স্টিফেন স্মিথ বর্ষসেরার পুরস্কার পেতে যাচ্ছেন সেটা যতটা নিশ্চিত ছিল, ঠিক ততটাই অনিশ্চিত ছিল তিনি বর্ষসেরা ওয়ানডে খেলোয়াড় হবেন কিনা। কিন্তু যখন বর্ষসেরা ওয়ানডে খেলোয়াড়ের সেই খেতাব জিতলেন অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক, তখন বাকি সব পুরস্কারই হয়ে দাঁড়াল সময়ের ব্যাপার। প্রত্যাশিতভাবেই বর্ষসেরা টেস্ট এবং তিন ফরম্যাট মিলে বর্ষসেরার পুরস্কার অ্যালান বোর্ডার মেডেলও জিতে নিয়েছেন ২৫ বছর বয়সী এই তরুণ। ফলে মঙ্গলবার সিডনিতে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানটা একেবারেই স্মিথময় হয়ে দাঁড়াল।
বর্ষসেরা টি-টোয়েন্টি খেলোয়াড় হয়েছেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। বর্ষসেরা উদীয়মান ক্রিকেটারের পদক গিয়েছে শন অ্যাবটের হাতে। সিডনি ক্রিকেট স্টেডিয়ামে কিছুদিন আগে সতীর্থ ফিলিপ হিউজের মৃত্যুর কারণ হয়ে গত কিছুদিন তুমুল আলোচনায় থাকা অ্যাবটের জন্য নিশ্চিতভাবেই এই পুরস্কার বিশেষ কিছু হয়ে থাকবে।
প্রথমবারের মত ঐতিহ্যবাহী অ্যালান বোর্ডার পদক জেতার পথে স্মিথের সামনে সবচেয়ে বড় বাঁধা ছিলেন ডেভিড ওয়ার্নার। বর্ষসেরা টেস্ট খেলোয়াড়ের পুরস্কার জয়ের দারুন সম্ভাবনা ছিল দু’জনারই। পরিসংখ্যান বলছে খানিকটা এগিয়েই ছিলেন ওয়ার্নার। তবে বছর জুড়ে ওয়ানডেতে তার অনুপস্থিতি অ্যালান বোর্ডার পদক প্রাপ্তিতে তাকে স্মিথের চেয়ে পেছনে ফেলছে বলেই ধারণা করেছিলেন ক্রিকেট পণ্ডিতরা। শেষ পর্যন্ত হয়েছেও তাই।
২০১৪ সালের জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত স্মিথের দুর্দান্ত টেস্ট এবং ওয়ানডে ফর্মই তাকে বর্ষসেরার পদকের জন্য ওয়ার্নারের চেয়ে এগিয়ে রেখেছিল। যদিও টেস্টে দুজনের মধ্যে ব্যবধান ছিল খুব কম। ভোটিংয়ের সময়টাতে স্মিথ টেস্টে সর্বমোট ১২১২ রান করেছেন যেখানে ওয়ার্নারের সংগ্রহ ১২০৯ রান। ওয়ার্নার সাতটি সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন, স্মিথ পাঁচটি।
২০১৪ সালের জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত স্মিথের দুর্দান্ত টেস্ট এবং ওয়ানডে ফর্মই তাকে বর্ষসেরার পদকের জন্য ওয়ার্নারের চেয়ে এগিয়ে রেখেছিল। যদিও টেস্টে দুজনের মধ্যে ব্যবধান ছিল খুব কম। ভোটিংয়ের সময়টাতে স্মিথ টেস্টে সর্বমোট ১২১২ রান করেছেন যেখানে ওয়ার্নারের সংগ্রহ ১২০৯ রান। ওয়ার্নার সাতটি সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন, স্মিথ পাঁচটি।
ওয়ানডে শিরোপা প্রাপ্তিতেও সর্বাগ্রে এগিয়ে ছিলেন স্মিথ। তার সাথে এই ক্যাটাগরিতে আরো ছিলেন জেমস ফকনার এবং অ্যারন ফিঞ্চ। ওয়ানডেতে ফিঞ্চের ৪৩.১৩ গড়ে ৬৪৭ রান সংগ্রহের বিপরীতে স্মিথের সংগ্রহ ছিল ৪৯.১৮ গড়ে ৫৪১ রান।
তবে শেষ পর্যন্ত স্মিথের কাছে পাত্তাই পাননি আর কেউ। স্মিথের ২৪৩ ভোটের চেয়ে ৬৮ ভোট কম পেয়েছেন ওয়ার্নার। আর তৃতীয় স্থানে থাকা জনসন পেয়েছেন আরো ৪৯ ভোট কম।
ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের পাশাপাশি দলও আছে দারুন ছন্দে। স্মিথ ছিলেন তাই রীতিমতো উচ্ছ্বসিত, ‘এই মুহূর্তে দারুণ ছন্দে আছি আমরা। আমরা ঠিক সেদিকেই যাচ্ছি যেদিকে আমরা যেতে চাই। দলের সবাই যেভাবে (নিজেদের) কাজটা করছে তাতে আমি কেবল খুশিই হতে পারি।’
২০০০ সালে প্রথমবারের মত এই অ্যালান বোর্ডার পদক চালু হয়েছিল। ২৫ বছর বয়সী স্মিথের চেয়ে কেবল মাইকেল ক্লার্কই কম বয়সে এই পুরস্কার পেয়েছিলেন। ২০০৫ সালে মাত্র ২৩ বছর বয়সে এই পদক পান চোটাক্রান্ত ক্লার্ক। আর গত বছর সেটি যায় জনসনের দখলে।
