রাজনৈতিক অস্থিরতায় প্রায় এক মাস শেয়ারবাজারে দরপতনের পর গেল সপ্তাহজুড়ে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ‘অনেক দিন একটানা দরপতনের ফলে অনেক কোম্পানির শেয়ারদর তুলনামূলক তলানিতে নেমে আসায় বিনিয়োগকারীরা এ শেয়ারগুলো কিনেছেন। এ ছাড়া, সামনে অনেক কোম্পানি লভ্যাংশ ঘোষণা করবে। এ পরিপ্রেক্ষিতেও বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বেড়েছে।
গেল সপ্তাহে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সব ধরনের সূচকের পাশাপাশি বেড়েছে লেনদেন। সার্বিক মূল্যসূচক বেড়েছে ১৫৬ পয়েন্ট। আর লেনদেন বেড়েছে ৩৮৯ কোটি টাকা বা ৩৬ দশমিক ৩২ শতাংশ। তথ্যে দেখা গেছে—এ সপ্তাহে ডিএসইএক্স বেড়েছে ৩ দশমিক ৩৪ শতাংশ বা ১৫৬ দশমিক ৬৮ পয়েন্ট। ডিএস-৩০ সূচক বেড়েছে ৪ দশমিক ৫৭ শতাংশ বা ৭৯ দশমিক ১৩ পয়েন্ট। আর শরিয়াহ বা ডিএসইএস সূচক বেড়েছে ৩ দশমিক ৫৮ শতাংশ বা ৩৯ দশমিক ৭৭ পয়েন্ট।
ডিএসই জানিয়েছে—এক সপ্তাহে ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ৪৬০ কোটি ৬০ লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট। আগের সপ্তাহে যার পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৭১ কোটি ৪১ লাখ টাকা। অর্থাত্, এক সপ্তাহে লেনদেন বেড়েছে ৩৮৯ কোটি ১৮ লাখ ৬৬ হাজার ১৯৫ টাকা। সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে মোট ৩২০টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের শেয়ার। এর মধ্যে দর বেড়েছে ২৫২টির, কমেছে ৪৭টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ১৯টি কোম্পানির শেয়ারের দর। লেনদেন হয়নি ২টি কোম্পানির শেয়ার।
অন্য দিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) গেল সপ্তাহে লেনদেন হয়েছে ১৩৮ কোটি ৪৬ লাখ ৪৪ হাজার ৩১৮ টাকা। আগের সপ্তাহে লেনদেন হয়েছিল ৯৯ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। অর্থাত্, এ সপ্তাহে লেনদেন বেড়েছে ৩৮ কোটি ৯০ লাখ ৯০ হাজার টাকা। আর সিএসইর সাধারণ মূল্যসূচক বেড়েছে ৩.১২ শতাংশ বা ২৭২ পয়েন্ট।
এ দিকে সপ্তাহজুড়ে লেনদেন হওয়া পাঁচ কার্যদিবসে অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারদর বাড়ায় বাজারের সার্বিক মূল্য আয় অনুপাত (পিই রেশিও) বেড়েছে ২ দশমিক ৬৫ শতাংশ। সপ্তাহ শেষে ডিএসইর পিই রেশিও অবস্থান করছে ১৭ দশমিক ৫৪ পয়েন্টে, যা আগের সপ্তাহ শেষে ছিল ১৭ দশমিক ৯ পয়েন্টে।
