নাদালের বিদায়, সেমিতে শারাপোভা

আপডেট : ২৭ জানুয়ারি ২০১৫, ১৮:৫৫
রাফায়েল নাদাল বিদায় নিলেন অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে। চেক প্রজাতন্ত্রের টমাস বার্ডিচের কাছে হেরে গেছেন ৬-২, ৬-০, ৭-৬(৭-৫) গেমে। গ্র্যান্ড স্ল্যামে ক্যারিয়ারের অন্যতম হতাশাজনক এই ফলের দায় পুরোটাই নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন নাদাল। বলেছেন, চোট কিংবা ম্যাচ প্রাকটিসের অভাব নয়; নিতান্ত নিজের বাজে পারফরম্যান্সের কারণেই হারতে হয়েছে তাকে। অন্য কোয়ার্টারে অস্ট্রেলিয়ান তরুণ নিক কিরগোয়েসকে হারিয়ে সেমিতে গেছেন অ্যান্ডি মারে।
মহিলা এককে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে গ্ল্যামারাস ম্যাচে মারিয়া শারাপোভা উড়িয়ে দিয়েছেন কানাডিয়ান সুন্দরী ইউজিন বুচার্ডকে। শেষ চারে জায়গা করে নিয়েছেন একেতেরিনা ম্যাকারোভাও।
দ্বিতীয় রাউন্ডে আমেরিকার টিম স্মিজচেকের কাছে হারতে হারতে বেঁচে যাওয়া নাদাল মঙ্গলবার আর নতুন কোন প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখতে পারেননি। প্রথম সেটে উড়ে যাবার পর কোথায় ঘুরে দাঁড়াবেন উল্টো হয়ে গেছেন পুরোপুরি বিধ্বস্ত।
২০০৬ সালে উইম্বলডন ফাইনালে রজার ফেদেরার যেটা করেছিলেন প্রায় এক দশক পর নাদালকে সেই লজ্জ্বা আবার উপহার দিয়েছেন বার্ডিচ। এই সেটে একটি গেমও জিততে পারেননি তৃতীয় বাছাই এই স্প্যানিয়ার্ড।
পুরো ম্যাচে নাদাল পেয়েছেন মাত্র আটটি পয়েন্ট। কোন গ্র্যান্ড স্ল্যাম ম্যাচে এর আগে মাত্র একবারই এর চেয়ে কম গেম জিতেছিলেন এই ২৮ বছর বয়সী। ইউএস ওপেনের ২০০৯ আসরে দেল পোত্রোর বিরুদ্ধে ছয়টি গেম জিতেছিলেন নাদাল।
ব্যর্থতার এত এত নতুন লজ্জা; তবে ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে নাদালের কথা শুনে মনে হলো সবকিছুকে সহজভাবেই নিচ্ছেন তিনি। নির্দিষ্ট কোন কারণ নয়, ম্যাচে নিজের সামগ্রিক পারফরম্যান্সকেই হতাশাজনক আখ্যায়িত করলেন তিনি। তবে স্বীকার করে নিলেন, এই ম্যাচে বিস্মরণযোগ্য এক নাদালকেই দেখেছেন দর্শকরা। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মায়োরকার যুবরাজ বলেন, ‘না না মোটামুটি মানের পারফরম্যান্স নয়, আজকের ম্যাচটা ছিল খুব বাজে। আপনারা সেটা বলতে পারেন, কোন সমস্যা নেই।’
এরপরে জানালেন ম্যাচের তালের সঙ্গে কখনোই নিজেকে মানিয়ে নিতে পারেননি তিনি, ‘আমি ঠিক আছি। এটা আমার দিন ছিল না। আমি ঠিক গতির সাথে তাল মেলাতে পারিনি। ছন্দও ছিল না। তাছাড়া প্রতিপক্ষ শ্রেয়তর খেলোয়াড় হিসাবেই জিতেছে। আসলে খেলার জগতে কখনো কখনো এমন সময় আপনাকে মোকাবেলা করতেই হবে যখন আপনার প্রতিপক্ষ আপনার চেয়ে ভাল খেলবে।’
ম্যাচে পাঁচবার নাদালের সার্ভে পয়েন্ট নিয়েছেন বার্ডিচ। পাশাপাশি ছয় বার ডাবল ফল্ট করে টুর্নামেন্টের সপ্তম বাছাই এই তারকার জয়টাকে আরো সহজ করে দিয়েছেন নাদাল নিজেই। নিজের সার্ভে পয়েন্ট হারানোটাই ম্যাচে পার্থক্য গড়ে দিয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘শুরু থেকেই আমি তার সুবিধা করে দিচ্ছিলাম। প্রতি সেটের শুরুতে একটি কিংবা দুটি ব্রেক পয়েন্ট হারানোটা সমস্যাজনক। আপনার পয়েন্ট যখন (শুরুতেই) বেশী হয়ে যাবে তখন আপনি অনেক সুবিধা পাবেন। এটা আসলেই বড় একটা ব্যাপার। বড় পার্থক্য গড়ে দিয়েছে এটা।’
অন্য ম্যাচে স্বাগতিক দর্শকদের একচ্ছত্র সমর্থন কাজে আসেনি কিরগোয়েসের। মারে জিতেছেন ৬-৩, ৭-৬ (৭-৫), ৬-৩ গেমে।
মহিলা এককে দুই গ্ল্যামার গার্লের লড়াইয়ে পাত্তাই পাননি বুচার্ড। রুশ সেনসেশন শারাপোভা তাকে উড়িয়ে দিয়েছেন ৬-৩, ৬-২ গেমে। অন্যদিকে ম্যাকারোভা ৬-৪, ৬-০ গেমে হারিয়েছেন রুমানিয়ার হালেপকে। এএফপি