শতাধিক বাংলাদেশিকে জিম্মি করে টাকা কামিয়েছে নান্নু

আপডেট : ০১ এপ্রিল ২০১৫, ০০:৩১

ইউরোপে পাঠানোর প্রলোভন দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের জিম্মি করে টাকা আদায়কারী চক্রের মূল হোতা নান্নু মিয়াকে ফেরত দিয়েছে ইরান সরকার। বাংলাদেশ পুলিশের অনুরোধে কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পরপরই বাংলাদেশগামী ফ্লাইটে তুলে দেয় ইরান পুলিশ। দেশে ফেরার পরপরই সোমবার রাতে বিমানবন্দর থেকে তাকে গ্রেফতার করে সিআইডি পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার তাকে আদালতের নির্দেশে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে। সিআইডি জানিয়েছে, ইন্টারপোল এবং একটি এনজিওর সহযোগিতায় নান্নু মিয়াকে ফেরত আনা সম্ভব হয়েছে। তার গ্রামের বাড়ি সিলেটের বালাগঞ্জে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ইরানে (বন্দর আক্কাস এলাকায়) দ্বিতীয় স্ত্রীসহ অবস্থান করছিলেন। তার প্রথম স্ত্রী দেশে রয়েছেন। তার দুই ভাই ফারুক ও মারুফ তুরস্কে রয়েছেন। তাদের সহয়তায়ই নান্নু বাংলাদেশি শ্রমিকদের জিম্মি করে টাকা আদায় করে আসছিলেন। গ্রেফতার হওয়ার পর সিআইডির জিজ্ঞাসাবাদে নান্নু তার অপকর্মের কথা স্বীকার করে জানিয়েছেন, এ পর্যন্ত তিনি শতাধিক বাংলাদেশিকে জিম্মি করে বিভিন্ন অংকের টাকা আদায় করেছেন। এ টাকা লেনদেন হতো বাংলাদেশে।

সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (অর্গানাইজড ক্রাইম) মির্জা আব্দুল্লাহ হেল বাকী বলেন, বিদেশে জিম্মি করে টাকা আদায়কারী চক্রের মূল হোতা নান্নুকে শনাক্তে সিআইডি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছিল। তার সম্পর্কে বিস্তারিত জানার পর ইন্টারপোলের সহায়তা চাওয়া হয়।
নান্নু ইরানে গ্রেফতার হওয়ার ব্যাপারে তিনি বলেন, ২০১২ সালের দিকে খুলনার বাসিন্দা মাসুমকে (দুবাইতে কর্মরত ছিলেন) গ্রীসে পাঠানোর নাম করে তাকে ইরানে নেন। সেখানে নেয়ার পর তাকে আটক রেখে তার পরিবারের কাছে ৬ লাখ টাকা দাবি করেন এবং মারধর করে ফোনে ধরিয়ে দেন। এ অবস্থায় মাসুমের স্বজনরা বিকাশের মাধ্যমে ২ লাখ টাকা পাঠান। পরে বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করেন। এরপর বিকাশের টাকা তোলার সময় সিআইডি পুলিশ সিলেট এলাকা থেকে নান্নুর বাংলাদেশি এক সহযোগী ও তার স্ত্রীসহ কয়েকজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে। এরপরই নান্নুর সম্পর্কে জানতে পারে পুলিশ। পরে নান্নুকে গ্রেফতারে সিআইডি ইন্টারপোলের সহায়তা চায়। এই প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় ইরান পুলিশ নান্নু, তার সহযোগী তাজউদ্দিনসহ চারজনকে গ্রেফতার করে। এসময় নান্নুর আস্তানা থেকে উদ্ধার করে মাসুমসহ ২৬ বাংলাদেশি জিম্মিকে। পরবর্তীতে ইরানস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের সহায়তায় দেশে ফিরে আসে মাসুমসহ অন্যরা।
সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার আরো বলেন, ইরান পুলিশ নান্নুকে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার করেছিল। তিনি গ্রেফতার হওয়ার পর সিআইডি পুলিশের একটি টিম দু’দফায় ইরান সফর করে। কিন্তু আইনি জটিলতায় তাকে ফেরত আনা সম্ভব হয়নি। কিন্তু সিআইডি নান্নুর ব্যাপারটি নজরদারি করে আসছিল। কয়েকদিন আগেই জানা যায় নান্নু ইরানের কারাগার থেকে মুক্তি পাচ্ছেন। এ অবস্থায় ইরানের তেহরানস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস ইরান পুলিশের সঙ্গে কথা বলে। ইরান পুলিশ নান্নুকে বাংলাদেশে পাঠানোর জন্য টিকেটের ব্যবস্থা করার কথা বলে। কথা মতো বাংলাদেশ দূতাবাস ঢাকার টিকেটের ব্যবস্থা করে। এরপই ইরান পুলিশ নান্নুকে ঢাকাগামী ফ্লাইটে তুলে দেয়। তবে ফ্লাইটে তোলা এবং অবতরণ করার আগ পর্যন্ত নান্নু মিয়া জানতেন না যে তাকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে পৌঁছার পরই গ্রেফতার করা হবে।

তিনি আরো বলেন, ব্যাপকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা গেলে জানা যাবে মানব পাচার ও অপহরণের সঙ্গে আর কারা জড়িত রয়েছে।