প্রস্তুতি ঘাটতি নিয়ে চিন্তিত নন মাশরাফি

আপডেট : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৫, ২০:০৫
 
 
 
বিশ্বকাপের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ দল দেশ ছেড়েছে দুই সপ্তাহ হয়ে গেল। কিন্তু কার্যত মাশরাফিদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হলো আজ রবিবার। সিডনিতে স্থানীয় সময় সকাল আটটায় অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজার আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন দিয়ে শুরু হলো এবারের বিশ্বকাপপর্ব। এই পর্বে মাশরাফি পরিষ্কার বলে দিলেন, তিনি দলের প্রস্তুতি ঘাটতি নিয়ে চিন্তিত নন।
 
যদিও অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডের কন্ডিশনে বড় কিছু আশা করা কঠিন হবে বলেও বললেন অধিনায়ক। তবে তার বিশ্বাস দলের সবাই জ্বলে উঠতে পারলে কোয়ার্টার ফাইনালে অন্তত পা রাখা সম্ভব।
 
মাশরাফি বিন মুর্তজার সংবাদ সম্মেলন—
 
প্রস্তুতি কেমন হলো আপনাদের?
দেশে ভালো ঘরোয়া ক্রিকেট হয়েছে, টানা ভালো প্রস্তুতি নিয়েছি। এখানে এসে দু সপ্তাহ খুব ভালো ট্রেনিং হয়েছে, দুটো অনুশীলন ম্যাচ খেলেছি। আরও দুটো শক্ত অনুশীলন ম্যাচ আছে। ফলে আশা করি অনুশীলন সঠিকই হচ্ছে আমাদের। আশা করি বিশ্বকাপে আমরা আমাদের সেরাটা দিতে পারবো।
 
বিশ্বকাপের বাকি দলগুলো এই সময়ে অনেক ম্যাচ খেলেছে। আপনাদের ম্যাচ অনুশীলনের ঘাটতি থেকে গেল কি না?
সেটা সত্যি। ম্যাচ হলে ভালো হতো। তবে এখানে আমরা যে অনুশীলন করেছি, তাতে মনে হয় কন্ডিশনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পেরেছি।
 
দুটো অনুশীলন ম্যাচেই সেট হওয়া ব্যাটসম্যানদের আপনারা ড্রেসিংরুমে ডেকে এনেছেন। এটার ব্যাখ্যাটা একটু দেবেন?
আসলে কোচ এবং ম্যানেজমেন্ট এমনই চেয়েছিলেন। সবাই চেয়েছি আমরা প্রত্যেককে ব্যাটিংয়ের সুযোগ দিতে। এটা আসলে ব্যাটসম্যানদের যাচাই করে নেয়ার একটা পদ্ধতি ছিল। হ্যা, সবাই ব্যাট করতে নেমে ৪০-৪৫ ওভারের মধ্যে অলআউট হয়ে যাওয়াটা ভালো দেখায় না। তবে আমাদের পরিকল্পনা ছিল, সবাই ব্যাট করা।
 
আগামীকাল পাকিস্তানের বিপক্ষে কী একই কাজ করবেন?
না, না। এখন তো বিশ্বকাপ শুরু হয়ে গেছে। বলতে পারেন, আজ থেকে আমাদের বিশ্বকাপ শুরু। ফলে আর পরীক্ষা নীরিক্ষার জায়গা নেই। এখন প্রকৃত ম্যাচের মতোই খেলতে হবে।
 
বিশ্বকাপে ভালো কিছু করার চ্যালেঞ্জ নিচ্ছেন?
কঠিন। কঠিন হবে। তবে আমাদের তরুণদের আর্ন্তজাতিক অভিজ্ঞতা কম থাকলেও প্রতিভা অনেক। এরা কিছু একটা করে দেখানোর চেষ্টায় আছে। আশা করি, এরা খুব ভালো করবে।
 
আপনাদের নিজেদের প্রত্যাশাটা কী?
দেখুন, সবাই আশা করছে আমরা দ্বিতীয় রাউন্ডে যাবো। কিন্তু কাজটা সহজ হবে না; খুব কঠিন কাজ। এই কন্ডিশনে আমরা অভ্যস্ত নই। এখানে আফগানিস্তান ও স্কটল্যান্ডকে ছাড়াও দুটো কমপক্ষে বড় দলকে হারাতে হবে। এটা কঠিন কাজ। আমরা আশা করছি, চ্যালেঞ্জটা নিতে পারবো।
বড় দলগুলোকে হারানোর কথা বলছেন। প্রায় সব বিশ্বকাপেই আপনারা এমন দু একটা কাজ করেছেন। সেটা কী প্রেরণা হবে?
অতীতে যা হয়েছে, তো হয়েছেই। অতীতের পারফরম্যান্সের ওপর তো ভরসা করা যাবে না। হ্যা, আমাদেও দলে মুশফিক, তামিম, সাকিবের মতো অভিজ্ঞ যারা আছে, ওরা জ্বলে ওঠার জন্য অপেক্ষা করছে। আশষা করি, তেমন কিছু হলে আমরা আবার কাজটা করতে পারবো।
 
বাস্তবতা হলো আপনাদের অনেকেই টার্গেট করছে; আপনাদের বিপক্ষে জয়টাকে ধরে রেখেছে। আপনাদের এরকম টার্গেট কারা?

আমরা কাউকে টার্গেট করছি না। আমাদের প্রতিটা ম্যাচই জিততে হবে। নির্দিষ্ট কিছু দলকে টার্গেট করলে বরং ওই দিনে চাপটা বেড়ে যাবে। সেটা না করে প্রতিটা ম্যাচে আলাদা আলাদা করে জয়ের জন্য নামা ভালো।