লন্ডনে শাক-সবজি রপ্তানি কমেছে ৪০ শতাংশ

আপডেট : ৩০ জানুয়ারি ২০১৫, ০০:৩৩

গত তিন সপ্তাহে বাংলাদেশ থেকে লন্ডনে তাজা শাক-সবজি রপ্তানি ৪০ শতাংশ কমেছে। হিমায়িত খাদ্য আসার ক্ষেত্রেও বিঘœ ঘটছে। ফলে বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব লক্ষ্য করছেন লন্ডনস্থ শীর্ষ আমদানি ব্যবসায়ীরা।

ব্রিটিশ-বাংলাশেী ইমপোটার্স অ্যাসোসিয়েশন ইন ইউকের সভাপতি মোহাম্মাদ রফিক এম হায়দার ইত্তেফাককে জানান, চলতি মাসের শুরুর দিকে প্রধান বিরোধী দল বিএনপির ডাকা লাগাতার অবরোধের ফলে বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্যে একটা বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে মারাত্মক ধস নেমে আসতে পারে। ইতোমধ্যেই বাংলাদেশ থেকে আসা তাজা শাক সবজির পরিমাণ প্রায় ৪০ শতাংশ কমেছে। এই ঘাটতি পাকিস্তান, ভারত, কেনিয়া সহ অন্যান্য দেশ থেকে এনে পূরণ করতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, প্রতি বছর বাংলাদেশ থেকে ৪০-৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের তাজা শাক-সবজি যুক্তরাজ্যে আমদানি করা হয়। তবে এখানের মার্কেটে এর তিনগুণ বা ১৫০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের সবজির চাহিদা থাকলেও বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার কারণে তা আনা সম্ভব হচ্ছে না।
বর্তমান পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক উল্লেখ করে মি. রফিক হায়দার বলেন, বাংলাদেশ থেকে অন্তত একশ প্রকার তাজা শাক-সবজি প্রতিদিন যুক্তরাজ্যে আসে। এর মধ্যে অনেক প্রকার সবজি পাকিস্তান, ভারত, কেনিয়া, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, উগান্ডা, ঘানা, ইতালিসহ এশিয়া ও আফ্রিকার অনেক দেশে উৎপাদন হয়। ফলে ভোক্তা চাহিদা এবং ব্যবসায়ীক ক্ষতির কথা চিন্তা করে আমরা বাধ্য হচ্ছি ওইসব দেশ থেকে আনতে।
তিনি আরো জানান, বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর ১৪ হাজার কোটি টাকারও বেশি মূল্যের হিমায়িত খাদ্য ইউরোপ মার্কেটে রপ্তানি হয়।
লন্ডনস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশন সূত্র জানায়, ২০০৯ সালে ৩ হাজার মেট্রিক টন তাজা শাক-সবজি প্রতিবছর বাংলাদেশ থেকে লন্ডনে রপ্তানি হতো। তা হ্রাস পেয়ে ২০১৩ সালে রপ্তানি হয়েছে ২২শ ৯৩ মেট্রিক টন। বর্তমান সময়ে তা আরো হ্রাস পেয়েছে।