ব্রিসবেনে বাংলাদেশের ক্যাম্প চলছে আজ আট দিন হল। প্রথম কয়েকদিন গণমাধ্যমের আড়ালে থেকেই চলেছে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি। কিন্তু প্রস্তুতি ম্যাচ ঘণিয়ে আসার সাথে সাথেই যেন বদলে যেতে শুরু করেছে দৃশ্যপট। গণমাধ্যমের আগ্রহ বাড়ছে বাংলাদেশ দলকে ঘিরে।
অবশ্য এই বদলে যাওয়া দৃশ্যপটের পিছনে সবচেয়ে বড় কারণটা হল স্বয়ং অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্ক। তার জন্য আগামী ২১ ফেব্রুয়ারি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচের ডেডলাইন বেঁধে দিয়েছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ)। কাকতালীয় ভাবে এর আগেই বাংলাদেশের বিপক্ষে একটা প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাচ্ছেন ক্লার্ক। এর জন্য গণমাধ্যমের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে এখন বাংলাদেশ দল। আরও ভাল করে বললে, আগামী পাঁচ ফেব্রুয়ারির ম্যাচের দিকে নজর থাকবে গোটা অস্ট্রেলিয়ার।
মাইকেল ক্লার্কের হ্যামস্ট্রিংয়ের চোঁট বেশ পুরনো। সর্বশেষ ভারতের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ চলাকালীন সময়ে সেখানে আবারও টান লাগলে অস্ত্রোপচার করাতে হয় তাকে। এরপর থেকেই আছেন দলের বাইরে। আছেন ফিটনেস ফিরে পাওয়ার লড়াইয়ে। তাকে দলে রেখেই বিশ্বকাপের স্কোয়াড ঘোষণা করেছে অস্ট্রেলিয়া।
তাই ক্লার্ক দ্রুত ফিরে আসার চ্যালেঞ্জের মধ্যে আছেন। এজন্য তার জন্য বিশ্বকাপের আগে কিছু ম্যাচ অনুশীলনের সুযোগ করে দিচ্ছে বোর্ড। বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচের আগেই অবশ্য অজি অধিনায়ককে সিডনি গ্রেড ক্রিকেট খেলতে দেখা গেছে। সেটা দু’দিনের একটা প্রথম শ্রেনীর ম্যাচ। আর তাতে ওয়েস্টার্ন সাবার্বের হয়ে তার ৫১ রানের ইনিংস প্রমাণ করে ফিটনেস ফিরে পাওয়ার দাঁড়প্রান্তেই আছেন তিনি।
আইসিসির অধীনে অনুশীলন শুরু করার আগে ব্রিসবেনে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। সেটা হবে আগামী তিন ও পাঁচ ফেব্রুয়ারী। সেখানে অ্যালান বোর্ডার ওভালে তাদের প্রতিপক্ষ হল ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার নির্বাচিত একাদশ। এর মধ্যে শেষ ম্যাচে দেখা যাবে অস্ট্রেলিয়ার নিয়মিত অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্ককে। তবে, আন-অফিসিয়াল ম্যাচটাতে ৩৩ বছর বয়সী ক্লার্কের ভূমিকা হবে কেবল ব্যাটসম্যানের। ফিল্ডিংয়ে তার পরিবর্তে দেখা যাবে বদলী খেলোয়াড়কে। বাংলাদেশের লাভ, হল প্রস্তুতি ম্যাচেই শক্ত প্রতিপক্ষ পাচ্ছে মাশরাফি বিন মুর্তজার দল।
তবে, মাইকেল ক্লার্ককে সামনে পেয়ে ভয় তো দূরের কথা, উজ্জীবিত বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। একদিন আগে সাকিব আল হাসানের মুুখোমুখি হয়েছিল স্থানীয় পত্রিকা কুরিয়ার মেইল। সেখানে অবশ্য ক্লার্ককে উদ্দেশ্য করে হুঙ্কারই ছাড়লেন বিশ্বের অন্যতম সেরা এই অলরাউন্ডার, ‘আমি চাই বিশ্বকাপের আগেই ও ফিট হয়ে উঠুক। ও বিশ্বকাপে না থাকলে সেটা ক্রিকেটের জন্যই বড় একটা ক্ষতির কারণ হবে। অনুশীলন ম্যাচে চাইলে ও যত ইচ্ছা রান করে ফেলতে পারে। সেটা নিয়ে তাই আমরা মোটেই ভাবছি না। আমাদের মূল ভাবনা বিশ্বকাপের ম্যাচ নিয়ে। সেখানে ওকে আটকানোই আমাদের মূল লক্ষ্য’
সাকিবের চেয়ে এদিক থেকে এক ধাপ এগিয়ে আছেন বোলিং কোচ হিথ স্ট্রিক। জিম্বাবুয়ের সাবেক এই অধিনায়ক বলেন, ‘ওকে যতদূর সম্ভব ব্যাটিং করতে দিতে চাই আমরা। নন-স্ট্রাইকে থাকা অবস্থাতে ফিল্ডারদের দূরে সরিয়ে দেবো যাতে করে সিঙ্গেল নিয়ে ও স্ট্রাইকে চলে আসতে পারে। আমাদের বিপক্ষে যত ইচ্ছা সিঙ্গেল নেয়ার সুযোগ পাবেন মাইকেল ক্লার্ক।’
আইসিসির অধীনে চলে যাওয়ার পর তাদের ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ দুটি অনুশীলন ম্যাচ খেলবে সিডনিতে; ৯ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের বিপক্ষে ও ১২ ফেব্রুয়ারি আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে। আর ১৮ ফেব্রুয়ারি ক্যানাবেরায় আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে বাংলাদেশের মূল বিশ্বকাপ লড়াই।
