ঐ দিন তিন নম্বরে ব্যাটেই আসতে চাননি ডি ভিলিয়ার্স

আপডেট : ১৯ জানুয়ারি ২০১৫, ১৮:১১
 
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ৩১ বলে সেঞ্চুরি করে নতুন বিশ্ব রেকর্ডের জন্ম দিয়েছেন দক্ষিন আফ্রিকার অধিনায়ক এবি ডি ভিলিয়ার্স। দ্রুত সেঞ্চুরি করে শুধুমাত্র একটি রেকর্ডের ভাগিদারি হননি তিনি। হয়েছেন বেশ কিছু রেকর্ডের মালিকও। নিজের এমন ইনিংসে উত্ফুল্ল ডি ভিলিয়ার্স। তবে ঐ সময় ডেভিড মিলারকে ক্রিজে চেয়েছিলেন তিনি। তবে কোচ চেয়েছিলেন ৩০ বছর বয়সী ডি ভিলিয়ার্সই ব্যাটিং করুক, ‘প্রথম উইকেট পতনের পর আমি চেয়েছিলাম তিন নম্বরে ব্যাট করুক ডেভিড মিলার। কিন্তু কোচ চেয়েছিলো আমি ক্রিজে যাই। ক্রিজে গিয়ে প্রথমে সেট হতে চেয়েছিলাম। তবে যা হয়েছে তা ভাগ্যের সহায়তায় হয়েছে।’
 
জোহানেসবার্গে টস জিতে দক্ষিন আফ্রিকাকে প্রথমে ব্যাটিং-এর আমন্ত্রণ জানায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। প্রথমে ফিল্ডিং করার এমন সিদ্বান্ত যখন ক্যারিবীয় নতুন অধিনায়ক জেসন হোল্ডার নেন, তখন একটুও কি ভাবতে পেরেছিলেন- আজ ‘ডি ভিলিয়ার্স’-ঝড় বইবে তার দলের বোলারদের উপর! ভাবেননি, ভাবার কথাও নয়। ডি ভিলিয়ার্স নিজেও তো ভাবেননি, কি হবে আজ!
উদ্বোধনী জুটিতে হাশিম আমলা ও রিলি রসউ ২৪৭ রানের জুটি গড়েন। এরমধ্যে দু’জনই পেয়েছেন সেঞ্চুরির দেখা। ১২৮ রান করে রসউ যখন আউট হন, তখন দলের স্কোর ৩৮ দশমিক ৩ বলে ২৪৭ রান। তবে আউট হবার কিছুক্ষন আগে দক্ষিণ আফ্রিকার ড্রেসিং রুমে হয়ে যায় মিনি এক বৈঠক। দলের কোচ রাসেল ডোমিঙ্গো চেয়েছিলেন, ‘তিন নম্বরে ব্যাটিং করুক ডি ভিলিয়ার্স।’ আর ডি ভিলিয়ার্স চেয়েছিলেন, ‘তিন নম্বরে ব্যাটিং করুক ডেভিড মিলার।’ এই একই বিষয় নিয়ে চার-পাঁচবার আলোচনাও হয় ডোমিঙ্গো-ডি ভিলিয়ার্সের মধ্যে।
অবশেষে কোচের কথা রাখলেন ডি ভিলিয়ার্স। যখন ক্রিজে গেলেন তখন দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংসের ১১ দশমিক ৩ বল বাকী। ক্রিজে গিয়ে আমলার সাথে নিজের পরিকল্পনাও সেড়ে নেন ডি ভিলিয়ার্স। কথোপকথনটি ছিল এমন, ‘২/১ ওভার দেখে এরপর মারমুখী ব্যাট চালানো।’ কিন্তু তর সইলো না ডি ভিলিয়ার্সের। মুখোমুখি হওয়া নিজের প্রথম বলেই মিড-অন দিয়ে বাউন্ডারি হাকালেন তিনি। এরপর যেন আরও দুর্ধষ হয়ে উঠেন এবি।

১৬ বলে হাফ-সেঞ্চুরি স্পর্শ করে নতুন রেকর্ডের জন্ম দেন ডি ভিলিয়ার্স। ১৯৯৬ সালে সিঙ্গাপুরে পাকিস্তানের বিপক্ষে ১৭ বলে হাফ-সেঞ্চুরি করেছিলেন সনাথ জয়সুরিয়া। হাফ-সেঞ্চুরি করে আরও ভয়ংকর হলেন প্রোটিয়াস অধিনায়ক। এরপরের ৫০ রান করেন মাত্র ১৫ বলে অর্থ্যাত্ ৩১ বলে সেঞ্চুরি স্পর্শ করে আরও একটি নতুন রেকর্ডের জন্ম দেন ডি ভিলিয়ার্স।