মোহাম্মদ সুমনকে অবরোধের মধ্যে বাইরে বের হতে নিষেধ করেছিলেন তার মা। কিন্তু ঢাকায় অফিসের জরুরি কাজ ছিল। অফিসের কাজেই ঢাকায় এসে সহিংসতার আগুনে দগ্ধ হলেন তিনি। এখন জীবন নিয়েই তৈরি হয়েছে শঙ্কা। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিত্সাধীন আছেন সুমন।
চিকিত্সকরা জানিয়েছেন, তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। মুখ ও হাতসহ তার শরীরের ২৮ শতাংশ পুড়ে গেছে। শ্বাসনালী ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় নিশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে।
গত ২৩ জানুয়ারি রাজধানীর ডেমরা এলাকার মোল্লা ব্রিজের কাছে একটি যাত্রীবাহী বাসে পেট্রোল বোমা ছোঁড়া হলে ভাঙ্গা জানালা দিয়ে নামতে গিয়ে আগুনে সুমনের হাত ও শরীরের কিছু অংশ ঝলসে যায়। ওই ঘটনায় দগ্ধ হয়েছেন আরও ২৬ জন। তাদের বেশিরভাগই এখন ঢাকা মেডিক্যালের বার্ন ইউনিটে চিকিত্সাধীন।
সুমন জানান, অফিসের কাজে রূপগঞ্জ থেকে ঢাকায় এসেছিলেন তিনি। কাজ শেষ করে রাতে বাড়ি ফেরার জন্য ওই বাসে ওঠেন। তখনই ঘটে সেই হামলার ঘটনা। মা অবরোধের মধ্যে যেতে নিষেধ করলেও তিনি শোনেননি। ক্ষুব্ধ কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘রাজনীতি থেকে সবসময় নিজেকে দূরে রাখি। তবুও কেন আজ আমার এ দশা হল। রাজনীতিবিদদের কারণে আমরা নিরাপদে কাজ-কর্মও করতে পারব না? এ কোন দেশে বাস করছি?’
সুমনের বাড়ি রূপগঞ্জের বরপায়। একটি অক্সিজেন কোম্পানিতে চাকরি করেন। বাবা-মা, তিন ভাই আর দুই বোন নিয়ে তার সংসার। বাবা নুরুল ইসলাম অনেক বছর ধরেই অসুস্থ। সংসার চালাতে হয় সুমনকেই।
সুমনের বিছানার পাশেই উদ্বিগ্ন মুখে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেল তার অসুস্থ বাবাকে। গলার সুরটা একটু শক্ত করে তিনি বলেন, ‘রাজনীতির নামে একের পর এক সহিংসতা হচ্ছে। এমনকি মানুষ পুড়িয়ে মারা হলেও বিন্দুমাত্র অনুশোচনা নেই রাজনীতিবিদদের। তারা অনেকটা জিম্মি করে রেখেছেন মানুষকে। আমাদের আর্তনাদ কি তারা শুনতে পান না?’
একটু পরেই নুরুল ইসলাম নরম সুরে বলেন, সংসার চলে সুমনের আয়ের উপর। ছেলেটার কিছু হলে আমাদের কি হবে? এ কথা বলেই অঝোরে কাঁদতে শুরু করেন তিনি।
সুমনের বোন মিনারা বেগম হাসপাতালে থেকে ভাইয়ের সেবা করছেন। এই প্রতিবেদককে দেখে কেঁদে ফেলেন তিনি। কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘ভাইয়ের মুখের দিকে তাকাতে পারছি না। যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে সে। আমি আল্লার কাছে বিচার চাই। আর কিছুই বলার নাই।’
