ক্ষমতায় গেলে পিলখানা হত্যাকাণ্ডের বিচার হবে: খোকা

আপডেট : ০১ মার্চ ২০১৫, ১৫:০৯
পিলখানা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে বর্তমান সরকারের সম্পৃক্ততা রয়েছে অভিযোগ করে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকা বলেছেন, ২০ দলীয় জোট ক্ষমতায় গেলে বিচার বিভাগীয় তদন্ত করে এই হত্যাকাণ্ডের বিচার করা হবে। তিনি আরো বলেন, সরকার জড়িত বলেই এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ করা হচ্ছে না। বিচার পেতে হলে এই দখলদার সরকারকে হটাতে হবে।
স্থানীয় সময় শনিবার দুপুরে নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসের জুইস সেন্টারে বিএনপি-জামায়াত ঘরানার একটি মানবাধিকার সংগঠনের ব্যানারে অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে সাদেক হোসেন খোকা এসব কথা বলেন।
সংগঠনের সভাপতি মাহতাব উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে সেমিনারে আরো বক্তব্য দেন মন্ট্রিয়েল ইউনিভার্সিটির প্রফেসর ড. আবিদ বাহার, ভাসানী ফাউন্ডেশন ইউএসএ’র সভাপতি দেওয়ান শামসুল আরেফীন খান, জয়নাল আবেদীন, অধ্যাপক নূরুল ইসলাম, সাবেক সংসদ সদস্য আনিসুজ্জামান খোকন, আবু সামিয়া, আলী ইমাম, খন্দকার ফরহাদ, মোহাম্মদ মিজানুর রহমান প্রমুখ।
সেমিনারে সাদেক হোসেন খোকা বলেন, পিলখানার মত নৃশংস ঘটনা বিশ্বের ইতিহাসে নজিরবিহীন। সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট থেকে শুরু করে মেজর জেনারেল র‌্যাঙ্কের ৫৭ জন অফিসারকে রাজধানী ঢাকা শহরে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। তিনি বলেন, এই নৃশংসতা বিচ্ছিন্ন কোনো জনপদে হয়নি যেখানে লোক পাঠানো বা সেনা পাঠানো সময়সাপেক্ষ ব্যাপার ছিল। ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট এবং সাভার ক্যান্টনমেন্ট ঢাকা শহরের পিলখানায় পৌঁছাতে আধা ঘন্টা থেকে ৪৫ মিনিটেরও পথ নয়। সেখানে সরকার নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করলো। যে কোন বিবেচানায় এটা বলা যায়, এই হত্যাকাণ্ড পরিকল্পিত এবং এখানে সরকারের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ ছিল।
সাদেক হোসেন খোকা বলেন, গত ৫ জানুয়ারির নির্বাচন সারা বিশ্বের মানুষ প্রত্যাখ্যান করেছে। কিন্তু ভারতের তৎকালীন সরকার তার পররাষ্ট্র সচিব সুজাতা সিংকে পাঠিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের উপর চাপ প্রয়োগ করে প্রহসনের নির্বাচন করে। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার ভারতের তাবেদার সরকার। বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থের প্রতি তাদের কোন ভ্রুক্ষেপ নেই। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশে টানা ৫৫ দিন অরবোধ চলছে, যা উপমহাদেশের ইতিহাসে বিরল। তিনি বলেন, হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করে যদি কখনো আমরা রাষ্ট্র ক্ষমতায় যেতে পারি, আমাদের প্রধান দায়িত্ব হবে পিলখানার ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের জনসম্মুখে হাজির করা এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে পিলখানার ঘটনায় যাদের হত্যা করা হয়েছে তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করা হয়। দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন ফজলুল করিম।