স্কাল্প সোরিয়াসিসে করণীয়

আপডেট : ১১ এপ্রিল ২০১৫, ০২:২৮

সোরিয়াসিস একটি চর্মরোগ যা হাতের কনুই, হাটু, নখ ইত্যাদি শরীরের এই সব অংশ ছাড়াও মাথার তালুতেও হতে পারে। শুরুতে এটি একটি আঁশযুক্ত লালচে প্যাচ হিসেবে মাথার এক অংশে দেখা দিলেও ধীরে ধীরে এটি সমস্ত মাথার খুলিতে ছড়িয়ে পড়তে পারে। শুধু তাই নয়, ঘাড়, পিঠ ও কানের পিছনের অংশেও আক্রান্ত হতে পারে।

স্কাল্প সোরিয়াসিস হালকা ও আননোটিশেবল হতে পারে, যা সকলেই একে প্রথমে সাধারণ খুশকি হিসেবে মনে করে থাকে। কিন্তু পরবর্তীতে এর ক্ষত, জ্বালাপোড়া, তীব্র চুলকানি ইত্যাদি পুরু স্কেল্প আপনার মাথার ত্বক ও চুলের ক্ষতিই করবেনা, যা আপনার দৈনন্দিন স্বাভাবিক কর্মকান্ডে ক্ষতিকর প্রভাব বিস্তার করবে। আমাদের ত্বকে স্বাভাবিক কোষ তৈরীর যে চক্র থাকে সোরিয়াসিস-এর কারণে এই কোষ তৈরীর পরিমাণ বেড়ে যায় অনেক বেশী। তাই আমাদের চিকিত্সার প্রধান লক্ষ্য হয়ে থাকে দ্রুত বর্ধণশীল কোষ-এর বৃদ্ধি রোধ করা। স্কাল্প সোরিয়াসিস এর বিভিন্ন রকম চিকিত্সা পদ্ধতি আছে। যেমন-
স্টেরয়েড ও স্যালিসাইলিক এসিড
স্কাল্প সোরিয়াসিস এর প্রাথমিক চিকিত্সা হিসেবে ব্যবহার করা হয় শক্তিশালী স্টেরয়েড যা চিকিত্সকগণ চার সপ্তাহ ব্যবহারের নির্দেশনা দিয়ে থাকেন। এই স্টেরয়েডটি যদি স্যালিসাইলিক এসিড যুক্ত হয় তাহলে তো কথাই নেই। স্যালিসাইলিক এসিড হল কেরাটোলাইটিক বা স্কেল সফটনার, যা সোরিয়াসিস এর পুরু আঁশকে নরম করে। এগুলো লোশন, স্প্রে, ক্রিম হিসেবে পাওয়া যায়। তবে ব্যবহারের সময় কিছু নিয়মাবলী মেনে চলতে হবে, যেমন-রাতে শোয়ার আগে তালুতে ব্যবহার করে একটা পাওয়ার ক্যাপ পড়লে কার্যগুণ বেড়ে যাবে বহুগুণ। আর কাপড় বা বালিশে ওষু লাগার সম্ভাবনাও থাকবে না।
টার শ্যাম্পু
টারযুক্ত শ্যাম্পু এক্ষেত্রে অনবদ্য ভূমিকা পালন করে। চিকিত্সকগণ সাধারণত: সপ্তাহে ৪দিন ব্যবহারের নির্দেশনা দিয়ে থাকেন। চিরুনী দিয়ে চুল ভালোভাবে আচরিয়ে স্কেলগুলো হালকা সরিয়ে শ্যাম্পুটি লাগাতে হবে এবং ১০ মিনিট মাথায় রেখে তারপর ধুয়ে ফেলতে হবে।
ভিটামিন ডি অ্যানালগ
মলম, জেল বা লোশন হিসেবে পাওয়া যায় এই ভিটামিন ডি অ্যানালগযা দিনে ২ বার ব্যবহার করা হলে ভালো ফলাফল যাওয়া যায়। তবে এই ওষুধটি আপনার ত্বকের জন্য সুবিধাজনক কিনা তা জানার জন্য ব্যবহারের পূর্বে ছোট্ট একটা প্যাচ টেস্ট করে নেয়া ভালো।
ইমোলিয়েন্ট বা তেল
আপনি দীর্ঘ দিন ধরে স্টেরয়েড, স্যালিসাইলিক এসিড জাতীয়
ওষুধ ব্যবহার করেছেন তাই ম্যাইনটেনেন্স চিকিত্সা পদ্ধতি হিসেবে বেছে নিতে পারেন যে
কোন ইমোলিয়েন্ট বা তেল।
কারণ দীর্ঘস্থায়ী ব্যবহারের পরও এগুলোর কোনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই।
 ইউভি রশ্মি চিকিত্সা বিজ্ঞানে একটি বিষ্ময়কর সংযোজন। সূর্যালোকে ইউভিবি বিদ্যমান থাকলেও কৃত্রিমভাবে এটি প্রয়োগ করা যায় রোগের ধরণ অনুযায়ী। এটি একটি কার্যকর চিকিত্সা পদ্ধতি যা চামড়ার ভিতরে প্রবেশ করে অস্বাভাবিক কোষ বৃদ্ধির গতি হ্রাস করে। সাধারণত ফটোথেরাপি চিকিত্সা চলাকালীন সময়ে সাময়িকভাবে চামড়া লাল হওয়া, জ্বালাপোড়া অনুভূত হতে পারে। সেক্ষেত্রে  ইউভিবি এর পরিমাণ কিছুটা কমানো যেতে পারে। এই আধুনিক চিকিত্সা বিজ্ঞানের যুগে স্কল্প সোরিয়াসিস কোনও হুমকি নয়, এটি একটি থেরাপিউটিক চ্যালেঞ্ছ, তাই এর উপসর্গ দেখা মাত্রই চিকিত্সকের পরামর্শ গ্রহণ করা উচিত।
 
ডার্মাটোলজিস্ট, লেজার এন্ড কসমেটোলজিস্ট
চেম্বার:বাংলাদেশ স্কিন সেন্টার
বাড়ী-১৭/১, (যমুনা ব্যাংকের উপরে)

রোড ৬,  ধানমন্ডি, ঢাকা