দূরপাল্লার বাসে যাত্রী নেই ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয়

আপডেট : ১৪ জানুয়ারি ২০১৫, ০০:৩৩

যাত্রী সংকটে পড়েছে দূরপাল্লার পরিবহন। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ডাকা অনির্দিষ্টকালের অবরোধ কর্মসূচির দ্বিতীয় দিন থেকে পুলিশ পাহারায় রাজধানী থেকে দূরপাল্লার সীমিত সংখ্যক বাস চলাচল শুরু হয়। তবে ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-সিলেট, ঢাকা-ময়মনসিংহ, ঢাকা-বেনাপোল রুটে পুলিশ পাহারায় দূরপাল্লার বাস চলাচল করলেও উত্তরবঙ্গের বেশ কয়েকটি রুটে অবরোধের অষ্টম দিন গতকালও দূরপাল্লার কোন বাস চলাচল করেনি।

অপরদিকে রেলওয়ের পূর্বাঞ্চল বিভাগে গত দুই দিন ধরে চলছে  ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয়। এতে যাত্রীরা পড়েছেন চরম দুর্ভোগে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা পরিবার পরিজন নিয়ে রেলযাত্রীদের অপেক্ষা করতে হচ্ছে স্টেশনে। এদিকে গাড়ি ভাংচুরকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন নৗ-পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান।
ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় সম্পর্কে রেলপথ সচিব মনসুর আলী সিকদার বলেন,  নিরাপত্তার কারণে ট্রেন চলাচলের গতি কমানো হয়েছে। পাশাপাশি কুয়াশার কারণেও সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করেছে। তবে খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে এ পরিস্থিতির অবসান হবে বলে তিনি আশাবাদী। তিনি বলেন, দেশের ২ হাজার ৮৭৭ কিলোমিটার দীর্ঘ রেলপথের এক হাজার ৪১টি ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টে জিআরপি, আরএনবিও পুলিশের পাশাপাশি  মোতায়েন করা হয়েছে আট হাজার আনসার ও ভিডিপি সদস্য। তবে গতকাল দেশের কোথাও কোন ধরনের নাশকতার খবর পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহ বলেন, সরকারের নিরাপত্তার আশ্বাসের ভিত্তিতে দূরপাল্লার বাস নগরীর তিনটি টার্মিনাল থেকে চলাচল শুরু করেছে ৬ দিন ধরে। কিন্তু যাত্রী সংকটের কারণে পর্যাপ্ত সংখ্যক গাড়ি চালানো সম্ভব হচ্ছে না। গতকাল পর্যন্ত ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা- সিলেট, ঢাকা-ময়মনসিংহ, ঢাকা-যশোর-বেনাপোল রুটে পুলিশ পাহারায় গাড়ি চলাচল করছে। তবে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা না পাওয়ার কারণে উত্তরবঙ্গের গাইবান্ধা, ঠাকুরগাঁও, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া রুটে বাস চলাচল শুরু করা যায়নি। তিনি বলেন, ঢাকার আশপাশ এলাকায় বাস চলাচল  স্বাভাবিক রয়েছে।
বিলাসবহুল শ্যামলী পরিবহনের মালিক রমেশ চন্দ্র ঘোষ বলেন, ঢাকা-বেনাপোল-কলকাতা, ঢাকা-সিলেট, ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে তার পরিবহনসহ অন্যান্য পরিবহনের কিছু বাস ছেড়েছে। কিন্তু নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে দেশের উত্তরাঞ্চলের কোন রুটে বাস ছাড়েনি। তিনি বলেন, সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে যাত্রী সংকট। যাদের খুব প্রয়োজন সেই যাত্রীরাই ঝুঁকি নিয়ে বাসে উঠছেন।
হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত প্রধান অতিরিক্ত ডিআইজি এস এম কামাল হোসেন বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-সিলেট, ঢাকা-ময়মনসিংহ, ঢাকা-যশোর রুটে দূরপাল্লার বাস চলাচল করছে। তবে বগুড়া ও গাইবান্ধাসহ বেশ কটি রুটে বাস চলাচল চালু করা যায়নি। ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম রুটে পণ্যবাহী কাভার্ডভ্যান ও ট্রাক চলাচল অনেকটা স্বাভাবিক হয়েছে।
ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয়:রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল বিভাগে গত দুদিন থেকে ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় চরম আকার ধারণ করেছে। যাত্রীরা পড়েছেন চরম দুর্ভোগে। যাত্রীদের অভিযোগ, শিডিউল বিপর্যয়ের জন্য কর্তৃপক্ষই দায়ী। ইচ্ছা করলে কর্তৃপক্ষ শিডিউল বিপর্যয় দেড় থেকে দুই ঘণ্টার মধ্যে নিয়ে আসতে পারে।
রেল সূত্র জানায়,  চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা কিংবা সিলেট রুটে সব কটি ট্রেন শিডিউল বিপর্যয়ে পড়েছে। কোন ট্রেনের শিডিউল ঠিক নেই। এর মধ্যে রয়েছে চট্টগ্রাম- ঢাকা রুটের সুবর্ণ আন্তঃনগর পাহাড়িকা এক্সপ্রেস, আন্তঃনগর উদয়ন এক্সপ্রেস, মহানগর প্রভাতী, মহানগর গোধূলি, তূর্ণা নিশীথা এক্সপ্রেস, চট্টলা এক্সপ্রেস, চাঁদপুরগামী মেঘনা ও সাগরিকা এক্সপ্রেস, লাকসাম কমিউটার ডেমু ট্রেন, ময়মনসিংহের আন্তঃনগর বিজয় এক্সপ্রেস।
শিডিউল বিপর্যয় সম্পর্কে রেলপথ সচিব মনসুর আলী সিকদার বলেন, ‘নাশকতা থেকে ট্রেন রক্ষায় চালকদের রাতে ঘণ্টায় ৪০ কিলোমিটার গতিতে চালাতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি কুয়াশার কারণে সমস্যা আরো ব্যাপক হয়েছে। ফলে ট্রেনের সাময়িক শিডিউল বিপর্যয় হচ্ছে। আশা করি আজ-কালের মধ্যে এ পরিস্থিতির উন্নতি হবে।
গাড়ি ভাংচুরকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ:  নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান আন্দোলনের নামে গাড়ি ভাংচুর এবং জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে মানুষ হত্যার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। অবরোধের সময় পেট্রোল বোমা হামলায় আহতদের দেখতে গতকাল ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে গিয়ে এ আহ্বান জানান।
শাজাহান খান বলেন, হরতাল ও অবরোধের নামে এ ধরনের ধ্বংসাত্মক কার্যক্রম ইতিহাসের নির্মম ঘটনা। এসব মর্মান্তিক ঘটনার বিরুদ্ধে জনরোষ সৃষ্টি হবে। তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে ।

মন্ত্রী আহতদের চিকিত্সার খোঁজখবর নেন এবং তাদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন। তার সঙ্গে ছিলেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী, সাংগঠনিক সম্পাদক মোখলেসুর রহমান, বার্ন ইউনিটের অধ্যাপক মো. আবুল কালাম এবং ডা. মোঃ হেদায়েত আলী খান প্রমুখ।