আমাদের কী অপরাধ?

আপডেট : ২২ জানুয়ারি ২০১৫, ০০:৪৭

এবার অবরোধে সহিংসতার শিকার হলেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্র ও দুই কর্মক্ষম ব্যক্তি। বাসে করে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর সাভার থেকে কালিয়াকৈর যাওয়ার পথে পেট্রোল বোমা হামলার শিকার হন তারা। পর পর ছোঁড়া দুটি পেট্রোল বোমা তাদের সব স্বপ্ন ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছে।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিত্সাধীন এই চারজন বলেন, আমাদের কি অপরাধ? আমরা কোন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী নই, রাজনীতি করি না, বুঝিও না। পেট্রোল বোমা মেরে আমাদের পুড়িয়ে মারার অর্থ কি? রাস্তায় বের হওয়াটাই কি আমাদের অপরাধ?
দগ্ধ ওই চার জন ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রথম বোমা ছোঁড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাসে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। ধোঁয়ায় যাত্রীরা কিছু দেখতে পাচ্ছিল না। আত্মরক্ষায় যে যেভাবে পেরেছে নেমেছে বাস থেকে। গেট দিয়ে যাত্রীরা নামার সময় দ্বিতীয় পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করা হয়। এতেই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র রাজীব কর্মকার (২০) ও প্রীতিরাজ চক্রবর্তী (২১), বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা নিতাই সরকার (৫৭) ও অটোরিকশা চালক আবদুর রশিদের (৫০) দেহের বিভিন্ন স্থান পুড়ে যায়।
জানা গেছে, রাজীব কর্মকার মোহাম্মদপুর কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ও প্রীতিরাজ চক্রবর্তী বিবিএ’র ছাত্র। তারা প্রথম বর্ষে পড়তেন। রাজীবের পিতা সুধীর কর্মকার পেশায় স্বর্ণকার। রাজীব তাদের একমাত্র পুত্র সন্তান। রাজীবকে ঘিরে পিতার ছিল অনেক স্বপ্ন। পেট্রোল বোমায় রাজীবের দুই হাত ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এখন রাজীবের লেখাপড়া অনিশ্চিত হয়ে গেছে। রাজীব বার্ন ইউনিটের বিছানায় শুয়ে নীরবে চোখের পানি ছাড়ছেন। 
প্রীতিরাজের পিতা চন্দন চক্রবর্তী গাউছিয়া মার্কেটের একটি দোকানের সেলসম্যান। লেখাপড়া শিখে পুত্র পিতাকে পরিশ্রম থেকে রেহাই দিবে এমন স্বপ্ন দেখতেন তিনি। পেট্রোল বোমা প্রীতিরাজের স্বপ্ন ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন করে দিল। তার দুই হাত পেট্রোল বোমায় মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে। দুই ছাত্রের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার সম্ভাবনা কম বলে চিকিত্সকরা জানান। জানা গেছে, তারা দুইজনই বন্ধু এবং হাজারীবাগ এলাকায় তাদের বাসা।
নিতাই সরকারের এক ছেলে ও এক মেয়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করে। চাকরি ছিল নিতাই সরকারের একমাত্র আয়। পেট্রোল বোমায় কেড়ে নিল নিতাই সরকারের সুখের সংসার। দুই সন্তানের লেখাপড়া এখন অনিশ্চিত। দুই হাত ও পায়ের বেশকিছু অংশ পুড়ে যায় তার। স্ত্রী সন্ধ্যা রানী সরকার স্বামীকে সান্ত্বনা দিচ্ছেন।

অটোরিকশা চালক আবদুর রশিদের দেহের বেশিরভাগ অংশ পুড়ে গেছে। তার অবস্থা আশংকাজনক। তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের বার্ন ইউনিটের ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে রাখা হয়েছে। তার চার ছেলে। তার একার আয়ে সংসার চলে। দগ্ধ রশিদ এমন অবস্থার মধ্যেও বলছেন, অটোরিকশা না চালালে আমার সন্তানরা না খেয়ে থাকবে। আমার কি অপরাধ? আমাকে কেন পেট্রোল বোমা মেরে পুড়িয়ে দিল? এখন আমি কি করব? অসহায় রশিদের কান্না কি অবরোধকারীরা শুনবেন?