ভারতীয় যুদ্ধবিমানের চালক পাকিস্তানে ধরা পড়লেন যেভাবে

আপডেট : ০১ মার্চ ২০১৯, ০৩:৩৬

ভারতের এয়ারফোর্স পাইলট নাটকীয় ঘটনার মধ্য দিয়ে বুধবার পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে আটক হন। এদিন ভারত আর পাকিস্তানি বিমানের ‘আকাশ যুদ্ধের’ সময় পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে ভারতীয় ওই জেট বিমানটিকে গুলি করে নামানো হয়। বিবিসির সঙ্গে আলাপকালে হোরিয়ান গ্রামের প্রধান মোহাম্মদ রাজ্জাক চৌধুরী সেই আটকের বর্ণনা দেন। তিনি বলেন, আমার প্রধান উদ্দেশ্য ছিল পাইলটকে জীবিত আটক করা। তার প্যারাস্যুটে আমি ভারতীয় পতাকা দেখতে পেয়েছিলাম, তাই আমি বুঝতে পেরেছিলাম তিনি একজন ভারতীয়।

তিনি বলেন, বুধবার সকালে আমি দেখতে পেলাম মিগ-২১ ফাইটার জেটে আঘাত লেগেছে এবং সেটি মাটিতে পড়ছে। অন্যসব গ্রামবাসীর মতো আমিও সেই স্থানের দিকে দ্রুত রওনা হই। আমি ভয় পাচ্ছিলাম গ্রামবাসীরা তার ক্ষতি করে বসে কি না। ঘটনাস্থলে পৌঁছে তিনি শুনতে পান, পাইলট কয়েকজন গ্রামবাসীকে জিজ্ঞাসা করছেন, তিনি ভারতে নেমেছেন কিনা? তখন উপস্থিতদের মধ্যে একটি ছেলে জবাব দেয়, ‘হ্যাঁ’। তিনি তখন প্যারাস্যুট থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে ভারতের নামে শ্লোগান দেন। তখন তার আশেপাশে ছড়িয়ে থাকা মানুষজন পাকিস্তান দীর্ঘজীবী হোক বলে পাল্টা শ্লোগান দেয়। তখন তিনি আসল ঘটনা বুঝতে পেরে নিজের অস্ত্রটি বের করে শূন্যে কয়েক রাউন্ড গুলি করেন। এতে তারা ক্ষুব্ধ হয়ে তার দিকে পাথর ছুড়ে মারতে শুরু করে। তখন তিনি শূন্যে গুলি ছুড়তে ছুড়তে দৌড়াতে শুরু করেন। এক পর্যায়ে তিনি একটি নালায় পড়ে যান। তখন আমার এক ভাগ্নে তার অস্ত্র দিয়ে ওই পাইলটের পায়ে গুলি করে এবং তাকে বলে, তিনি যেন তার পিস্তল ফেলে দেন। তখন তিনি সেটাই করেন। তখন অন্য আরেকজন তাকে ধরে ফেলে এবং চেপে রাখে যাতে তার কাছে আর কোন অস্ত্র থাকলেও সেটা যেন তিনি ব্যবহার করতে না পারেন।

আরও পড়ুন: ঢাকা উত্তরের মেয়র আতিক

পাইলট তখন পকেট থেকে কিছু কাগজ বের করে তার মুখে ঢোকাতে শুরু করেন, যাতে সেগুলো নষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু গ্রামবাসীরা তার কাছ থেকে কিছু কাগজপত্র ছিনিয়ে নিতে সক্ষম হয়, যেগুলো তারা পরবর্তীতে সেনাবাহিনীকে দিয়েছে। আমাদের ছেলেরা ক্ষুব্ধ হয়ে ছিল। তারা তার কাছে গিয়ে ঘুষি আর চড় মারার চেষ্টা করছিল। তবে তাদের মধ্যে কেউ কেউ আবার এসব ছেলেদের ঠেকেয়ে রাখছিল। আমি তাদের বললাম যেন পাইলটের কোন ক্ষতি না করে এবং সেনাবাহিনী না আসা পর্যন্ত তাকে একা থাকতে দেয়।

ইত্তেফাক/আরকেজি