সেমি ফাইনালে বাংলাদেশ

আপডেট : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৫, ০০:৫২

সিলেটে মালয়েশিয়ার বিরুদ্ধে হারটা কোনো কষ্টদায়ক ছিল না। কিন্তু হারের পেছনে ভালো খেলতে না পারাটাই ফুটবল অনুরাগীদের কষ্ট দিয়েছে। মেনে নিতে পারছিলেন না কেন এতো বাজে ফুটবল খেলবে বাংলাদেশের ছেলেরা। জয়-পরাজয় তো থাকতেই পারে। তাই বলে এভাবে কেন? অপ্রত্যাশিত বাজে ফুটবল পারফরম্যান্সের কারণে বাংলাদেশের ফুটবল ভীষণ সমালোচনার মুখে পড়েছিল। খেলোয়াড় কোচ কর্মকর্তাদের কটু কথা শুনতে হয়েছে। সমালোচনার ঝড় উঠেছিল খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে। সমালোচনায় তীরবিদ্ধ ফুটবলাররা একটা জবাব দিয়েছেন ফুটবল সমালোচকদের। মুখে কুলুপ এঁটে দিয়েছেন একটা জয় দিয়ে। বাংলাদেশকে সেমিফাইনালে তুলে দিয়ে আবার সমালোচিত ফুটবলাররা মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছেন। গ্রুপের শেষ ম্যাচে বাংলাদেশ ১-০ গোলে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ফুটবলের সেমিফাইনালে উঠেছে। কাল বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে ম্যাচের ৪০ মিনিটে একমাত্র গোলটি করেছেন ১৮ বছরের তরুণ স্ট্রাইকার হেমন্ত ভিনসেন্ট বিশ্বাস। দুই ম্যাচ জিতে মালয়েশিয়া ‘এ’ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন এবং এক ম্যাচ জিতে তিন পয়েন্ট নিয়ে বাংলাদেশ রানার্সআপ হলো। সেমিফাইনালে বাংলাদেশ প্রতিপক্ষ কাকে পাচ্ছে তা নির্ভর করবে আজকের বাহারাইন এবং থাইল্যান্ডের ম্যাচের উপর। বাংলাদেশের সেমিফাইনালটি শুক্রবার ঢাকায়।  

বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ফুটবলের আয়োজক। বাংলাদেশের লক্ষ্য ছিল সেমিফাইনাল খেলা। কিন্তু প্রথম ম্যাচে মালয়েশিয়ার বিরুদ্ধে হোঁচট খেয়ে মুখ থুবড়ে পড়তে যাচ্ছি সেমিফাইনালের স্বপ্ন। কাল শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে বাংলাদেশ এখন ফাইনালের স্বপ্ন দেখছে। ম্যাচের কয়েক মিনিট বাদ দিলে বাংলাদেশের জাহিদ দুর্দান্ত শুরু করেছিলেন। শ্রীলঙ্কাকে ছিন্নভিন্ন করে গোলের বল ফেলেছিলেন এমিলি, সোহেল রানা, হেমন্তের পায়ে। কিন্তু জালে জড়াচ্ছিল না বল। বাংলাদেশের ফুটবল কাল হঠাত্ বদলে গেলো। কিভাবে এমন অপ্রত্যাশিত ফুটবল খেললো বাংলাদেশ।
শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে অক্টোবর মাসে যশোরে বাংলাদেশ ১-১ গোলে ড্র করেছিল। দুই দিন পর রাজশাহীতে ম্যাচ জিতেছিল ১-০ গোলে। তারপরও কাল শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ম্যাচ জিতবে আশা করেনি দর্শক। অথচ সেমিফাইনালে উঠতে বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল মাত্র ড্র। ক্রুইফ প্রথম ম্যাচে দল সাজাতে যে ভুলটা করেছিলেন সেটা কাল করেননি। অভিজ্ঞ স্টপার নাসির চৌধুরীকে জায়গা দিয়েছেন দলে। সাইড বেঞ্চে পাঠিয়েছেন মিশুকে। গোলপোস্টের নিচে লিটনকে বাদ দিয়ে সোহেলকে নিয়েছেন। এই দুটি পরিবর্তন বাংলাদেশকে শক্তিশালী করেছে। বিশেষ করে রক্ষণভাগ নিয়ে চিন্তা করতে হয়নি।  মামুনুল, সোহেল রানা, হেমন্ত, জাহিদ, নাসির, এমিলি, জামাল ভুঁইয়া দারুণ ফুটবল উপহার দিয়েছেন। যদিও পাকিস্তান, লেবাননের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ আরো ভালো খেলেছিল। সেই ম্যাচটা হয়নি কাল। তারপরও ১-০ গোলে জিতলেও কালকের দলটা একটা টিম হয়ে খেলেছে। যেটা টুর্নামেন্টের জন্য খুব জরুরী ছিল। ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় হেমন্ত। ডাচ ক্লাবে স্বল্প সময়ের জন্য প্রশিক্ষণ নেয়া এই স্ট্রাইকার কাল যেন ৯০ মিনিট পর্যন্ত একই রিদমে খেলে গেছেন। ৯০ মিনিট একই রিদমে খেলেছে, সাম্প্রতিক সময়ে এমন ফুটবলার বাংলাদেশে কমই দেখা গেছে। হেমন্তের গোলটাকে শ্রীলঙ্কান কোচ নিকোলা বলেছেন, ‘মাষ্টার পিস গোল।’ ৪০ মিনিটে সোহেল রানার লব, বক্সের উপরে বুক দিয়ে নামিয়ে দিয়েছেন এমিলি, বলের উপর ডান পায়ে ভলি করেছেন হেমন্ত। সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে, বল জালে। দেখার মতো গোল ছিল ১-০। অসাধারণ, দৃষ্টিনন্দন একটি গোল। বিশ্বমানের গোলের সাথে তুলনা করা যায়। ভিডিও ফুটেজ দেখলে হয় তো আরো সুন্দর লাগবে এমন একটি গোল।  ম্যাচ রিপোর্ট লিখতে গেলে হেমন্তকে নিয়েই লিখতে হবে। কারণ এই ফুটবলার আরো দুটি গোলের সুযোগ করেছিলেন। কিন্তু শ্রীলঙ্কার ভাগ্য ভালো বলে বেঁচে গিয়েছে তারা। জয় নিয়ে এগিয়ে যাওয়া বাংলাদেশকে বিপদের মুখে ঠেলে দিয়েছিলেন গোলকিপার সোহেল। ৬৬ মিনিটের একটা ভুলের কারণে শ্রীলঙ্কা পেনাল্টি পায়। বক্সের বাইরে গিয়ে সোহেল ফেলে দিয়েছিলেন শ্রীলঙ্কান ইসানকে। কাতারের রেফারী খামিস হলুদ কার্ড দেন সোহেলকে। পেনাল্টি শট করেন বদলী ফুটবলার রোশান। তার শট ফিরিয়ে দেন গোলকিপার সোহেল। ফিরতি বলে হেড করে রোশান। সেটিও সোহেল ধরে ফেলেন। বিপদ এনেছিলেন সোহেল আবার সোহেলই উদ্ধার করেছেন। টেনশন মুক্ত করেছেন স্টেডিয়ামে আসা হাজার বিশেক দর্শককে। মাঠ থেকে আনন্দ নিয়ে ফিরে গেলেন দর্শক। আরেকটা ম্যাচ দেখার অপেক্ষায়, সেটি সেমিফাইনাল।     

বাংলাদেশ ঃ সোহেল, ইয়ামিন মুন্না, রায়হান হাসান, ইয়াসিন খান, নাসির চৌধুরী, জামাল ভুঁইয়া, হেমন্ত ভিনসেন্ট, মামুনুল ইসলাম, জাহিদ (রাজু), সোহেল রানা  (কোমল), এমিলি (নাসিরুল)।