কক্সবাজারের টেকনাফ সৈকতে প্রায় ছয় ফুট লম্বা এবং সাড়ে তিন মণ ওজনের তিনটি মরা ডলফিন ভেসে উপকূলে ভেসে উঠেছে।
মানুষের বন্ধু হিসাবে পরিচিত এ প্রাণীটি অক্সিজেন গ্রহণের জন্য জলের তলা থেকে উপরে ওঠতে গিয়ে মাঝেমধ্যে জেলেদের জালে আটকা পড়ে মারা যাচ্ছে। আবার অনেকেই মনে করেন জেলেরা ১০০ কিলোমিটারের সাগর উপকূলে নিষিদ্ধ জাল ফেলে রাখায় ডলফিন মারা যাচ্ছে। বুধবার বিকালে উপকূল ঘিরে সৈকতের বালুচরে একই স্থানে দুটিসহ আটটি মৃত ডলফিন পড়ে থাকতে দেখা গেছে। ঠোঁট ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত নিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। প্রতিটির ওজন সাড়ে তিন মণ ও লম্বা ছয় ফুট। স্থানীয় জেলে আবু আহমদ (৩৫) বলেন, জোয়ারে তিন ডলফিন ভেসে আসছে। অনেক সময় পচে দুর্গন্ধ ছড়ালে স্থানীয় লোকজন মৃতদেহ বালুচরে পুঁতে ফেলেন।
তিনি আরও বলেন, জেলেরা ডলফিনের কানগুলো কেটে নিয়ে গেছে। গভীর সাগরে জালে আটকা পড়লে জেলেরা ডলফিন লাঠি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে সাগরে নিক্ষেপ করছে। পরে জোয়ারের পানিতে মৃত ডলফিনগুলো সৈকতে ভেসে আসে। সূত্র জানায়, গভীর সাগরে জেলেদের ফেলে রাখা জাল, বিহিঙ্গি এবং বার্মাইয়া (মিয়ানমারের) নিষিদ্ধ কারেন্টজালে আটকা পড়ে ডলফিন মারা যাচ্ছে।
উপজেলা মত্স্য কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন বলেন, উপকূলের জেলেদের নিষিদ্ধ জাল উচ্ছেদে শিগগিরই অভিযান চালানো হবে।
কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের সহকারি বনসংরক্ষক (এসিএফ) রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, ডলফিনকে মেরে ফেলা বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। কোনো জালে ডলফিন আটকা পড়লে সেটিকে মেরে না ফেলে সমুদ্র ছেড়ে দেয়া উচিত। যারা এসব কাজে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে। কক্সবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সর্দার শরিফুল ইসলাম বলেন, ডলফিন নিধন বন্ধে আইনি পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। তবে নানাবিধ কারণে সমুদ্রের পানি দূষিত হওয়ায় সেখানে ডলফিনসহ সামুদ্রিক নানা প্রাণী মারা যাচ্ছে। এতে জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ছে।
