‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ২: একজন ব্যবসায়ী, অপরজন কর্মচারী

আপডেট : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৫, ২১:১০
রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর কাঠেরপুল এলাকায় র‌্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত দুই যুবকের পরিচয় মিলেছে। তাদের একজন শাখাওয়াত হোসেন রাহাত (১৯) এবং অপরজন মুজাহিদুল ইসলাম ভূঁইয়া জিহাদ (৩৩)।
বৃহস্পতিবার স্বজনরা ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে লাশ শনাক্ত করেন। বুধবার ভোর রাতে কাঠেরপুল এলাকায় ওই ‘বন্দুকযুদ্ধ’ হয়।
স্বজনরা জানান, রাহাত রাজধানীর ফার্মগেটে ‘উত্তরণ মটরস’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের বিক্রয়কর্মী ছিলেন। ২১ জানুয়ারি থেকে তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। ওই ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) ও অপহরণ মামলা করা হয়।
আর জিহাদ কারওয়ান বাজারে কাঁচামালের ব্যবসা করতেন বলে জানিয়েছেন স্বজনরা। ২৪ জানুয়ারী থেকে নিখোঁজের পর কাফরুল থানায় বিষয়টি জানিয়ে সাধারণ ডায়েরি করেন স্বজনরা।
র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার উপ পরিচালক মেজর রুম্মান মাহমুদ জানান, ওই দুজনসহ আরও কয়েক দুর্বৃত্ত র‌্যাবের টহল গাড়ির সামনে ঢিল ও পেট্রোলবোমা ছোড়ে। র্যাবকে লক্ষ্য করে গুলিও ছোড়ে তারা। র‌্যাবের পাল্টা গুলি ছুড়ার এক পর্যায়ে ওই দুজন গুলিবিদ্ধ হন।  দু’জনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর তদন্তে বেরিয়ে আসবে তাদের বিরুদ্ধে নাশকতার আরও অভিযোগ রয়েছে কি-না।
রাহাতের খালাতো ভাই রিপন ভুঁইয়া দাবি করেন, ২১ জানুয়ারী দুপুরে উত্তরণ মটরর্সের কাছ থেকে রাহাতকে কয়েকজন সাদা মাইক্রোবাসে তুলে নেয়। পরের দিন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপক শাহে আলাম তেজঁগাও থানায় ঘটনা জানিয়ে জিডি করেন। তার সন্ধান না পাওয়ায় ২৭ জানুয়ারী রাহাতের মা সুফিয়া বেগম একই থানায় অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে অপহরণ মামলা করেন। রাহাত উত্তরণ মটরস ভবনের তৃতীয় তলায় থাকতেন। রাহাত কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত নয় বলেও দাবি তার।
এদিকে জিহাদের ছোট ভাই জাহিদুল ইসলাম সোহাগের দাবি, তার ভাই কারওয়ান বাজারে ব্যবসা করলেও ফার্মগেটের একটি বাসায় থাকতেন। তবে ২৪ জানুয়ারি কাজীপাড়ায় বোনের বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হলে দুইদিনের মাথায় তিনি কাফরুল থানায় জিডি করেছিলেন।
তার ভাইও কোনো রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন না দাবি করে সোহাগ বলেন, জিহাদ দুই বছর আগে সিঙ্গাপুর গিয়েছিলেন। দুই মাস থাকার পর দেশে চলে আসেন। লক্ষ্মীপুর সদরের মির্জাপুরে তাদের গ্রামের বাড়ি।