পেছনে বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক মামুনুল ইসলাম। সামনে কোচ লুডভিক ডি ক্রুইফ। উঠছেন সংবাদ সম্মেলনের মঞ্চে। বরাবরের মেজাজী এই লোকটির কাল দেখা গেল ভিন্ন রূপ। শীষ বাজাতে বাজাতে মঞ্চে উঠলেন ক্রুইফ। দেখে মনে হলো নির্ভার। কিন্তু ম্যাচ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে গা ঝাড়া দিয়ে উঠলেন এই ডাচ। একটানা কথা বলে জানিয়ে দিলেন, আজ শুক্রবারের সেমিফাইনালে থাইল্যান্ডের বিরুদ্ধে তার পরিকল্পনার কথা। এক কথায় ম্যাচটা জিততে হবে। ম্যাচ জেতার কোনো বিকল্প নেই।
সব হিসাব নিকাষের পালা শেষ। কবে কোথায় কী হয়েছিল। অতীতে কে জিতেছিল আর কে হেরেছিল তা নিয়ে ক্রুইফের কোনো মাথাব্যথা নেই। এখন মাঠের লড়াই, সামনে প্রতিপক্ষের নাম থাইল্যান্ড। তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করে জিততে হবে। এটাই ক্রুইফ এবং মামুনুলদের শপথ। ক্রুইফ জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি তার সব চেষ্টা দিয়ে দলটাকে দাঁড় করিয়েছেন। এখন খেলোয়াড়দের পালা। তারা প্রথম থেকে খেলাটা কিভাবে শুরু করবে এবং কিভাবে শেষ করবে, তার উপর নির্ভর করছে সেমিফাইনালের ফল। আর মামুনুলও জানালেন তারা প্রস্তুত আছেন। এজন্য তারা মনে করছেন, সেমিফাইনাল ম্যাচটা তাদের কাছে ‘ফাইনাল’ ম্যাচ। বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে বিকাল ৫টায় বাংলাদেশ-থাইল্যান্ড দ্বিতীয় সেমিফাইনালটি শুরু হবে।
বঙ্গবন্ধু কাপ ফুটবলের আগের দুটি আসর অনুষ্ঠিত হয় ১৯৯৬ ও ১৯৯৯ সালে। এবার বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ নামে আয়োজন করা হয় টুর্নামেন্টটি। এবারই প্রথম টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে উঠেছে বাংলাদেশ। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ কোনো টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালেই উঠতে পারছিল না। বিশেষ করে, ২০১৩ সালে কাঠমান্ডু সাফে এই ক্রুইফের বাংলাদেশ দল গ্রুপ পর্বেই বিদায় নিয়েছিল। এবার নিজেদের মাঠের আয়োজনে টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে উঠায় স্থানীয় ফুটবল দর্শকরা মাঠমুখি হচ্ছেন। দর্শক আরো বড় স্বপ্ন দেখছেন। সেমিফাইনালের পর খেলোয়াড়রাও বাংলাদেশের ফুটবল দর্শকদের কথা দিয়েছেন ফাইনাল খেলতে চান। তাদের এই প্রতিশ্রুতি বলে দেয় থাইল্যান্ডকে কোনোভাবে ছাড় দেবেন না। যে কোনো মূল্যেই জিততে হবে বাংলাদেশকে। জেদ ধরেছেন মামুনুলরা, বলছেন, ‘স্বপ্ন দেখাচ্ছি, স্বপ্ন পূরণ করবো।’ এটা কি মানসিক চাপ না? মানসিক চাপের কারণে সিলেটে মালয়েশিয়ার বিরুদ্ধে স্নায়ুর চাপে ছিল ফুটবলাররা। ২৫-৩০ মিনিট খেলতে পারেনি বাংলাদেশ। এখন সেমিফাইনালে জিততে হবে, তা নিয়েও তো চাপ আছে। মামুনুল বললেন,‘চাপ উপভোগ করতে হবে এবং চাপ নিয়ে লড়াই করতে হবে।’ কথা উঠেছিল দলের মিডফিল্ড নিয়ে। মামুনুল বললেন,‘আমরা মিডফিল্ডাররা ভালো খেললে পুরো দল ভালো খেলবে। আর জিততে হলে ১১০ ভাগ শ্রম দিতে হবে। একটা সুযোগ পেলেই সেটা কাজে লাগাতে হবে।’
বাংলাদেশ খেলবে মূল জাতীয় দল নিয়ে। আর থাইল্যান্ড দলটি হলো অনূর্ধ্ব-২২ ফুটবলারদের নিয়ে গড়া। থাইল্যান্ডের চেয়ে তাই সামর্থ্যে এগিয়ে থাকার কথা স্বাগতিকদের। কিন্তু কথাটা মানতে নারাজ ক্রুইফ,‘আমার সামনে এটা থাইল্যান্ড। আমি প্রতিপক্ষ হিসাবে দেখছি।’ কথাটা বলেই মামুনুলের সাথে কানে কানে জেনে বললেন,‘আমাদের জাতীয় দল হলেও আট জন ফুটবলার আছেন যাদের বয়স ২২। তরুণ খেলোয়াড়দের আধিক্যটা বেশি।’
থাইল্যান্ডকে সমীহ করছেন বাংলাদেশের কোচ এবং অধিনায়ক। আর বাংলাদেশকে কঠিন দলই মনে করছে থাইল্যান্ড। থাই কোচ ফোমরাত চোকতাভী বলছেন, ‘কঠিন ম্যাচ হবে। কারণ বাংলাদেশ মূল জাতীয় দল এবং তারা খেলবে নিজেদের মাঠে চেনা পরিবেশে, নিজেদের সমর্থকদের সামনে। এখানকার দর্শক অনেক বেশি আওয়াজ করে।’ বাংলাদেশের দর্শকদের আয়োজটাকে ভয় পান থাই ফুটবলাররা। এই আওয়াজের মধ্যেই হোক তাতে কিছু যায় আসে না। ফাইনাল মনে করেই খেলবে থাইল্যান্ড। ২০১২ সালে নভেম্বরে বাংলাদেশ দল ব্যাংককে থাইল্যান্ডের মূল দলের কাছে ফিফার প্রীতি ম্যাচ ৫-০ গোলে হেরেছিল। এবার সেই দল না হলেও যুব দলটিও কম শক্তিশালী নয়। অলিম্পিক ফুটবল খেলার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে তারা।
অবশ্য ১৯৮৯ সালে তত্কালীন ঢাকায় স্টেডিয়ামে ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবলের প্রাক বাছাইয়ে বাংলাদেশ ৩-১ গোলে থাইল্যান্ডকে হারিয়েছিল।
