বিরোধী দলের চলমান অবরোধের কারণে পর্যটনের ভরা মৌসুমেও বান্দরবান পর্যটকশূন্য হয়ে পড়েছে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি এ জেলায় ধস নেমেছে পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়। লোকসান গুনছেন আবাসিক হোটেল-মোটেল, গেস্ট হাউজ এবং রেস্টুরেন্ট মালিকরা। গড়ে প্রতিদিন প্রায় সাড়ে ১১ লাখ টাকা ক্ষতি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।
পর্যটন রিসোর্ট ‘হলিডে ইন’-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাকির হোসেন জানান, ‘দু’বছর ধরে চলমান রাজনৈতিক অচলাবস্থায় ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়েছিল পর্যটন শিল্প। গত বছরের নভেম্বর থেকে ব্যবসায় স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসতে শুরু করে। কিন্তু আবারও রাজনৈতিক অস্থিরতায় ধস নেমেছে এ ব্যবসায়।’
পালকি গেস্ট হাউজের ম্যানেজার মোহাম্মদ মিটু বলেন, ‘কয়েকদিন ধরে গেস্ট হাউজের কক্ষগুলো খালি। অগ্রিম বুকিং করা রুমের টাকাও ফেরত নিচ্ছেন পর্যটকেরা। সহসা রাজনৈতিক পরিস্থিতির উত্তরণ না ঘটলে এই শিল্প ধ্বংস হয়ে যাবে।’
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যটনের ভরা মৌসুম। প্রতিবছর এই সময়ে বান্দরবানের পর্যটন স্পটগুলোতে দেশি-বিদেশি পর্যটকের ঢল নামে। কিন্তু অবরোধের কারণে এখন পর্যটকশূন্য হয়ে পড়েছে নীলাচল, মেঘলা, চিম্বুক, স্বর্ণ মন্দির, শৈল প্রপাত, বগালেক ও নীলগিরিসহ জেলার পর্যটন স্পটগুলো। বান্দরবান হিলসাইড রিসোর্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাসান মনসুর বলেন, বিদেশি পর্যটকরাও বাংলাদেশ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন।
এছাড়া ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন পর্যটকদের উপর নির্ভরশীল কোমর তাঁত এবং হস্তশিল্পের সঙ্গে জড়িত পাহাড়িরা। স্থানীয় ব্যবসায়ী থুইনকেল বম জানান, পর্যটক না থাকায় তাঁতে তৈরি কাপড়-পোশাক এবং বাঁশের তৈরির হস্তশিল্পের বিক্রি একদম কমে গেছে। এ শিল্পের সঙ্গে সম্পৃক্ত প্রায় এগারো হাজার মানুষ আর্থিক সংকটে ভুগছেন। পরিবহন শ্রমিক মোহাম্মদ মনসুর বলেন, জেলায় পর্যটকবাহী একশ’ থেকে দেড়শ’টি জীপসহ অন্যান্য ট্যুরিস্ট গাড়ি রয়েছে। পর্যটক না আসায় এসব গাড়ির শ্রমিকরা ভীষণ কষ্টে আছেন।
জেলা পর্যটন হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম বলেন, নতুন বছরের শুরুতে প্রতিবছর জেলা সদরের ৪৫টি হোটেল-মোটেল, রিসোর্ট, শতাধিক ট্যুরিস্ট গাড়ি এবং পর্যটন স্পটগুলো পর্যটকে ভরপুর থাকে। কিন্তু এখন সবগুলো ফাঁকা পড়ে আছে। এতে গড়ে প্রতিদিন প্রায় সাড়ে ১১ লাখ টাকা ক্ষতি হচ্ছে। এভাবে আরো কিছুদিন চললে লোকসানের কারণে সংশ্লিষ্ট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ হয়ে যাবে। পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে সরকার এবং বিরোধী দলকে ক্ষতিকর কর্মসূচি পরিহারের দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
জেলা প্রশাসনের ডেপুটি নেজারত এইচএম আল মুজাহিদ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, পর্যটন মৌসুমের কথা চিন্তা করেই পর্যটন স্পটগুলোর সৌন্দর্যবর্ধন করা হয়েছে। পর্যটকদের নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। কিন্তু তারপরও স্পটগুলো জনশূন্য অবস্থায় পড়ে রয়েছে।
