ব্রিসবেনে ঝড় হবে, এটা স্বাভাবিক।
ব্রিসবেনের গ্যাবায় হবে গতির ঝড়। মিশেল জনসন, মিশেল স্টার্ক থেকে শুরু করে আমাদের তাসকিন, রুবেলরাও এখানে ঝড় তুলবেন। তাই ব্রিসবেনের সঙ্গে ‘ঝড়’ শব্দটা মোটেও বেমানান নয়।
মুশকিল হল এই ঝড় ক্রিকেট বলের ঝড় নয়; ব্রিসবেন, তথা কুইন্সল্যান্ডের দিকে ধেয়ে আসছে সত্যিকারের এক ঝড়—সাইক্লোন মার্সিয়া।
এই ঝড়কে মাথায় নিয়েই গতকাল সকালে ক্যানবেরা থেকে ব্রিসবেন পৌঁছেছে বাংলাদেশ দল। ব্রিসবেন থেকে দলের মিডিয়া ম্যানেজার রাবিদ ইমাম নিশ্চিত করেছেন, আগামী কালকের ম্যাচকে সামনে রেখে দলের সবাই সুস্থ শরীরে ব্রিসবেনে পৌঁছে গেছেন। গতকাল অনুশীলন না করলেও ম্যাচের আগের দিনে, আজ একমাত্র অনুশীলন সেশন কাটাবেন খেলোয়াড়রা।
অনুশীলনে নিশ্চয়ই প্রধান্য থাকবে পেস বোলারদের ওপর। আগের ম্যাচে, ক্যানবেরাতেই বাংলাদেশ তিন জন পেসার ও একজন পেস বোলিং অলরাউন্ডার নিয়ে খেলেছে। আর এখানে যখন খেলাটা গ্যাবার উইকেটে; তখন ফাস্ট বোলিং করা ও ফাস্ট বোলিং সামলানো ছাড়া আর ভাবনায় কিছু থাকার কথা নয়।
এদিকে গ্যাবায় গতির ঝড় ওঠার আগে আসছে ধেয়ে এক ভয়ঙ্কর প্রাকৃতিক ঝড়। এই ঝড় খেলা পণ্ড করে দিতে পারে বলেও আশঙ্কা আছে।
গুগলে ‘ব্রিসবেন’ শব্দটা লিখে সাজেশন হিসেবে চারটি ব্যাপার চলে আসছে- ব্রিসবেন ওয়েদার, ব্রিসবেন হিট, ব্রিসবেন সাইক্লোন ও ব্রিসবেন হিট স্কোয়াড। এর মধ্যে দুটো ক্রিকেট দলের নাম এবং দুটো ব্রিসবেনে ধেয়ে আসতে থাকা সাইক্লোন বিষয়ক সাজেশন!
বোঝাই যাচ্ছে, বাংলাদেশ থেকে ব্রিসবেনের ক্রিকেট আর ঝড় নিয়ে লোকেদের মধ্যে দারুণ আগ্রহ। শঙ্কা নিয়েই লোকেরা সমানে খোঁজ নিচ্ছেন ব্রিসবেনের এই ঝড়ের।
ব্রিসবেন থেকে বাংলাদেশ দলের মুখপাত্র রাবিদ ইমাম বললেন, এই চিত্র শুধু গুগলে নয়; ব্রিসবেন শহর জুড়েই। শহর জুড়েই এখন এই ঝড় নিয়ে আলোচনা। হতে পারতো এটা ক্রিকেট ঝড় নিয়ে আলোচনা; কারণ, আগামী পরশু এখানে অস্ট্রেলিয়া-বাংলাদেশ বিশ্বকাপের ম্যাচ হওয়ার কথা। কিন্তু আলোচনার জায়গাটা দখল করে নিয়েছে প্রাকৃতিক ঝড়।
রাবিদ জানালেন, এখানে পৌঁছানোর পর থেকে তারা আকাশ জোড়া মেঘ আর থেমে থেমে বৃষ্টি দেখছেন; সঙ্গে দমকা হাওয়া আছে। কুইন্সল্যান্ড আবহাওয়া অফিস থেকে উপকূলের কয়েকটি শহরে ইতিমধ্যে ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করা হয়েছে। খালি করতে বলা হয়েছে কয়েকটি শহর ও উপশহর। তাদের হিসাব মতে আজ সকাল থেকে দুপুরের মধ্যে কোনো এক সময়ে কুইন্সল্যান্ড উপকূল অতিক্রম করবে ‘মার্সিয়া’ নামের পঞ্চম ক্যাটাগরির এই সাইক্লোন। আবহাওয়া অফিস বলছে, সাইক্লোনের কেন্দ্রে বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ২৯৫ কিলোমিটার; যা কি না স্থলভাগ স্পর্শের সঙ্গে সঙ্গে কয়েকগুণ বাড়তে পারে।
এ হেন কুইন্সল্যান্ডের রাজধানী ব্রিসবেনেই অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা আগামীকালকের ম্যাচটি। যে আবহাওয়া এখনও পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে, তাতে আগামীকাল সকালের মধ্যে খেলার মতো পরিবেশ তৈরি হওয়া খুব কঠিন বলেই স্থানীয় পত্রিকাগুলো দাবি করছে।
তেমন হলে বাংলাদেশকে হয়তো ব্রিসবেন শহর থেকে এই ঝড় দেখেই একটা পয়েন্ট নিয়ে ফিরে আসতে হবে। না খেলে পয়েন্ট পাওয়াটা স্বস্তির হলেও বিশ্বকাপের চাওয়া নিশ্চয়ই তা হতে পারে না!
