অভিজিৎ রায় হত্যা তদন্তে মার্কিন সাহায্য নেয়ার আহ্বান

আপডেট : ০১ মার্চ ২০১৫, ১৭:২৭
বিজ্ঞানমনস্ক লেখক, মুক্তমনা ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা ও যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী অভিজিৎ রায়ের ‘নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ ও প্রতিরোধের’ প্রত্যয় শীর্ষক প্রতিবাদ সভায় বক্তারা এই হত্যাকাণ্ডের তদন্তে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাহায্য নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। 
স্থানীয় সময় শনিবার নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসের পিএস-৬৯ স্কুল মিলনায়তনে মুক্তধারা ফাউন্ডেশন আয়োজিত একুশে গ্রন্থমেলার ১১তম দিনে আলোচনার আয়োজন করা হয়। 
প্রবীণ সাংবাদিক সৈয়দ মোহাম্মদ উল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনায় প্রধান অতিধি ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র সফররত কথাসাহিত্যিক আনিসুল হক। অভিজিৎ রায়ের নির্মম হত্যাকাণ্ডে অনুষ্ঠানের সকল আনন্দ-উৎসব বাতিল করে মেলাপ্রাঙ্গণ পরিণত হয় প্রতিবাদ মঞ্চে। আলোচনা, কবিতা, আবৃত্তি দিনের সকল কিছুই ছিল অভিজিৎ রায়কে ঘিরে। 
প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য দেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ড. এ কে আব্দুল মোমেন, সাংবাদিক ও কলামিস্ট হাসান ফেরদৌস, নিনি ওয়াহেদ, ফেরদৌস সাজেদীন, আহমেদ মুসা, সউদ চৌধুরী, নাজমুল আহসান, রতন তালুকদার, দর্পণ কবীর, ফকির ইলিয়াস, আকবর হায়দার কিরণ, জয়ন্ত নাগ, রানু ফেরদৌস ও তানভীর রাব্বানী।
প্রতিবাদ সভায় আনিসুল হক বলেন, সন্ত্রাস ও অন্ধকারকে রুখতে পারে আলো। আলোর জন্য চাই জ্ঞান। তাই আমাদের অনেক বই পড়তে হবে। জাতিসংঘের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত ড. আব্দুল মোমেন বলেন, জঙ্গীবাদ দমন করা খুব জরুরি। নতুবা অভিজিৎদের হারাতে হবে। সৈয়দ মোহাম্মদ উল্লাহ বলেন, হুমায়ূন আজাদ থেকে শুর করে অভিজিৎ রায়কে যেভাবে খুন করা হয়েছে তা একই রকম। একটা সংবদ্ধ দল এই কাজটি করছে। এদের প্রতিরোধ করা দরকার। এছাড়া সভায় অধিকাংশ বক্তাই অভিজিৎ রায়ের হত্যাকাণ্ডের তদন্তের জন্য মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাকে দায়িত্ব দেয়ার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সেমন্তী ওয়াহেদ।
যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহর থেকে আসা প্রায় ২০ জন কবি এদিন প্রতিবাদের কবিতা পড়েন। ছিল সমকালীন ঘটনা প্রবাহ নিয়ে প্রধান অতিথি আনিসুল হকের সঙ্গে হাসান ফেরদৌসের লেখক পাঠক মুখোমুখি। 
অনুষ্ঠানের প্রবেশ পথে ছিল অভিজিৎ রায়ের স্মৃতির উদ্দেশ্যে নিবেদিত  শোক বই। কবি, লেখক, সাংবাদিক, শিল্পী ও বিভিন্ন পেশাজীবী  প্রবাসীরা শোক বইতে স্বাক্ষর করে তাঁদের শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।