টানা ৩৫ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে চলে গেছে ছয় বছরের শিশু মরিয়ম বেগম রূপা। গাজীপুরে পেট্রোল বোমায় দগ্ধ হওয়ার পরপরই তাকে নেয়া হয়েছিল ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে। দীর্ঘদিন তীব্র যন্ত্রণা ভুগে গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় চলে গেল শিশুটি সবাইকে ছেড়ে। ঢাকা মেডিক্যালের বার্ন ইউনিটের আবাসিক সার্জন পার্থ শংকর পাল বলেন, শরীরের প্রায় ৪৫ ভাগ পুড়ে যাওয়ায় শিশুটির অবস্থা ছিল আশংকাজনক। চিকিত্সকরা তাকে বাঁচানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন। প্রথম থেকেই তাকে রাখা হয় আইসিইউতে। গতকাল দুপুর থেকেই তার অবস্থার মারাত্মক অবনতি হয়। এক পর্যায়ে সন্ধ্যায় সে মারা যায়।
এদিকে রূপার মৃত্যুর পর শোকে পাগলপ্রায় তার মা গার্মেন্টস কর্মী নার্গিস বেগম। তিনি জানান, জয়দেবপুরের বোরদা মুসলিমবাগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণীর ছাত্রী ছিল রূপা। দুই বছর আগে তার বাবা আব্দুল মতিন খোকন মারা যায়। মেয়ের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে নার্গিস আর বিয়ে করেননি। কান্নাজড়িত কণ্ঠে নার্গিস বলেন, ‘আমার শেষ সম্বলটুকুও চলে গেল। আমার বুকের ধন আমাকে ছেড়ে চলে গেল। আমি কাকে নিয়ে বাঁচবো?’
৪ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ৯ টার দিকে রূপা তার নানী সানিয়া বানুর সঙ্গে জয়দেবপুর চৌরাস্তা থেকে বাসে চড়ে গাজীপুর যাচ্ছিল। পথে ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের সামনে দুর্বৃত্তরা পেট্রোল বোমা ছুঁড়লে বাসে আগুন ধরে যায়। এতে অন্য যাত্রীদের সঙ্গে রূপাও দগ্ধ হয়।
বার্ন ইউনিট সূত্র জানায়, চলমান রাজনৈতিক সহিংসতার আগুনে দগ্ধ ৪৪ জন এখনও বার্ন ইউনিটে চিকিত্সাধীন রয়েছেন। তাদের মধ্যে আইসিইউতে থাকা তিনজন ও এইচডিইউতে থাকা ছয়জনের অবস্থা আশংকাজনক।
