গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রস্তাবের উপর গণশুনানি শেষ

আপডেট : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৫, ২২:০৪
 
 
শেষ হলো গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রস্তাবের উপর গণশুনানি। বৃহস্পতিবার গণশুনানির শেষ দিনে জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম লিমিটেড (জেজিটিডিএসএল) ও সুন্দরবন গ্যাস কোম্পানির প্রস্তাবিত দামের উপর শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
 
শুনানিতে আবাসিকসহ অন্যান্য খাতে গ্যাসের দাম ৪০ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম লিমিটেডের (জেজিটিডিএসএল)। তবে জালালাবাদ এর প্রস্তাব পর্যালোচনা করে বিইআরসি কারিগরি কমিটি বলেছে, সঞ্চালন খরচ যদি প্রতি ঘনমিটারে ১৩ পয়সা বাড়ানো হয় তবে চার দশমিক ৯৮ শতাংশ গ্যাসের দাম বাড়ানো প্রয়োজন হবে। প্রতি ঘনমিটার ৩৪ পয়সা থাকলেই ২০১৪-১৫ অর্থবছরে আয় হবে। বর্তমানে প্রতি ঘনমিটার গ্যাস বিতরণ করে জেজিটিডিএসএল ৭৫ পয়সা লাভ করছে। এরমধ্যে ৩৭ পয়সা লাভ হয় বিতরণ থেকে আর বাকী ৩৮ পয়সা লাভ হয় পরিচালনা, সুদ ও অন্য আয় থেকে।
 
রাজধানীর কাওরানবাজারস্থ বিইআরসির কার্যালয়ে গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রস্তাবের ওপর সকালে এ গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়। বিইআরসি চেয়ারম্যান এ আর খান, সদস্য ড. সেলিম মাহমুদ, প্রকৌশলী দেলোয়ার হোসেন, রহমান মুরশেদ ও মাকসুদুল হক শুনানি পরিচালনা করেন।
 
শুনানিতে জালালাবাদ তাদের প্রস্তাবে অন্যান্য গ্যাস কোম্পানির মতো একই হারে গড়ে ৪০ শতাংশ (৫.২৪ থেকে ১২২.২২ শতাংশ) দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছে। আবাসিক খাতে দুই চুলার (ডাবল বার্নার) বর্তমান দাম ৪৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার টাকা এবং এক চুলা (সিঙ্গেল বার্নার) ৪০০ টাকা থেকে ৮৫০ টাকা করার প্রস্তাব করে।
 
এছাড়া ক্যাপটিভ বিদ্যুত্ উত্পাদনের ক্ষেত্রে এক হাজার ঘনফুট গ্যাসের বর্তমান দাম ১১৮ টাকা ২৬ পয়সা থেকে ২৪০ টাকা করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। প্রতি হাজার ঘনফুট সিএনজির বর্তমান দাম ৮৪৯ টাকা ৫০ পয়সা থেকে এক হাজার ১৩২ টাকা ৬৭ পয়সা এবং সার কারখানায় ৭২ টাকা ৯২ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৮০ টাকা করার কথা বলা হয়েছে। আবাসিক সংযোগে মিটারের ক্ষেত্রে প্রতি হাজার ঘনফুট গ্যাসের জন্য ১৪৬ টাকা ২৫ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২৩৫ টাকার প্রস্তাব রয়েছে। বিদ্যুেকন্দ্রে প্রতি হাজার মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের জন্য ৭৯ টাকা ৮২ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৮৪ টাকা, বাণিজ্যিক গ্রাহকদের ক্ষেত্রে ২৬৮ টাকা ৯ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৩৫০ টাকা, শিল্প গ্রাহকদের জন্য ১৬৫ টাকা ৯১ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২২০ টাকা, চা বাগানের ক্ষেত্রে ১৬৫ টাকা ৯১ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২০০ টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
বিকেলে অনুষ্ঠিত হয় সুন্দরবন গ্যাস কোম্পানির প্রস্তাবিত দামের উপর। শুনানিতে বলা হয়, গ্যাস বিদ্যুতের দাম না বাড়িয়ে গ্রাহকদের বৈষম্য কমিয়ে আনতে হবে। বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমার সুফল গ্রাহককে না দিতে পারলেও গ্যাস বিদ্যুতের দাম না বাড়িয়ে মানুষেকে সেই সুফল দেয়া যেতে পারে।
সুন্দরবনের এর প্রস্তাব পর্যালোচনা করে বিইআরসি কারিগরি কমিটি বলেছে, সুন্দরবন গ্যাস কোম্পানির গ্রাহক কম এবং এখনও পুরোপুরি কার্যক্রম শুরু হয়নি বলে এখন শুধু পরিচালনা খরচ হচ্ছে। বর্তমানে যে দাম ধরা আছে তাতে ভবিষ্যতে লাভ হবে। চলতি অর্থবছরে প্রতি ঘনমিটারে খরচ হচ্ছে ৮৮ পয়সা। কিন্তু গ্রাহক ও কার্যক্রম বাড়লে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে এই খরচ কমে হবে ৩৩ পয়সা। তখন লাভ না হলেও লোকসান হবে না।
 
গণশুনানি শেষে বিইআরসি চেয়ারম্যান এ আর খান বলেন, সকল বিষয় বিচার বিবেচনা করে স্বচ্ছতার সাথে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। সিদ্ধান্ত নিতে ভোক্তাদের স্বার্থ সংরক্ষণ করা হবে।
ক্যাব এর উপদেষ্টা অধ্যাপক শামসুল আলম বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে গ্যাস বিদ্যুতের দাম বাড়ালে সরকার আরও বেকায়দায় পড়বে।

উল্লেখ্য, গ্যাসের দাম বৃদ্ধির বিষয়ে গত সোমবার থেকে গণশুনানি শুরু হয়। আজ চারদিনব্যাপী এ গণশুনানি শেষ হয়।