এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর মোট দেশজ উত্পাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির হার ২০১৪ সালের তুলনায় ২০১৫ সালে বাড়বে। আর কমে আসবে মূল্যস্ফীতির হার। বাংলাদেশেও একই পরিস্থিতি দেখা যাবে। এ অঞ্চলের দেশগুলো কাঠামোগত সংস্কার অব্যাহত রাখার ফলেই প্রবৃদ্ধি বাড়বে। চলতি অর্থবছর বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার হবে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ। জাতিসংঘের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশন (ইউএন-এসকাপ) এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলীয় দেশগুলোর আর্থসামাজিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে এসব পূর্বাভাস দিয়েছে।
পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এই অঞ্চলের সার্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার ২০১৪ সালের ৫ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০১৫ সালে ৫ দশমিক ৮ শতাংশে উন্নীত হবে। নতুন বছরে বাংলাদেশ, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া ও থাইল্যান্ড সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে। আর এটা সম্ভব হবে এসব দেশের কাঠামোগত সংস্কার অব্যাহত রাখার কারণে। এ দেশগুলো অবকাঠামোগত দুর্বলতা দূর করতে পারলে প্রবৃদ্ধি অর্জনের গতি আরো বাড়তে পারে। এ দিকে, এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর মূল্যস্ফীতির হার ২০১৪ সালের ৩ দশমিক ৯ শতাংশ থেকে কমে ২০১৫ সালে ৩ দশমিক ৫ শতাংশে নেমে আসবে।
বাংলাদেশ প্রসঙ্গে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির হার বিগত অর্থবছরে ৬ দশমিক ১ শতাংশ ছিল। তা চলতি বছরে ৬ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত হবে। একই সময়ে গড় মূল্যস্ফীতির হার আগের বছরের ৭ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে ৬ দশমিক ৫ শতাংশে নেমে আসবে। বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি অর্জনের পেছনে চালিকা হিসেবে প্রবাসী-আয়ের গতিশীলতা, মূল্যস্ফীতির চাপ সহনীয় হওয়া, সংকুলানমুখী রাজস্ব নীতি এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি চাঙা হওয়ায় রপ্তানি বৃদ্ধি বড় অবদান রাখবে। এ দিকে, বাংলাদেশের গার্মেন্ট সেক্টরে কিছু সংস্কারগত কর্মকাণ্ডের ফলে বস্ত্র রপ্তানি বাড়তে শুরু করেছে। তবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমায় মধ্যপ্রাচ্যের তেল রপ্তানিকারক দেশগুলো থেকে প্রবাসী-আয় প্রবাহ কমতে পারে। তাতে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার সম্ভাব্য আয়ের ওপর কিছুটা প্রভাব পড়তে পারে। আর জ্বালানি তেলের অব্যাহত দরপতনে রাশিয়া ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও দক্ষিণ কোরিয়া, ফিলিপাইন, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, তুরস্ক, ভারত ও চীনের অর্থনীতি উপকৃত হবে।
