শনিবার পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ। বাংলাদেশ মান সময় দুপুর ২টা ৫৯ মিনিট ৪২ সেকেন্ডে চাঁদ উপচ্ছায়ায় প্রবেশ করে রাত ৯টা ৫৪ সেকেন্ডে উপচ্ছায়া হতে বের হয়ে আসবে। বাংলাদেশ সময় বিকাল ৪টা ১৫ মিনিট ২৪ সেকেন্ডে চাঁদ প্রচ্ছায়ায় প্রবেশ করে সন্ধ্যা ৭টা ৪৫ মিনিট ১২ সেকেন্ডে প্রচ্ছায়া হতে বের হয়ে আসবে। বাংলাদেশ সময় বিকাল ৫টা ৫৪ মিনিটে বাংলাদেশ মান সময় (বিএসটি) তে চাঁদের কেন্দ্রীয় গ্রহণ শুরু হয়ে সন্ধ্যা ৬টা ৬ মিনিট ৩৬ সেকেন্ডে শেষ হবে। বাংলাদেশ মান সময় সন্ধ্যা ৬টা ১৮ সেকেন্ড চাঁদের সর্বোচ্চ গ্রহণ ঘটবে। গ্রহণের সর্বোচ্চ মাত্রা হবে ১.০০৬। ঐদিন বাংলাদেশে গ্রহণযুক্ত অবস্থায় চন্দ্রোদয় ঘটবে এবং এদেশে গ্রহণটি ২ ঘন্টা ৪৭ মিনিট ৩০ সেকেন্ড স্থায়ী হবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
এদিকে বিজ্ঞান সংগঠন অনুসন্ধিত্সু চক্র এক বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, চন্দ্রগ্রহণের সময় যখন সূর্য ও চাঁদের মাঝখানে পৃথিবী একই সরলরেখায় চলে আসে, তখন পৃথিবীর ছায়া চাঁদের উপর পড়ে। ফলে পৃথিবী থেকে মনে হয় চাঁদ ধীরে ধীরে ঢেকে যাচ্ছে। চন্দ্রগ্রহণ প্রায় ঘন্টাকালীন স্থায়ী হয় কারণ চাঁদ ধীরে ধীরে পৃথিবীর ছায়া অতিক্রম করে। গ্রহণ চলাকালীন চাঁদকে অনেকটা তামাটে বা লালচে চাকতির মতো মনে হবে। এর কারণ হল সূর্যের কিছু আলো পৃথিবীর বায়ুমন্ডলের মধ্যে দিয়ে বিকরিত হয়ে চাঁদের ওপর পড়ে। অন্যান্য রং বিচ্ছুরিত হলেও লাল রং তুলনামূলকভাবে পৃথিবীর বায়ুমন্ডল দিয়ে প্রতিসরিত হয়ে চাঁদের ওপর পড়ে, এই কারণে গ্রহণের চাঁদকে লাল দেখায়। বাংলাদেশে আংশিক চন্দ্রগ্রহণ সংঘটিত হলেও প্রশান্ত মহাসাগর তীরবর্তী অঞ্চল, আলাস্কা ও হাওয়াই থেকে পূর্ণচন্দ্রগ্রহণ দেখা যাবে। এবারের চন্দ্রগ্রহণটি ১৩২ সরোজ সিরিজের অন্তর্গত। বাংলাদেশ থেকে পরবর্তী পূর্ণচন্দ্রগ্রহণ দেখা যাবে ২০১৮ সালের ২৭ জুলাই।
অনুসন্ধিত্সু চক্রের জ্যোতির্বিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি মো. শাহজাহান মৃধা জানান, সূর্যগ্রহণ খালি চোঁখে দেখা অত্যন্ত ক্ষতিকর হলেও চন্দ্রগ্রহণ খালি চোখে দেখা ক্ষতিকর নয়। চন্দ্রগ্রহণ দেখতে বাইনোকুলার বা টেলিস্কোপ আবশ্যক নয়, তবে পরিষ্কার তথা ভালোভাবে দেখতে সেগুলোর ব্যবহার করা যেতে পারে। ছবি তোলার জন্য যেকোন জুম লেন্সসহ ক্যামেরাই যথেষ্ট।
এদিকে চন্দ্রগ্রহণ পর্যবেক্ষণের জন্য অনুসন্ধিত্সু চক্র নানা প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। সংগঠনের উদ্যোগে কেন্দ্রীয় ও বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ ক্যাম্পটি অনুষ্ঠিত হবে ঢাকার আফতাবনগর প্রকল্পের উত্তরপ্রান্তে। মেঘমুক্ত আকাশ থাকা সাপেক্ষে ক্যাম্প শুরু সন্ধ্যা ৬টা ১২মিনিট থেকে। গ্রহণ শেষ হওয়া পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ ক্যাম্প সকলের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। এই ক্যাম্প থেকে ছবি ও বৈজ্ঞানিক তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এই জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঘটনা যথাযথভাবে পর্যবেক্ষণের জন্য ক্যাম্পে ৮ ইঞ্চি স্মিড ক্যাসিগ্রেইন টেলিস্কোপ থাকবে। ঢাকার বাইরে অনুসন্ধিত্সু চক্র ও অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটি অব রুয়েট যৌথভাবে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় খেলার মাঠে ৪ ইঞ্চি মাকসুতভ টেলিস্কোপের মাধ্যমে চন্দ্রগ্রহণ পর্যবেক্ষণ ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হবে।
