ভারতে গণধর্ষণকারীর তথ্যচিত্র সম্প্রচারে নিষেধাজ্ঞা

আপডেট : ০৪ মার্চ ২০১৫, ১৫:৪৭
 
ভারতের নয়াদিল্লিতে মেডিকেলের এক ছাত্রীকে গণধর্ষণ ও হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির বক্তব্য নিয়ে নির্মিত তথ্যচিত্র দেশের গণমাধ্যমে সম্প্রচারে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে আদালত। খবর: এএফপির।
পুলিশের মুখপাত্র রাজন ভগত বলেন, তথ্যচিত্র সম্প্রচারে নিষেধাজ্ঞা দেয়া সংক্রান্ত আদালতের রায় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নয়াদিল্লি পুলিশের হাতে এসে পৌঁছেছে।
রাজন ভগত বার্তা সংস্থা এএফপি’কে বলেন, ‘আমরা কেবল তথ্যচিত্রটির চৌম্বক অংশ দেখেছি। পরে বিষয়টি আদালতের নজরে আনা হয়। কারণ, এতে জনশৃঙ্খলা ভঙ্গের আশংকা রয়েছে।’ তথ্যচিত্রটিতে ধর্ষকের আপত্তিকর কথাবার্তা রয়েছে।
২০১২ সালের ডিসেম্বরে নয়াদিল্লীতে চলন্ত বাসে মেডিকেলছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত অন্যতম আসামি মুকেশ সিং ব্রিটিশ তথ্যচিত্র নির্মাতা লেসলি উডউইনকে দেয়া এক সাক্ষাত্কারে বলেন, ‘ভদ্র মেয়েরা কখনো রাত নয়টার দিকে ঘুরে বেড়ায় না। ধর্ষণের জন্য একটা ছেলে যতটা দায়ী, একজন মেয়ে তার চেয়ে অনেক বেশি দায়ী। মেয়েদের কাজ হলো ঘরের কাজ করা, সংসার সামলানো। রাতে ডিসকো নাচে যাওয়া ও বারে ঘুরে বেড়ানো, আজেবাজে কাজ করা, ভুলভাল পোশাক পরা তাদের কাজ নয়।’
সাক্ষাত্কারে মুকেশ বলেন, ধর্ষণের সময় তার (নির্যাতিতা) বাধা দেয়া উচিত হয়নি। তাহলে ধর্ষণের পর তাকে ফেলে চলে যেতেন, কেবল সঙ্গে থাকা যুবককে মারধর করা হতো।
মুকেশ জানায়, ‘মৃত্যুদণ্ড মেয়েদের জন্য পরিস্থিতি আরো বিপজ্জনক করে তুলবে। আমরা যেমন মেয়েটিকে ধর্ষণের পরই ছেড়ে দিয়েছিলাম, এখন আর কেউ তা করবে না। এখন ধর্ষণের পর মেয়েটিকে হত্যা করা হবে।’
এ সাক্ষাত্কার প্রকাশিত হওয়ার পর ভারতে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। তিহার জেল কর্তৃপক্ষের কাছে দেশটির সরকার কৈফিয়ত চেয়েছে, কেন প্রামাণ্যচিত্র নির্মাতাকে এ সাক্ষাত্কার নেয়ার অনুমতি দেয়া হল।
সাক্ষাত্কারটি সম্প্রচার করতে নিষেধাজ্ঞা আরোপের আদেশের জন্য আজ দিল্লীর মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের দ্বারস্থ হয় পুলিশ। এ প্রেক্ষিতে আদালত তথ্যচিত্রটি সম্প্রচারে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।
২০১২ সালের ১৬ ডিসেম্বর রাতে ‘লাইফ অব পাই’ ছবি দেখে এক ছেলেবন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে বাসে করে ফিরছিলেন ঐ ছাত্রী। এতে ছয়জন লোক ছিল, যার মধ্যে একজন কিশোর। তারা মেয়েটির সঙ্গে থাকা ছেলেবন্ধুকে মারধর করে মেয়েটির ওপর নির্যাতন চালায়। এরপর লোহার রড দিয়ে মেয়েটিকে মারাত্মকভাবে জখম করে। ঘটনার পর তাদেরকে বাস থেকে ফেলে দেয়া হয়। কয়েক দিন চিকিত্সাধীন থাকার পর ঐ ছাত্রী মারা যান।
এ ঘটনায় জড়িত ছয়জনই গ্রেফতারের করে বিচারে কিশোর অপরাধীকে সংশোধন কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। অন্য পাঁচজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে দেশটির আদালত। এ ঘটনার অন্যতম আসামি ও মুকেশ সিংয়ের ভাই রাম সিং তিহার কারাগারে থাকা অবস্থায় মারা গেছে।