এভাবে যে আক্ষরিক অর্থেই ‘জারুলতলার মেলা’ জমে উঠবে এই টরন্টো শহরে তা সম্ভবত কেউই ভাবেননি। টরন্টোই শুধু নয়, আশপাশের শহর থেকেও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েটরা ছুটে এসেছিলেন পরিবারের সদস্যদের নিয়ে। কি একাগ্রতা তাদের! কি আন্তরিকতা! যেন কতো যুগ পর আবার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনের সামনের সেই জারুল তলার মেলাকে ফিরে পাওয়া ।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই অ্যাসোসিয়েশন অব কানাডার নতুন নেতৃত্বের অভিষেককে ঘিরে ছিলো আয়োজন। সেই আযোজনে এভাবেই ছুটে এসেছেন গ্র্যাজুযেটরা। আমন্ত্রিত পাঁচজন শিল্পী এসেছিলেন অনুষ্ঠানে। তাদের অসাধারণ পরিবেশনায় মন্ত্রমুগ্ধের মতো ধরে রেখেছে দর্শক শ্রোতাদের। আর মনের মতো অডিয়েন্স পেয়ে শিল্পীরাও যেন সবটুকু দরদই ঢেলে দিয়েছিলেন কণ্ঠে। সব মিলিয়ে পুরো সন্ধ্যাটাই যেন হয়ে উঠেছিলো অবিস্মরণীয়।
গত শনিবার ১৬ ডোমা অ্যাভিনিউর কানাডা বাংলাদেশ হিন্দু মন্দির মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই অ্যাসোসিয়েশনের নবনির্বাচিত কমিটির অভিষেক ও পূণর্মিলনী। কানাডা ও বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীতের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানের প্রথমেই মহান মুক্তিযুদ্ধে নিহত বীর সেনাদের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।
অভিষেক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, ইয়র্ক ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. ফাহমিদুল কাদির, জর্জব্রাউন কলেজের শিক্ষক ড. সুজিত দত্ত, বেসরকারি সংস্থা সেটেলমেন্ট অ্যাসিস্ট্যান্স অ্যান্ড ফ্যামিলি সাপোর্ট (এসএএফএসএস) এর নির্বাহী পরিচালক ড. কাজী সদরুল হক, সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া।
এলামনাইর সাবেক কর্মকর্তাদের মধ্যে তিনজন সাবেক সেক্রেটারি জেনারেল যথাক্রমে সব্যসাচী চক্রবর্তী, বিনয় মজুমদার ও কাজী জহির উদ্দিন বক্তৃতা করেন। নতুন কমিটির প্রেসিডেন্ট শওগাত আলী সাগর সবাইকে শুভেচ্ছা জানান। সেক্রেটারি জেনারেল বাহাউদ্দিন বাহার নতুন কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার পর গৃহীতসংগঠনের বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরেন।অনুষ্ঠানে অধ্যাপক সুজিত দত্ত নতুন কর্মকর্তাদের পরিচয় করিয়ে দেন।
অভিষেক উপলক্ষে নতুন কর্মকর্তা ও গ্র্যাজুয়েটদের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে কানাডার প্রধানমন্ত্রী স্টিফেন হারপার ও অন্টারিওর প্রিমিয়ার ক্যাথলিন উইনি বার্তা পাঠিয়েছেন।
এরপর পরিবেশিত হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। আমন্ত্রিত শিল্পী হিসেবে সঙ্গীত পরিবেশন করেন জনপ্রিয় কন্ঠশিল্পী ইলোরা আমিন, সঙ্গীতা মুখার্জী, মুক্তা পাল, স্নিগ্ধা চৌধুরী, সৈয়দ মনসুর। অনুষ্ঠানে নৃত্য পরিবেশন করেছেন, মাতৃকা পাল ও অবন্তী মুখার্জী। পুরো অনুষ্ঠানে কি বোর্ডে ছিলেন সৈয়দ মনসুর, তবলায় সহযোগিতা করেন সজীব চোধুরী ও জন। সুজিত পালের অনবদ্য গ্রন্থনা ও অনুপ সেনগুপ্তের মেধাবী পরিচালনায় অসাধারণ হয়ে ওঠে পুরো অনুষ্ঠানটি। হলভর্তি দর্শক অবর্ণনীয় এক একাগ্রতা নিয়ে শিল্পীদের গান শুনেন রাত প্রায় এগারোটা অবধি। অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিলো নতুন প্রজন্মের আবরার ও অদিতির দক্ষ ও চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনা। নতুন প্রজন্মের এই দুই প্রতিনিধি অত্যন্ত চমৎকারভাবে অভিষেকের মতো একটি গুরুগম্ভীর অনুষ্ঠানেরও সফল সঞ্চালনা করেছে।
অনুষ্ঠানের মঞ্চ সাজিয়েছেন নতুন প্রজন্মের অমি, আদিত্য, অদ্রী, আফতাব, সারা, দিবা, মাইসা, সাদিব, নিলয় ও অদিতি। আর আলোক ও শব্দ নিয়ন্ত্রণে ছিলেন ডেভ।
সন্ধ্যা থেকে রাত এগারোটা অবধি পুরো অনুষ্ঠানটি দর্শক শ্রোতাদের ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করে।
