার এবং পণ্য পরিবহন তুলনামূলকভাবে কমে গেছে। সড়কপথে সাধারণত ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান এবং মুভারের মাধ্যমে পণ্য ও কন্টেইনার পরিবহন করা হয়। চট্টগ্রাম বন্দরে প্রতিদিন যে কন্টেইনার এসে থাকে তার প্রায় অর্ধেক কন্টেইনার বন্দরের জেটিতে খুলে খোলা পণ্য ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হয়। এর মধ্যে দুই ডজনের মতো পণ্য প্রাইভেট আইসিডি থেকে আমদানিকারকগণ খালাস নেয়। বন্দর দিয়ে যে পরিমাণ পণ্য বিদেশ থেকে আসে তার প্রায় ৭৫ ভাগ সড়কপথে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। শতকরা ১০/১২ ভাগ পণ্যবাহী কন্টেইনার রেলপথে ঢাকার কমলাপুর আইসিডিতে যায়। বাকি পণ্য নৌপথে দেশের অভ্যন্তরে পৌঁছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী গতকাল সোমবার বন্দরে কন্টেইনারের পরিমাণ ছিল ২৬ হাজার ৫৪৫টি। সাধারণত সপ্তাহের সোমবার কন্টেইনারের পরিমাণ সবচেয়ে কম থাকে। গত শনি ও রবিবার গড়ে কন্টেইনার ছিল ২৮ হাজারেরও বেশি। গত ২৪ ঘণ্টায় বন্দরে ২১ হাজার ১৩৯টি কন্টেইনার নামলেও খালাসের জন্য ইনডেন্ট ছিল ১ হাজার ৯০৫টি। এভাবে গত কয়েকদিন ধরে যে পরিমাণ কন্টেইনার আসছে তার বিরাট সংখ্যক খালাস নেয়া হচ্ছে না। ফলে বন্দরে কন্টেইনার সংখ্যা বাড়ছে।
এদিকে বন্দরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী গত এক জানুয়ারি থেকে ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত রেলপথে গড়ে প্রতিদিন ৮২টি করে কন্টেইনার ঢাকার আইসিডিতে আসে। রেলের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী প্রতিদিন ১২০টি কন্টেইনার নেয়ার কথা। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতির কারণে রেল চুক্তি অনুযায়ী কাজ করতে পারছে না। ফলে ঢাকামুখী কন্টেইনার চট্টগ্রাম বন্দরে আটকা পড়েছে। গতকাল সোমবারের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ঢাকা আইসিডিতে যাওয়ার জন্য বন্দরে ৮১২টি কন্টেইনার অপেক্ষায় রয়েছে। গতকাল আরো ১২৮টি কন্টেইনার জাহাজ থেকে নেমেছে। আগামী কয়েকদিন ধরে ঢাকামুখী কন্টেইনারের গতি বর্তমানের ন্যায় শ্লথ হলে পরিস্থিতির আরো অবনতি হবে, বন্দরে ঢাকাগামী কন্টেইনারের স্তূপ জমে যাবে বলে আশঙ্কা করছে রেলের ট্রাফিক বিভাগ।