অভিজিত্ হত্যা

এত ভিড়ে এমন হামলা কল্পনার বাইরে :রাফিদা‘পুলিশ সহযোগিতা করেনি’

আপডেট : ১২ মার্চ ২০১৫, ০০:২১

বাংলাদেশে আততায়ীর হামলায় নিহত লেখক ও ব্লগার অভিজিত্ রায়ের স্ত্রী রাফিদা আহমেদ বন্যা বলেছেন, হত্যার হুমকি নিয়ে বাংলাদেশে এসে নিজেদের নিরাপত্তার বিষয়টি ভেবেছিলেন তারা। কিন্তু বই মেলা থেকে টিএসসির মোড় পর্যন্ত এইটুকু পথে এত মানুষের মধ্যে এ রকম একটি হামলা হতে পারে তা তাদের কল্পনার বাইরে ছিল। গত মঙ্গলবার নিরাপদ অবস্থান থেকে বিবিসিকে দেয়া এক বিশেষ সাক্ষাত্কারে তিনি এ কথা বলেছেন। হামলার ঘটনা নিয়ে প্রথমবারের মতো কোনো সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে কথা বললেন তিনি। সাক্ষাত্কারে অভিজিত্ হত্যার সেই দিনটির স্মৃতিচারণ করছিলেন বন্যা। ২৬শে ফেব্রুয়ারি একুশে বইমেলা থেকে ফেরার পথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় আততায়ীরা অভিজিত্ রায় ও তার স্ত্রীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করার পর একজন আলোকচিত্রী যখন তাদেরকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন বারবারই জ্ঞান হারাচ্ছিলেন বন্যা। হাসপাতালে প্রথম জ্ঞান ফিরে এলে তিনি  দেখেন তার সারা গায়ে রক্ত এবং একটি বুড়ো আঙ্গুল হারিয়েছেন। হাসপাতালে নেয়ার পর অভিজিেক মৃত ঘোষণা করা হয়।  এ ঘটনার প্রধান সন্দেহভাজন বলে কথিত শফিউর রহমান ফারাবী নামে এক ব্যক্তিকে ইতিমধ্যে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। হামলার আগে অভিজিত্ রায়কে বিভিন্ন সময় হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছিল। এসব হুমকিকে তারা কতটুকু গুরুত্বের সাথে দেখতেন এমন প্রশ্নে বন্যা বলেন, হত্যার হুমকি মূলত ছিল ফারাবী নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে। নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঐ ব্যক্তিকে ‘ব্লক’ করার কথাও জানান বন্যা। তিনি বলেন, এ ধরনের হুমকি অনেক বুদ্ধিজীবী ও লেখককেই দেয়া হয়েছে যার দু’একটিই এ পর্যন্ত কার্যকর করা হয়েছে।

হামলার সময় পুলিশ কাছেই ছিল
এদিকে নিউইয়র্ক ভিত্তিক সেন্টার ফর ইনকোয়ারি (সিএফআই) নামক একটি স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানের কাছে রাফিদা আহমেদ বন্যা এক সাক্ষাত্কারে অভিযোগ করেছেন, হামলার সময় তাদের কাছে পুলিশ অবস্থান করছিল। কিন্তু পুলিশের কাছ থেকে তারা কোন সহযোগিতা পাননি।

বন্যা বলেন, এটা কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে নয়, মুক্তচিন্তা ও মানবতার বিরুদ্ধে আক্রমণ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় একটি মুক্তচিন্তা চর্চা ও স্বাধীনভাবে চলাফেরার জায়গা। ফলে তাদের প্রতি হত্যার হুমকি থাকা সত্ত্বেও তারা এই ধরনের জঘন্য অপরাধ সংঘটিত হওয়ার কথা চিন্তাও করেননি। তিনি খুনীদের বিচারের আওতায় আনার জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছেন।