প্রাণের আবেগে মেলায় আসেন প্রবাসীরা

আপডেট : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৫, ২৩:৫০

পাঠকদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা প্রায় সব লেখকেরই কিছু না কিছু বই চলে এসেছে মেলায়। ফলে বইয়ের কেনাবেচা এখন তুঙ্গে। প্রতিটি স্টলেই রয়েছে ক্রেতা-পাঠকের ভিড়। এছাড়া পাঠকরাও তার পছন্দের লেখকের বই কোন স্টলে এসেছে তা খুঁজে খুঁজে যাচ্ছেন সেসব স্টলে। ফলে মেলা এখন পরিপূর্ণতা লাভ করেছে। হরতাল-অবরোধকে উপেক্ষা করে প্রতিদিনই বাড়ছে বই-ক্রেতাদের ভিড়।

আর মাত্র চার দিন পরেই সাঙ্গ হবে অমর একুশে গ্রন্থমেলা। তাই শেষ মুহূর্তের বেচাকেনা চলছে সব স্টলেই। এখনো নতুন বই প্রকাশিত হচ্ছে তবে সব প্রকাশনীর অধিকাংশ বই চলে এসেছে মেলায়। ফলে পাঠকরা এসে খুব বেশি খোঁজাখুঁজির ঝামেলায় না গিয়ে সরাসরি স্টল খুঁজে নিয়ে সংগ্রহ করছেন বই।
ফেব্রুয়ারি এলেই অনেক প্রবাসীও চলে আসেন দেশে। কেউ বই প্রকাশ করার জন্য, কেউবা আড্ডা দেয়ার জন্য। বইমেলাকে কেন্দ্র করে এ বইমেলা হয়ে ওঠে মিলনমেলা। বইয়ের প্রতি ভালবাসায় সবাই আসেন মেলায়। কিন্তু প্রবাসী বাঙালিদের কাছে বইমেলা এক দুনির্বার আকর্ষণের নাম। প্রবাসী অনেক লেখকের বইও প্রকাশিত হয় মেলায়। এই লেখকদের পাঠকরা দেখা না পেলেও তাদের লেখার মাধ্যমেই অনেকেই জনপ্রিয়তা পেয়েছেন। এবছরও মেলায় অনেক প্রবাসী লেখকের বই এসেছে। শুধু বই প্রকাশের জন্যেই নয়, প্রবাসীদের অনেকেই বইমেলাকে কেন্দ্র করে চলে আসেন দেশে, সংস্কৃতির অমোঘ টানে। তাদের পদচারণায় বইমেলা এক ভিন্ন দ্যোতনায় উদ্ভাসিত হয়ে ওঠে।
‘প্রবাসীদের লেখায় ভাষা নতুন দিগন্ত’
বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান বলেন, প্রবাসী লেখকদের হাত ধরে বাংলা সাহিত্যে নতুন নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হচ্ছে। বিশ্বের নানা প্রান্তে বাঙালিরা ছড়িয়ে পড়ায় সেসব অঞ্চলের কথা, জীবনযাত্রা আমাদের উপন্যাসে উঠে আসছে।
নতুন বই
বাংলা একাডেমির সমন্বয় ও জনসংযোগ উপবিভাগের তথ্যমতে মেলার ২৪তম দিনে এসেছে ৮৩ টি নতুন বই। এরমধ্যে গল্প ১৬, উপন্যাস ১০, প্রবন্ধ ১, কবিতা ১৮, গবেষণা ২, ছড়া ৬, শিশুসাহিত্য ৭, জীবনী ৪, রচনাবলি ১, মুক্তিযুদ্ধ ১, নাটক ২, বিজ্ঞান ১, ইতিহাস ৩, অনুবাদ ১ এবং অন্যান্য বিষয়ের উপর এসেছে আরো ১০টি নতুন বই। এছাড়াও নজরুল মঞ্চে ৫টি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন হয়।
মেলা মঞ্চের আয়োজন
সোমবার গ্রন্থমেলার মূল মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় ‘বাংলাদেশের  লোকজ-সংস্কৃতি গ্রন্থমালা’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক মাহবুবুল হক। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন গোলাম কিবরিয়া ভূঁইয়া, মুহম্মদ শহীদ উজ জামান, মির্জা তাসলিমা সুলতানা এবং মাহবুবা নাসরীন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংস্কৃতি সচিব ড. রণজিত্ কুমার বিশ্বাস।
সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে আবৃত্তি পরিবেশন করেন আবৃত্তিশিল্পী হাসান আরিফ এবং ড. মোঃ শাহাদাত্ হোসেন। শামীমা জেসমিনের পরিচালনায় সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন’ এবং ফয়জুল আলম পাপ্পু’র পরিচালনায় প্রকাশ সাহিত্য সাংস্কৃতিক সংগঠনের শিল্পীদের পরিবেশনা। সংগীত পরিবেশন করেন কণ্ঠশিল্পী সরদার মোঃ রহমাতুল্লা, বীনা মজুমদার, সামির বাউল, সাধনা মিত্র, মোঃ আনোয়ার হোসেন, এ. এফ. এম. জহিরুল হক চৌধুরী, আসলাম মিঞা, সুচরিতা রায়, যাবীন তাসনিম শুভ্রা এবং রিদওয়ান আফরিন।
বুধবারের আয়োজন

বুধবার বিকেলে গ্রন্থমেলার মূল মঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে ‘বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাস’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান।