আলুর বামপার ফলনেও মাথায় হাত পড়েছে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার কৃষকদের। গত বছরের ন্যায় এবারেও ২০দলীয় জোটের বিরতিহীন অবরোধ বিপাকে ফেলে দিয়েছে কৃষকদের। যদিও চুপিসারে দুই একটি যানবাহন চলাচল করলেও এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী বিরোধী দলের টানা অবরোধকে পুঁজি করে পানির দামে আলু ক্রয় করছে। ফলে কৃষকরা উত্পাদন খরচ তুলতে না পেরে লোকসান গুণতে শুরু করেছে। ব্যবসায়ীরা বলছে, এলাকা ভেদে যেখানে ঢাকায় এক ট্রাক আলু পরিবহনে ৪০ হাজার টাকা লাগতো সেখানে অবরোধে ট্রাক ভাড়া দ্বিগুণ বেড়েছে।
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় এ বছর আলুর বামপার ফলন হয়েছে। কারণ এবার কৃষকরা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে আলু আবাদ করেছে। এবারে এ উপজেলায় ৪ হাজার হেক্টর জমিতে আলু উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হলেও অর্জিত হয়েছে ৬ হাজার হেক্টরেরও বেশি।
কৃষকদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, বর্তমানে যে দামে নতুন আলু বিক্রি হচ্ছে তাতে উত্পাদন খরচ উঠছে না। অবরোধের আগে আলু পাইকারিভাবে ২০টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছিল। এর আগে এই আলু বিক্রি হয় ৪০ টাকা কেজি দরে। ২০ দলীয় জোটের ডাকা অবরোধে কারণে মাঠপর্যায়ে এখন চার-পাঁচ টাকা কেজি দরে আলু বিক্রি হচ্ছে। মূলত শৈত্যপ্রবাহ আর ঘন কুয়াশার ছড়িয়ে পড়ার আতঙ্কে হরতাল-অবরোধের সময় মাঠের আলু বাজারে পৌঁছতে না পেরে এবার বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন আলু চাষীরা।
কৃষকদের অভিযোগ গত বছরেও ২০ দলীয় জোট এই সময় টানা অবরোধ ও হরতাল ডেকে আলু চাষিদের লোকসানে ফেলে দিয়েছিল। এবারো একই সময়ে টানা অবরোধ ডেকে কৃষকদের গলায় ফাঁস লাগিয়েছে। বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে ক্ষেতে আলুর গাছ পরিপুক্ত হলেও অনেক কৃষক আলু উত্তোলনে সাহস করতে পারছে না। স্থানীয় ফড়িয়ারা কৃষকদের পানির দামে আলু বিক্রির দাম বলছে।
