ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নারের সেঞ্চুরিতে শুক্রবার সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া তিন উইকেটে হারিয়েছে ইংল্যান্ডকে।
ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে প্রথম ম্যাচেই সেঞ্চুরি হাঁকান ইয়োইন মরগান। কিন্তু আক্রমণাত্মক বাঁ-হাতি ওয়ার্নারের সেঞ্চুরির সুবাদে ৪০ ওভারের মধ্যেই লক্ষ্যে পৌঁছে বোনাস পয়েন্টসহ জয় নিশ্চিত করে অস্ট্রেলিয়া ।
প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে ইংল্যান্ড। তারপরও মরগানের ১২১ রানের সুবাদে ৪৭.৫ ওভারে সব ক’টি উইকেট হারিয়ে ২৩৪ রান করতে সক্ষম হয় ইংলিশরা। ১৩৬ বল মোকাবেলায় ১১টি বাউন্ডারি ও তিনটি ওভার বাউন্ডারি হাঁকান মরগান।
এরপর ওয়ার্নারের ১২৭ রানের সুবাদে ৬১ বল হাতে রেখে অর্থাৎ ৩৯.৫ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে জয়ের লক্ষ্যমাত্রা ২৩৫ রান স্পর্শ করে অস্ট্রেলিয়া। সর্ব শেষ ২০১২ সালে শ্রীলংকার বিপক্ষে ব্যাক টু ব্যাক শত রান করার দীর্ঘ দিন পর ওয়ানডে ক্রিকেটে সেঞ্চুরির খড়া কাটালেন ওয়ার্নার।
১১৫ বল মোকাবেলায় ১৮টি বাউন্ডারি হাকানো ওয়ার্নার যখন আউট হন তখন বোনাস পয়েন্টসহ জয় পেতে অসিরা মাত্র ৮ রান দুরে ছিল।
এ ম্যাচে পরাজয়ের ফলে নিজেদের সর্বশেষ ১৪টির মধ্যে মাত্র ৩টি ওয়ানডেতে জয় পেল ইংল্যান্ড। তাই আগামী মাসে শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপের আগে ইংলিশদের মনোবলে আরো একটা ধাক্কা খেল।
ভারত সহ ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচে এলিস্টার কুকের বদলী হিসেবে অধিনায়কত্ব পাওয়া মরগান টসে জিতে প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেন।
ওয়ানডে ক্রিকেটে তার ষষ্ঠ সেঞ্চুরির সুবাদে ৪৭.৫ ওভারে অলআউট হওয়ার আগে সফরকারী দলটি লড়াই করার মত স্কোর গড়তে সক্ষম হয়।
ইনিংসে ৩০ এর বেশি রান করতে সক্ষম হওয়া একমাত্র ব্যাটসম্যান ছিলেন মরগান।
নিজের গত ২০ ওয়ানডে ইনিংসের পর এই প্রথম সেঞ্চুরির দেখা পাওয়া মরগান এ সময়ের মধ্যে হাফ সেঞ্চুরিও পেয়েছেন মাত্র একটি।
মাত্র ১২ রানেই ৩ উইকেট হারিয়ে ফেলার পর ইনিংস মেরামতে নজর দিতে হয় মরগানকে।
প্রথম বলেই আঘাত হানে স্বাগতিকরা। বাঁ-হাতি পেসার মিচেল স্টার্কের ফাঁদে পড়ে কোন রান না করেই সাজ ঘরে ফেরেন ওপেনার ইয়ান বেল।
বেল আউট হওয়ার ক্রিজে আসা জেমস টেইলরও মাত্র দুই বল পরই রানের খাতা খোলার আগেই এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়েন।
প্যাট কামিন্সের বলে শেন ওয়াটসনের হাতে ধরা পড়ে ৫ রানে জো রুট বিদায় নেয়ার পর ক্রিজে আসেন মরগান।
শেষ পর্যন্ত ৪৮ তম ওভারে স্টার্কের বলে ম্যাক্সওয়েলের হাতে ক্যাচ দিয়ে মাঠ ছাড়েন ইংলিশ অধিনায়ক।
৮.৫ ওভার বোলিং করে ৪২ রানে ৪ উইকেট শিকারী স্টার্ক ম্যাচ সেরা নির্বাচিত হন।
স্কোর কার্ড:
ইংল্যান্ড ইনিংস:
আই বেল এলবিডব্লিউ ব স্টার্ক ০
এম আলি ক ম্যাক্সওয়েল ব ফকনার ২২
জে টেইলর এলবিডব্লিউ ব স্টার্ক ০
জে রুট ক ওয়াটসন ব কামিন্স ৫
ই মরগান ক ম্যাক্সওয়েল ব স্টার্ক ১২১
আর বোপারা ক ম্যাক্সওয়েল ব ডোহার্তি ১৩
জে বাটলার ক ওয়ার্নার ব ফকনার ২৮
সি ওকস ক স্মিথ ব ম্যাক্সওয়েল ৮
সি জর্ডান ক ম্যাক্সওয়েল ব ফকনার ১৭
এস ব্রড অপরাজিত ০
এস ফিন ব স্টার্ক ০
অতিরিক্ত( বা-২, লেবা-৩, ও-১৪, নেব-১) ২০
মোট (অল আউট, ৪৭.৫ ওভার) ২৩৪
উইকেট পতন: ১-০, ২-০, ৩-১২, ৪-৩৩, ৫-৬৯, ৬-১৩৬, ৭-১৬৮, ৮-২২৪,, ৯-২৩৪, ১০-২৩৪।
বোলিং:
স্টার্ক ৮.৫-০-৪২-৪(ও-১)
কামিন্স ৯-১-৪২-১(নোব-১,ও ৫)
ওয়াটসন ৪-০-২৩-০(ও-১)
ফকনার ১০-১-৪৭-৩(ও-১)
ম্যাক্সওয়েল ৬-০-৩৭-১
ডোহার্তি ১০-০-৩৮-১(ও-২)।
অস্ট্রেলিয়া ইনিংস :
ডি ওয়ার্নার ক বেল ব ওকস ১২৭
এ ফিঞ্চ ব ওকস ১৫
এস ওয়াটসন ক ওকস ব জর্ডান ১৬
এস স্মিথ ব আলি ৩৭
জি বেইলি ক বাটলার ব ওকস ০
বি হাডিন রান আউট (বোপারা) ১৬
জে ফকনার নট আউট ৬
এম স্টার্ক নট আউট ০
অতিরিক্ত (লেবা-৭, ও-১) ৮
মোট (৭ উইকেট, ৩৯.৫ ওভার) ২৩৫
উইকেটের পতন : ১-৩৩, ২-৭১, ৩-১৫৮, ৪-১৯৯, ৫-২০০, ৬-২২৭, ৭-২৩৩।
বোলিং :
ওকস ৮-১-৪০-৪
ফিন ৮-১-৪৮-০
ব্রড ৬.৫-০-৪৯-০
জর্ডান ৬-০-৩৩-১
আলি ৯-০-৪৫-১ (ও-১)
বোপারা ২-০-১৩-০
অস্ট্রেলিয়া ৩ উইকেটে জয়ী
ম্যান অব দ্য ম্যাচ : এম স্ট্রার্ক (অস্ট্রেলিয়া)
টস : ইংল্যান্ড।
